টাইম স্কেল আটকে রাখায় ক্ষুব্ধ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড প্রদান করলেও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত নথি এখনও নিষ্পিত্তি করেনি।

একই নিয়োগবিধির আওতায় চাকরির ১০ বছর পূর্তিতে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাওয়ার কথা থাকলেও সেটি অযৌক্তিক অজুহাতে ধরে রেখেছেন এক শ্রেণির নেতিবাচক মনোভাবাপন্ন কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার যুগান্তরের কাছে এমন মন্তব্য করেন সংক্ষুব্ধ কর্মকর্তারা।

সূত্র জানায়, ১৮ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক (প্রশাসন) স্বাক্ষরিত এক আদেশে ৪ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে ২য় উচ্চতর গ্রেড প্রদান করা হয়। বিষয়টি জানার পর একই সুবিধাবঞ্চিত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২১ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা মঙ্গলবার সকালে অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. আলী কদরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কিন্তু তিনি বিষয়টি সেভাবে আমলে না নেয়ায় উপস্থিত কর্মকর্তারা আরও ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। অতিরিক্ত সচিবের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তারা যুগান্তরকে বলেন, ‘আমাদের এখন মূল বেতন ৩২ হাজার ৯৯০ টাকা। উচ্চতর গ্রেড পেলে বেতন বাড়বে মাত্র ১ হাজার ৪শ’ টাকা এবং এটি আমাদের প্রাপ্য।

অথচ অর্থ বিভাগের নেতিবাচক মতামতের উদ্ধৃতি দিয়ে আমাদের ফাইল আটকে রেখেছে। প্রশ্ন হল, একই নিয়োগ বিধির আওতায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অর্থ বিভাগের ইতিবাচক মতামত পেয়ে থাকলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রে নেতিবাচক মতামত কেন আসবে।’ তারা আক্ষেপ করে বলেন, ‘বাস্তবতা হল, আমরা নন-ক্যাডার বলে কোনো গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে না। কিন্তু এটি যদি তাদের (ক্যাডার) সমস্যা হতো তাহলে কবেই ফাইল অনুমোদন হয়ে যেত।’

কেউ কেউ বলেন, ‘আমাদের সচিব অনেক ভালো এবং একজন ইতিবাচক কর্মকর্তা। কিন্তু নিচের দিক থেকে কিছু কর্মকর্তা তাকে ভুল বুঝিয়ে আমাদের ন্যায্য পাওনাটুকু দিচ্ছেন না।’

নিয়মানুযায়ী একই পদে চাকরির ৪ বছরে ১টি টাইম স্কেল বা উচ্চতর স্কেল এবং চাকরির ১০ বছরে পরবর্তী সিলেকশন গ্রেড বা উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্য হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে জারি করা স্পষ্টিকরণ পত্রে বলা হয়েছে, চাকরি সন্তোষজনকে হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এটি দিতে হবে। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২১ জন কর্মকর্তা ৮ মাস ধরে এ সুবিধা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত। অনেকে লিখিত আবেদন করেছেন। কিন্তু ফল হয়েছে উল্টো।

স্বয়ংক্রিয়ভাবে দেয়ার কথা থাকলেও এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়েছে। কুচক্রী মহলের ইন্ধনে সেখানে একটি মামলার রেফারেন্স দিয়ে তাদের প্রাপ্য উচ্চতর বেতন স্কেল আটকে দেয়া হয়েছে। যদিও ওই মামলার সঙ্গে তাদের টাইম স্কেলের কোনো সম্পর্ক নেই।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.