প্রকৌশলী রিপন কুমার দাস
আমাদের দেশে বর্তমানে ভোকেশনাল শিক্ষাক্রমের জন্য টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, সদ্য জাতীয়করণকৃত মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের সংযুক্ত ভোকেশনাল, ইউসেফ পরিচালিত ভোকেশনাল, এমপিওভুক্ত সংযুক্ত ও স্বতন্ত্র ভোকেশনাল এবং নন-এমপিও সংযুক্ত ও স্বতন্ত্র ভোকেশনালসহ আরো কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন সমস্যা রয়েছে, যা অনতি বিলম্বে সমাধানের প্রয়োজন।
যেহেতু সব শিক্ষার্থীই বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড হতে সনদপ্রাপ্ত হবে; তাই সাধারণ শাখার সরকারি বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ন্যায় সরকারি বেসরকারি ভেদাভেদ না করে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, সদ্য জাতীয়করণকৃত মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের সংযুক্ত ভোকেশনাল, ইউসেফ পরিচালিত ভোকেশনাল, এমপিওভুক্ত সংযুক্ত ও স্বতন্ত্র ভোকেশনাল এবং নন-এমপিও সংযুক্ত ও স্বতন্ত্র ভোকেশনালসহ সব ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই হারে শতভাগ ছাত্র উপবৃত্তি ও শতভাগ বাস্তব প্রশিক্ষণ ভাতা চালু করা। টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ন্যায় সরকারি বেসরকারি ভেদাভেদ না করে টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, সদ্য জাতীয়করণকৃত মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের সংযুক্ত ভোকেশনাল, ইউসেপ পরিচালিত ভোকেশনাল, এমপিওভুক্ত সংযুক্ত ও স্বতন্ত্র ভোকেশনাল এবং নন-এমপিও সংযুক্ত ও স্বতন্ত্র ভোকেশনালসহ সব ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের জন্য একই ধরনের বিদেশে উচ্চ শিক্ষার ব্যবস্থা গ্রহণ করা। শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক ক্লাস নিশ্চিত করার জন্য সরকারি বেসরকারি ভেদাভেদ না করে টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, সদ্য জাতীয়করণকৃত মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহের সংযুক্ত ভোকেশনাল, ইউসেফ পরিচালিত ভোকেশনাল, এমপিওভুক্ত সংযুক্ত ও স্বতন্ত্র ভোকেশনাল এবং নন-এমপিও সংযুক্ত ও স্বতন্ত্র ভোকেশনালসহ সব ভোকেশনাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই হারে ব্যবহারিকের ক্লাসের জন্য যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল সরবরাহ করা।
এ ছাড়া এসএসসি ভোকেশনাল শিক্ষার্থীদের নিজ এলাকায় ভোকেশনাল শাখায় উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার জন্য প্রতিটি ইউনিয়নে কমপক্ষে একটি সংযুক্ত বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ও সব স্বতন্ত্র এসএসসি ভোকেশনাল প্র্রতিষ্ঠানে এইচএসসি (ভোকেশনাল) কোর্স চালুকরণ। এইচএসসি (ভোকেশনাল) কোর্সটি ক্লাস্টার পদ্ধতি বাতিলপূর্বক এসএসসি ভোকেশনালসহ মাধ্যমিক বা সমমান পর্যায়ের সব শিক্ষার্থীর জন্য উন্মুক্তকরণ। একইভাবে মাদরাসায় আলিম (ভোকেশনাল) শিক্ষাক্রম চালু করা। এইচএসসি (ভোকেশনাল), এইচএসসি (বিএম), এইচএসসি বা সমমান শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য কারিগরি/ভোকেশনাল ও সাধারণ প্রতিষ্ঠানে তিন বছর মেয়াদি বি.ভোক (ব্যাচেলর অব ভোকেশনাল) এবং মাদরাসাসমূহ তিন বছর মেয়াদি এফ.ভোক (ফাজিল অব ভোকেশনাল) কোর্স চালু করা। ভোকেশনাল শিক্ষাকে আরো জনপ্রিয় করার জন্য শিক্ষার্থীদের শিক্ষাগ্রহণ শেষে আত্মকর্মসংস্থানের জন্য বিনা জামানতে প্রজেক্ট ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে এসএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষার্থীদের জন্য ২ লাখ, এইচএসসি (ভোকেশনাল) শিক্ষার্থীদের জন্য ৪ লাখ, প্রস্তাবিত বি. ভোক ও এফ. ভোক শিক্ষার্থীদের জন্য ৭ লাখ ও প্রস্তাবিত এম. ভোক শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ লাখ টাকা প্রজেক্ট ঋণ প্রদান করা যেতে পারে।
এদিকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে ভোকেশনাল শিক্ষা সমমান প্রদান করার লক্ষ্যে ভোকেশনাল শিক্ষার স্বতন্ত্রতা নষ্ট করা হচ্ছে ও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ভোকেশনাল শাখার দুর্বল শিক্ষার্থীদের সাধারণ শাখার মেধাবী শিক্ষার্থীদের চেয়েও অনেক বেশি লোড দেওয়া হচ্ছে। ফলে অনেক প্রচার-প্রচারণা সত্ত্বেও ভোকেশনাল শাখায় শিক্ষার্থী ভর্তির পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে, তাই ভোকেশনাল শাখার দরিদ্র, কম মেধাবী ও কর্মজীবী শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের কথা মাথায় রেখে ট্রেড বিষয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করে সাধারণ বিষয়সমূহ স্বল্প পরিমাণে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। ভোকেশনাল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য ভোকেশনাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা আজ সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। ভোকেশনাল শিক্ষা ক্ষেত্রে মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ক্রেডিট ট্রান্সফারসহ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং ভোকেশনাল শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি ভোকেশনাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ইন্ডাস্ট্রি লিয়াজোঁ অফিসার পদ সৃষ্টিসহ নিয়োগ প্রদান করা আর ইমার্জিং টেকনোলজির শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের জন্য বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং এনজিও প্রতিষ্ঠানে নতুন পদ সৃষ্টি করা।
এসব কিছুর বাইরেও রয়েছে ভোকেশনাল শিক্ষার্থীদের গুণগত মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশে-বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি ও শিক্ষার্থী বিনিময়সহ (ঝঃঁফবহঃং ঊীপযধহমব) স্কলারশিপ কর্মসূচি চালু করা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি পেশাভিত্তিক দক্ষ জনবল সৃষ্টির লক্ষ্যে অ্যাপ্রেনটিসশিপ (শিক্ষানবিশি) কার্যক্রম চালু করা। পাশাপাশি শিল্প-কারখানায় বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনে ভোকেশনাল শিক্ষার্থীদের কর্মসূচিভিত্তিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা এবং অধিকতর দক্ষতা অর্জন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি শিল্প-প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম পদ্ধতি (উঁধষ ঞৎধরহরহম ঝুংঃবস) চালু করা, ভোকেশনাল শিক্ষাক্ষেত্রে তথ্য-সমৃদ্ধ জাতীয় জব পোর্টাল স্থাপন করা, জিটুজি পদ্ধতিতে বিদেশে আধাদক্ষ ও দক্ষ শ্রমিক বা কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে শুধু ভোকেশনাল শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া এবং ভোকেশনাল শিক্ষার্থীদের বিদেশে আধাদক্ষ ও দক্ষ শ্রমিক বা কর্মী হয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে খরচ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা।
দেশের জাতীয় আয়ের একটি বড় অংশ প্রবাসী আয়ের ওপর। সে কারণে দক্ষ জনশক্তিই পারে এই আয়কে আরো বিকশিত করতে। ভোকেশনাল শিক্ষাব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো গেলে তা হতে পারে দেশের জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টির বিবেচনা এবং সমাধানে এগিয়ে আসার অনুরোধ রইল।
লেখক : ট্রেড ইনস্ট্রাক্টর
ডোনাভান মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পটুয়াখালী
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
