নিজস্ব প্রতিবেদক।।
গণমাধ্যম আইন, গণমাধ্যম নৈতিকতা এবং ডিজিটাল অধিকার ও সুরক্ষা বিষয়ক অনলাইন কোর্সের অংশ হিসেবে লেকচার সিরিজ শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন আর্টিকেল নাইনটিন। এই সিরিজের প্রথম বক্তৃতায় প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার অপরাধ তদন্ত বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) নাজমুল ইসলাম। ডিডব্লিউ একাডেমির সহযোগিতায় আর্টিকেল নাইনটিন এই অনলাইন কোর্সটি চালু করেছে।
ওয়েবিনারে নাজমুল ইসলাম বলেছেন, মহামারীর কারণে আমাদের দৈনন্দিন বেশিরভাগ কার্যক্রম অনলাইনে স্থানান্তরিত হওয়ায় এখন ডিজিটাল বিষয়ে শিক্ষিত হওয়া জরুরী হয়ে পড়েছে। সাইবার অপরাধ বাড়তে থাকায় ডিজিটাল সুরক্ষা ব্যবস্থা বোঝার বিষয়ে সচেতনতাও খুব বেশি প্রয়োজন।
অনলাইন কোর্সের লেকচার সিরিজের অংশ হিসেবে আর্টিকেল নাইনটিন আয়োজিত এই ওয়েবিনারে তিনটি বিষয়ের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্ব, চরমপন্থা ও ডার্ক ওয়েবের বিষয়ে সচেতনতা এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার অপরাধ তদন্ত বিভাগের ভূমিকা ।
এডিসি নাজমুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে ডিজিটাল বাংলাদেশ সর্বোচ্চ পর্যায় পৌঁছেছে। যেমন তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তিতে (আইসিটি) সহজেই প্রবেশগম্যতার সঙ্গে সঙ্গে লোকেরা এখন অনলাইন প্লাটফর্মগুলোতে প্রবেশ করতে পারে। তবে সাইবার নিরাপত্তা এবং নৈতিকতা সম্পর্কে জ্ঞানের অভাবের কারণে অনেকেই সাইবার অপরাধের ঝুঁকির মধ্যে আছেন। যেহেতু অনলাইন ব্যবহারকারীদের বেশিরভাগই তরুণ, তাই ডিজিটাল সাক্ষরতার বিষয়টি মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরী।
নাজমুল ইসলাম জানান, দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০ কোটি। এর মধ্যে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা চার কোটি। বর্তমানে প্রতি ১২ সেকেন্ডে একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী যুক্ত হচ্ছেন, যা দেশের জন্মহারের চেয়ে বেশি। এ কারণে তরুণ-তরুণীদের জন্য সাইবার নিরাপত্তার গুরুত্ব এবং স্কুল পাঠ্যক্রমের মধ্যে ডিজিটাল সাক্ষরতা কর্মসূচী অন্তর্ভুক্ত করার ওপর জোর দেন। ডিজিটাল মিডিয়ার ওপর নির্ভরতা বাড়ার কারণে, বিশেষত কোভিড-১৯ এর সময়ে বাড়িতে থেকে দাফতরিক কাজ এবং অনলাইন ক্লাসের সংস্কৃতি চালু হওয়ায় ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অনলাইনে সুরক্ষা ব্যবস্থা শেখা এবং প্রয়োগ করা দরকার। এই সুরক্ষা ব্যবস্থাগুলো ব্যক্তিগত এবং পারিবারিক স্তরে বাড়তি থেকে শুরু করা উচিত।
এছাড়া চরমপন্থার প্রচার ও এই পথে আকৃষ্ট করার জন্য চরমপন্থী এবং সন্ত্রাসীদের ডিজিটাল মিডিয়া ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাত্রা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। অনলাইনে চরমপন্থীদের হুমকির এই বিষয়টি এবং ডার্ক ওয়েবের বিপদ সম্পর্কেও নাজমুল ইসলাম একথা বলেন। তিনি বাবা-মাকে তাদের সন্তানের অনলাইন ক্রিয়াকলাপ পর্যবেক্ষণ করার জন্য অনুরোধ করেন। এটি কেবল ব্যক্তি বা পরিবারগুলোর জন্যই হুমকি নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষাকে ঝুঁকিতে ফেলে। সাইবার ক্রিয়াকলাপ জাতীয় সীমানা অতিক্রম করায়, তরুণরা অনলাইনে চরমপন্থা এবং অবৈধ কার্যকলাপের প্রবণতায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
এজন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের সাইবার অপরাধ তদন্ত বিভাগের ভূমিকা কেবল ব্যবহারকারীদের অনলাইনেই সুরক্ষিত রাখার ক্ষেত্রে নয়, সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং অনলাইন সুরক্ষা প্রটোকলগুলো বোঝার ক্ষেত্রে তথ্য অনুসন্ধানের জন্য সহায়ক উৎস হিসেবেও এটি গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যের স্বাধীনতা এবং অনলাইনে সুরক্ষা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আর্টিকেল নাইনটিন পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটের সঙ্গে কাজ করছে। এই সহযোগিতামূলক উদ্যোগ আগামীতেও অব্যাহত রাখতে আর্টিকেল নাইনটিন আশাবাদী।
নাজমুল ইসলাম ডিজিটাল বাংলাদেশকে সুরক্ষিত রাখার জন্য নাগরিকদের সঙ্গে এক হয়ে কাজ করা এবং ডিজিটাল সুরক্ষা বোঝার জন্য এই ইউনিটের সঙ্গে যোগাযোগ ও তথ্যানুসন্ধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি অনলাইনে সবাইকে সতর্ক থাকার এবং যে কোন অপরাধকে এই ইউনিটে রিপোর্ট করার জন্য অনুরোধ করেন। তিনি ওয়েবিনারে অংশগ্রহণকারীদের জানান, ৯৯৯/০১৭৬৯৬৯১৫২২/ ০১৭৬৯৬৯১৫০৮ কল করে বা ‘হ্যালো সিটি’ এ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে যে কোন সাইবার ক্রাইম সম্পর্কিত রিপোর্ট করা সহজ।সুত্র জনকন্ঠ
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
