রফিকুল আলম বকুল, মেহেরপুর প্রতিনিধি ।।
” ইতিহাস ও ঐতিয্যে ভরপুর, আমাদের এই মেহেরপুর ” স্বাধীনতার সুতিকাগার বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়েছিল মেহেরপুর জেলার ভবেরপাড়া আম্রকাননে যা পরবরতিতে মুজিবনগর নামকরন হয়েছিল। প্রতিবছর ১৭-ই এপ্রিল মুজিবনগর দিবস পালন করা হয় । .বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুজিবনগরে দৃশ্যমান উন্নয়নে শুরু হয় । সরকার বিভিন্ন সময় অর্থ বরাদ্দ দিয়ে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্রনালয়ের আওতায় এনে মুজিবনগর কমপ্লেক্স গঠন করে । আওয়ামীলীগ সরকারের এই মেয়াদে সরকার গঠন করলে মেহেরপুর তথা মুজিবনগর পায় মেহেরপুরের ইতিহাসের শ্রেষ্ট পুরষ্কার মেহেরপুর ও মুজিবনগর উপজেলা নিয়ে গঠিত মেহেরপুর ১ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন দোদুল কে জনপ্রশাসন মন্রনালয়ের প্রতিমন্রী নিযুক্ত করা হয় ।
অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন আবার এমন একজন ব্যক্তি যিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর সাবেক এমএলএ, সাবেক এমপি মেহেরপুর আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম ছহিউদ্দীনের সন্তান । মেহেরপুর জেলার মানুষ স্বপ্ন দেখতে থাকে অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন দোদুল জনপ্রশাসন মন্রনালয়ের প্রতিমন্রী নিযুক্ত হওয়ায় মেহেরপুরের ব্যাপক উন্নয়নে হবে । মানুষের প্রত্যাশা ও আবেগের প্রতি সম্মান দেখিয়ে মেহেরপুর জেলায় শুরু হয়ে যায় উন্নয়ন যজ্ঞ । তারই অংশ হিসেবে মুজিবনগর কমপ্লেক্স এর জন্য এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ, মুজিবনগরে সরকারী টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ স্থাপন, মেহেরপুরে নার্সিং ইন্সটিউট, হাসপাতাল আধুনিকরনসহ চলতে থাকে উন্নয়নে কর্মকান্ড । মুজিবনগর কমপ্লেক্স এ অবস্থিত মুজিবনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয় টি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৭৩ সালে । ১.০৮ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়টি ।
১২ জন দক্ষ শিক্ষক নিয়ে অষ্টম শ্রেনী পর্যন্ত লেখাপড়া করানো হয় এ বিদ্যালয়টিতে । বিদ্যালয়ের মনোোরম পরিবেশ যে কোন মানুষ কে আকর্ষন করবে । স্বাধীনতার সুতিকাগার এই কমপ্লেক্স এর মধ্যে বিদ্যালয়টি অবস্থিত হওয়ায় এখানে তৈরী করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযোদ্ধা কর্নার যা অত্যান্ত দৃষ্টিনন্দন ও ব্যতিক্রম । বিদ্যালয়টিতে আছে সুসজ্জিত কাবদল যারা বিভিন্ন জাতীয় দিবসে মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজে অংশগ্রহন করেন । বর্তমানে প্রায় ৪০০ শত ছাত্র-ছাত্রী আছে বিদ্যালয়টিতে । বিদ্যালয়টিতে মোট ১১ টি কক্ষ যার মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ কর্নার, অফিস রুম । বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে কক্ষ সংকট রয়েছে । আছে দুটি ওয়াস ব্লক, আছে সুপেয় পানির ব্যবস্থা আছে, ডাইনিং রুম ও ওজু খানা ।
আছে দর্শনীয় পতাকা স্ট্যান্ড, ফুলবাগান সমগ্র বিদ্যালয়টিতে ফুল গাছের সমাহার । ছাত্রছাত্রীদের প্রযুক্তিজ্ঞানে সমৃদ্ধ করতে আছে মালটিমিডিয়া উপকরণ । জেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশনায় এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসের ব্যবস্থাপনায় মুজিবনগর অনলাইন প্রাইমারী স্কুলের ক্লাসসমুহ এই বিদ্যালয় থেকেই পরিচালিত হয় । এই বিদ্যালয়ের সবচেয়ে আকর্ষনীয় ও ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন গাছের ডালে ডালে পাখির বাসা তৈরী করে পাখির অভয়রান্য তৈরী করা। ও ছাদ বাগান তৈরী করা । এই বাগানে বিভিন্ন প্রজাতির ফল ও ফুল দিয়েে তৈরী করা হয়েছে।মালটা কমলা আছে ৪ থেকে ৫ প্রকারের যা জেলার কোন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা যায় না । বিভিন্ন দেশী এবং বিদেশী প্রজাতির আনকমন ফল রয়েছে ছাদ বাগানে । শিক্ষার্থীদেরকে মেধা বিকাশ ও প্রযুক্তিগত জ্ঞানে সমৃদ্ধ করতে বিশেষ অবদান রেখেছে মুুুুজিবনগর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। ইতোমধ্যে বিদ্যালয়টি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রুপান্তরিত হয়েছে। পরিচিতি পেয়েছে সমগ্র জেলায়।
মেহেরপুর জেলা সদর থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে বিদ্যালয় টি । সুসজ্জিত শ্রেণিকক্ষ, একটি উপকরণ রুম ও একটি ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব। একটি বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্ণার রুম ও একটি স্টোর রুম। এখানে শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য রয়েছে ডিজিটাল হাজিরার ব্যবস্থা। সামনে রয়েছে বিশাল একটি খেলার মাঠ। বাচ্চাদের খেলার জন্য রয়েছে দোলনাসহ বেশ কয়েকটি রাইড শুধু শিক্ষা নয়, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিতে ও অনন্য অবদান রেখছে এ বিদ্যালেয়টি। বাংলাদেশ স্কাউটে বিদ্যালয়ের কাব দল শিশুদের ভাল মানুষ গড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা পালন করছে। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কর্মকান্ড ও শিক্ষা ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখায় বিদ্যালয়টি একাধিকবার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পর্যায়ে প্রথম হওয়ায় গৌরব অর্জন করে ।
কয়েকজন অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়ের পরিবেশ আর শিক্ষার্থীদের প্রতি বেশ নজরদারী রয়েছে শিক্ষকদের। এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়তে হয় না। সন্তানরা পড়াশোনা করছে নাকি অন্য কোথাও রয়েছে তা নিয়ে চিন্তা করতে হয় না। ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা আর সব সময় অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ রয়েছে শিক্ষকদের। এ পরিস্থিতি ধরে রাখতে হবে।
প্রধান শিক্ষক গোলাম ফারুক পলান বলেন, ২০১৭ সালের আগে এই বিদ্যালয় টি উপজেলার সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া একটি বিদ্যালয় । আমি দায়িত্ব নেয়ার পর জেলা শিক্ষা অফিসার এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নির্দেশনায় সকল শিক্ষকদের আন্তরিকতায় আজকের এই অবস্থান । তিনি বলেন, বিদ্যালয়টি শিশুদের শিক্ষা উপযোগী ও আকর্ষনীয় করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের সাথে যোগাযোগ রেখে পড়াশোনার খোঁজ খবর নেয়া হয়। শিক্ষার্থীদের সাথেও মানবিক আচরণ আর অভিভাবক হিসেবে নিজেকে দাড় করাতে পারলে শিক্ষার্থীরা অনায়াসে ভাল লেখাপড়া করবে ও ভাল ফলাফল দিতে পারবে। সকল শিক্ষক সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হাসান আল বেলাল জানান, মেহেরপুর জেলার মধ্যে এ বিদ্যালয়টি শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে এগিয়ে রয়েছে। বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য যা করার প্রয়োজন উপজেলা শিক্ষা অফিসার, প্রধান শিক্ষকসহ সবাইকে নিয়ে ভাল কাজ করার চেষ্টা করা হচ্ছে । বিদ্যালয়টি শিক্ষাঙ্গনের মডেল হিসেবে গড়ে তোলার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে । মুজিবনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ বেলায়েত হোসেন জানান, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একজন পরিশ্রমী মানুষ তিনিসহ সকল শিক্ষকের আন্তরিকতায় বিদ্যালয়টি একটি আদর্শ প্রতিষ্ঠান হতে পারে । তিনি বলেন আমি সৌৌভাগ্যবান যে ঐতিহাসিক এই মুজিবনগরে শিক্ষা অফিসার হিসেবে যোগদান করতে পেরে। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য সকল প্রকার সহযোগিতা করাহয় আমার শিক্ষা অফিস থেকে । বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও শিক্ষার মান যাতে ভাল হয় ও শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসতে ও পড়তে উৎসাহিত হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করছে শিক্ষা বিভাগ ।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাঃ ফজলে রহমান জানান, বিদ্যালয়ের পরিবেশ সুন্দর ও শিক্ষক আছেন মানসম্মত তিনি বলেন এই উপজেলার সকল শিক্ষক অনলাইন ক্লাসের সাথে যুক্ত আছেন যা দেশের জন্য একটি অসাধারণ ভাল কাজ। তিনি বলেন ঐতিহাসিক মুজিবনগরের এই বিদ্যালয়কে দেখে দেশের বিভিন্ন জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রীরা বিশেষ কিছু শিখতে পারে সেদিকে নজর দিয়ে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার ও সমস্ত স্কুল আঙ্গিনা ফুল গাছ দিয়ে সাজানো হচ্ছে , ছাদবাগান, পাখির অভয়রান্য, আরো কিছু বিষয় সংযোজিত হলে ভাল হবে।তিনি বলেন প্রত্যেক বিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট ডিজাইনের শহীদ মিনার, স্মৃতিসৌধ বা এগুলো নিয়ে একটি কর্নার তৈরী করা যেত তাহলে নুতন প্রজন্মের কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুুর রহমান, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, স্বাধীনতা দিবস, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও মহান বিজয় দিবস সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পারতো ।
স্কুলের কক্ষ সংকটের ব্যাপারে তিনি জানান খুব শ্রীঘই একটি বিল্ডিং হবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে । তিনি জানান, মেহেরপুর ১ আসনের এমপি ও জনপ্রশাসন প্রতিমন্রীর সার্বিক সহযোগিতায় মুজিবনগরের এই স্কুল সহ মেহেরপুরের শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে । আগামীতে আমরা আরও উন্নয়ন করে শিক্ষাক্ষেত্রে মেহেরপুর কে এগিয়ে নিতে চাই । এলাকাবাসীর প্রত্যাশা স্বাধীনতার সুতিকাগারখ্যাত এই মুজিবনগর কমপ্লেক্স এর মধ্যে মুজিবনগর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় যেন দেশের প্রাথমিক শিক্ষার মডেল হতে পারে সেদিকে সবার দৃষ্টি ও কাজ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তারা ।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
