এইমাত্র পাওয়া

সকল শিক্ষার্থীর হাতে সিলেবাস এ্যাসাইনমেন্ট পৌঁছানোই চ্যালেঞ্জ

নিউজ ডেস্ক।।

করোনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটির ক্ষতি পোষাতে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের আলোকে ইতোমধ্যেই মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের পাঠদান শুরুর ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের ওপর ভিত্তি করে এ্যাসাইনমেন্টও প্রকাশ করছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি) অধিদফতর। মাদ্রাসা এবং কারিগরি স্তরের জন্যও সংক্ষিপ্ত সিলেবাস করা হয়েছে। শিক্ষার ঘাটতি চিহ্নিত করতে এ্যাসাইনমেন্টের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন ও পরবর্তী শ্রেণীতে উত্তীর্ণ করার নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে। তবে বর্তমান সঙ্কটকালে সারাদেশের মাধ্যমিকের সব শিক্ষার্থীর কাছে এ্যাসাইনমেন্ট পৌঁছে দেয়াটাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সব শিক্ষার্থীর হাতে সময়মতো এ্যাসাইনমেন্ট পৌঁছে দেয়াটা খুব সহজ নয়।

মাউশির ওয়েবসাইটে বিস্তারিত সিলেবাস পাওয়া যাচ্ছে। তবে দেশের মফস্বল এমনকি বিভাগীয় শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাও বলছেন, বাস্তবতার কারণে সব শিক্ষার্থী বা তাদের অভিভাবকদের এখন স্কুলে ডেকে এনে এ্যাসাইনমেন্ট দেয়া প্রায় অসম্ভব। মফস্বলের সব শিক্ষার্থীর অভিভাবকের ফোন নম্বরও শিক্ষকদের কাছে নেই। আবার অনেক নম্বর সচলও নেই। স্কুল বন্ধ থাকায় অসচ্ছল পরিবারের অনেক শিক্ষার্থী নানা কাজে যোগ দিয়েছে, তাদের পাওয়া যাচ্ছে না। অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা করোনার কারণে স্থান পরিবর্তন করেছেন, অনেকেই গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন। ফলে টেলিভিশন ও অনলাইন ক্লাসের মতো এ্যাসাইনমেন্ট থেকেও কিছু শিক্ষার্থীর বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রেও সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হবে মফস্বলের গরিব পরিবারের শিক্ষার্থীরা।

তবে এই মূল্যায়ন পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে কোন প্রভাব ফেলবে না- এ ঘোষণা দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগেই জানিয়ে দিয়েছে, করোনাভাইরাসের কারণে এ বছর মাধ্যমিক স্তরে কোন বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না। পরবর্তী ক্লাসে উন্নীত হবে সব শিক্ষার্থী। তবে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ঘাটতি চিহ্নিত করতে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে দেয়া হবে এ্যাসাইনমেন্ট। প্রতি সপ্তাহে এই এ্যাসাইনমেন্ট দেয়া ও জমা নেয়া হবে। এই মূল্যায়ন পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে কোন প্রভাব ফেলবে না। সংশ্লিষ্ট সবার উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দিপু মনি বলেছেন, এই মূল্যায়নটার মাধ্যমে যেন কোন চাপ সৃষ্টি করা না হয়। এই মূল্যায়ন শুধুমাত্র আমাদের বোঝার জন্য যে শিক্ষার্থীদের কোথায় কোথায় দুর্বলতা আছে, সেগুলো পরের ক্লাসে কাটিয়ে ওঠার ব্যবস্থা করব।

ছুটির ক্ষতি পোষাতে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের আলোকে মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের পাঠদান শুরু হয়েছে। এই পাঠদান শুরুর পর সাপ্তাহিক এ্যাসাইনমেন্টের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণীতে উত্তীর্ণ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। জানা গেছে, ডিসেম্বরের মধ্যে পাঠদান শেষ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই থেকে ৩০ কার্যদিসের জন্য তৈরি করা হয়েছে সিলেবাস। এর মাধ্যমে পাঠের আলোকে বাসায় বসে শিক্ষার্থীরা বিষয়ভিত্তিক ‘এ্যাসাইনমেন্ট’ (কাজ) করে মূল্যায়নের জন্য সেগুলো শিক্ষকের কাছে জমা দেবে।

এদিকে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড বলছে, করোনা পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের শ্রেণীর কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাই তাদের শ্রেণী ও বয়স অনুযায়ী শিখন সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা দেয়ার জন্যই এই সিলেবাস তৈরির মূল উদ্দেশ্য।

এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) বিষয়ভিত্তিক ও শ্রেণী অনুযায়ী পাঠপরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। এতে শিক্ষকের জন্য ৭টি নির্দেশনা আছে। সেগুলো হচ্ছে শিক্ষার্থীকে প্রতি সপ্তাহে ৩টি করে এ্যাসাইনমেন্ট দিতে হবে। নির্ধারিত বিষয়ের প্রস্তাবিত এ্যাসাইনমেন্ট জমা নেয়া, মূল্যায়ন, পরীক্ষকের মন্তব্যসহ শিক্ষার্থীকে দেখানো এবং পরে প্রতিষ্ঠানে সেটি সংরক্ষণ করার কাজ ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করতে হবে। এই কার্যক্রমে প্রতিটি শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে; তারা সাদা কাগজে লিখে জমা দেবে; এ্যাসাইনমেন্টের আওতায় ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন, সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন, সৃজনশীল প্রশ্ন, প্রতিবেদন প্রণয়ন ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত আছে।

অভিভাবক বা তার প্রতিনিধি স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে প্রতি সপ্তাহে একদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এ্যাসাইনমেন্ট সংগ্রহ করবেন এবং জমা দেবেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. এসএম গোলাম ফারুক বলেছেন, সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংম্লিষ্টদের জন্য নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়েছে। সেটির আলোকে তারা সরকারের এই শিক্ষাদান কর্মসূচী বাস্তবায়ন করবেন।

ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণী পর্যন্ত প্রতিটিতে ১৮টি করে এ্যাসাইনমেন্ট দিতে হবে। এর মধ্যে বাংলা, কৃষি/গার্হস্থ্য, ধর্ম ও নৈতিকতা, বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়ে দুটি, ইংরেজী, গণিত, বিজ্ঞান বিষয়ে তিনটি এবং আইসিটিতে একটি এ্যাসাইনমেন্ট করতে হবে। নবম শ্রেণীতে বাংলায় দুটি, ইংরেজী, গণিত, বিজ্ঞান বা বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয়, পদার্থ, ভুগোল, হিসাববিজ্ঞান, রসায়ন, বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা, ব্যবসায় উদ্যোগে দিনটি করে এবং আইসিটিতে একটি এ্যাসাইন করতে হবে শিক্ষার্থীদের।

মাউশি বলছে, করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সংসদ টেলিভিশনে প্রচারিত ‘আমার ঘরে আমার স্কুল’ প্রোগ্রামের মাধ্যমে পাঠদান এবং স্কুল পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনলাইন শ্রেণী পাঠদান ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এ মূল্যায়ন যেন তাদের ওপর কোন মানসিক ও শারীরিক চাপ সৃষ্টি করতে না পারে, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নিজেরাও যেন তাদের পাঠ অগ্রগতি ও দুর্বলতা সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারে।

তবে সারাদেশের মাধ্যমিকের সব শিক্ষার্থীর কাছে এ্যাসাইনমেন্ট পৌঁছে দেয়াটা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিক্ষকরা বলছেন, করোনার প্রাদুর্ভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে প্রায় আট মাস। সব শিক্ষার্থী বা তাদের অভিভাবকদের স্কুলে ডেকে এনে এখন এ্যাসাইনমেন্ট দেয়া প্রায় অসম্ভব। মফস্বলের সব শিক্ষার্থীর অভিভাবকের ফোন নম্বরও শিক্ষকদের কাছে নেই। আবার অনেক নম্বর সচলও নেই। স্কুল বন্ধ থাকায় অসচ্ছল পরিবারের অনেক শিক্ষার্থী নানা কাজে যোগ দিয়েছে, তাদের পাওয়া যাচ্ছে না।

ঢাকার বাইরে দিনাজপুরের একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলছিলেন, সব শিক্ষার্থীর কাছে চলতি সপ্তাহের এ্যাসাইনমেন্ট তারা পৌঁছে দেয়া আসলে অসম্ভব। এক্ষেত্রে সময় প্রয়োজন। মাউশি অধিদফতরের ওয়েবসাইটেও ঠিকমতো ঢুকতে পারছে না মানুষ। ভিকারুননিসার শিক্ষক বলছিলেন, এ্যাসাইনমেন্টগুলো টেলিভিশন বা অনলাইন ক্লাসের মতোই হয়ে গেছে। যাদের অনলাইন ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, তারা অনলাইনে ক্লাসও করেছে, এখন আবার সহজেই এ্যাসাইনমেন্টও করতে পারবে। আর যাদের অনলাইন ক্লাসের সুযোগ ছিল না, তাদের পক্ষে এ্যাসাইনমেন্ট করাটাও কঠিন হয়ে পড়বে।সুত্র জনকন্ঠ


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.