- ইলেকটোরাল ভোটে জয়ের সম্ভাবনা ৯১ শতাংশ, পপুলার ভোটে ৯৯ শতাংশ
- বাইডেন ৩৪৭ ও ট্রাম্প ১৯১ ইলেকটোরাল ভোট পেতে পারেন
- আজ প্রকাশিত জরিপে বাইডেন ১০ দশমিক ৪ শতাংশ ব্যবধানে এগিয়ে

যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ের সম্ভাবনা ক্রমেই বাড়ছে ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেনের। ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে জো বাইডেনের ইলেকটোরাল কলেজ জয়ের সম্ভাবনা ৯১ শতাংশ। ১৩ অক্টোবর এই পূর্বাভাস প্রকাশ করে ইকোনমিস্ট।
দ্য ইকোনমিস্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনে ইলেকটোরাল কলেজ জয়ের সম্ভাবনার দিক দিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে বহু দূর এগিয়ে রয়েছেন জো বাইডেন। সাবেক এই ভাইস প্রেসিডেন্টের ইলেকটোরাল কলেজ জয়ের সম্ভাবনা ৯১ শতাংশ। বিপরীতে ট্রাম্পের সম্ভাবনা রয়েছে ৯ শতাংশ। একই সঙ্গে মোট ভোটে বাইডেনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা ৯৯ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ইলেকটোরাল কলেজ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট হতে একজন প্রার্থীর মোট ৫৩৮টি ইলেকটোরাল কলেজের মধ্যে ২৭০টির ভোট প্রয়োজন। ইকোনমিস্ট বলছে, এবারের নির্বাচনের প্রবণতা বলছে, বাইডেন ৩৪৭টি ইলেকটোরাল ভোট পেতে পারেন। আর ট্রাম্পের কাছে যেতে পারে ১৯১টি ইলেকটোরাল ভোট। আসন্ন নির্বাচনের ফল কী হতে পারে, সে সম্পর্কে ২০ হাজার সম্ভাব্য যুক্তিসংগত অনুমানের ওপর ভিত্তি করে এই পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
ইকোনমিস্টের পূর্বাভাসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অসুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হলেও তাঁর সম্ভাবনা একেবারে নিঃশেষ হয়ে গেছে—এমন কিছু বলা হয়নি। পূর্ণাঙ্গ পূর্বাভাসে সাময়িকীটি বলছে, আসন্ন নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ১১৬ থেকে ৩১২টি ইলেকটোরাল ভোট পেতে পারেন। আর বাইডেন পেতে পারেন ২২৬ থেকে ৪২২টি ইলেকটোরাল ভোট। এই পূর্বাভাস তৈরিতে বিবেচনায় নেওয়া অনুমানগুলোর মাত্র ১ শতাংশের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, নির্বাচনে কেউই ২৭০টি ইলেকটোরাল ভোট পাবেন না।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের প্রতিবেদনে বলা হয়, এসব পূর্বাভাসকে অবশ্য তেমন একটা গুরুত্ব দিতে রাজি নন ট্রাম্প-সমর্থকেরা। তাঁদের ভাষ্য, গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে সব ধরনের পূর্বাভাস ও জরিপে হিলারি ক্লিনটনই এগিয়ে ছিলেন। কিছু কিছু পূর্বাভাসে এমনকি এও বলা হয়েছিল যে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের কোনো সম্ভাবনাই নেই।
গেল নির্বাচনে হিলারির জয়ের সম্ভাবনা ৯৯ শতাংশ বলেছিল প্রিন্সটন ইলেকশন কনসোর্টিয়াম। আর মার্কিন সংবাদমাধ্যম হাফিংটন পোস্টের পূর্বাভাসে, ২০১৬ সালের নির্বাচনে হিলারির জয়ের সম্ভাব্যতা ধরা হয়েছিল ৯৮ শতাংশ। সে সময় জনমত জরিপ বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ফাইভথারটিএইট বলেছিল, প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের সম্ভাবনা ২৮ দশমিক ৪ শতাংশ। এবার তাদের বিশ্লেষণেও ট্রাম্পের এই সম্ভাবনা কমেছে। এবারের নির্বাচনের পূর্বাভাসে তারা বলছে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ১৩ শতাংশ।
ইকোনমিস্টের পূর্বাভাসে নির্বাচনের ফল নির্ধারণী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে পেনসিলভানিয়াকে। ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত জনমত জরিপের ফল অনুযায়ী, এই অঙ্গরাজ্যে বাইডেন ট্রাম্প থেকে ৭ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন।
অবশ্য গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিলারি ট্রাম্প থেকে জনমত জরিপে যতটা এগিয়ে ছিলেন, তার চেয়ে ঢের বেশি এগিয়ে রয়েছেন বাইডেন। ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত সর্বশেষ জনমত জরিপের বরাত দিয়ে নিউজউইক জানায়, জাতীয় পর্যায়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প থেকে বাইডেন এখন জনপ্রিয়তার দিক থেকে ১০ দশমিক ৪ শতাংশ এগিয়ে রয়েছেন। গত নির্বাচনে এই একই সময়ে হিলারি ট্রাম্প থেকে এগিয়ে ছিলেন ৬ দশমিক ৩ শতাংশ ব্যবধানে। নির্বাচনের দিন এই ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশে। মোট ভোটের হিসাবে ট্রাম্প থেকে ২ দশমিক ১ শতাংশ ভোট বেশি পেলেও ইলেকটোরাল কলেজে হেরে যান হিলারি।
হিলারি সঙ্গে তুলনা করলে এবার বাইডেন অনেক বেশি এগিয়ে রয়েছেন নিঃসন্দেহে। ইকোনমিস্টের পূর্বাভাসে নির্বাচনের ফল নির্ধারণী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে পেনসিলভানিয়াকে। ১৩ অক্টোবর প্রকাশিত জনমত জরিপের ফল অনুযায়ী, এই অঙ্গরাজ্যে বাইডেন ট্রাম্প থেকে ৭ দশমিক ২ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন। অঙ্গরাজ্যটিতে সর্বশেষ জুলাই মাসে হওয়া জনমত জরিপে ট্রাম্প সুবিধাজনক অবস্থানে ছিলেন। গত নির্বাচনেও এখানে হিলারি এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু পার্থক্যটি হচ্ছে, সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর পর্যন্ত হওয়া বেশ কয়েকটি জনমত জরিপে এগিয়ে ছিলেন ট্রাম্প। আর সেখানে হিলারি মাত্র ১ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন।
জনমত জরিপগুলোকে বিবেচনায় নিলে বাইডেন সুস্পষ্ট ব্যবধানে ট্রাম্প থেকে এগিয়ে রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এর আগে আর কেউ নির্বাচনী লড়াইয়ে এতটা বড় ব্যবধানে ক্ষমতাসীন কোনো প্রেসিডেন্ট থেকে এগিয়ে ছিলেন না। তারপরও গেল নির্বাচনের অভিজ্ঞতা বলে, জনমত জরিপের ফল উল্টে যেতে পারে। তবে এই যে শঙ্কা—এটা সম্ভবত এবার বাইডেনের সবচেয়ে বড় শক্তি। কারণ, গেলবার এই শঙ্কা না থাকায় ডেমোক্র্যাট হিসেবে পরিচিত অঙ্গরাজ্যগুলোয় শেষ মুহূর্তে গা-ছাড়া ভাব দেখা গিয়েছিল হিলারির প্রচার শিবিরে। বাইডেন শিবির এবার এখানেই বেশি সতর্ক।
শেয়ার করুন এই পোস্ট
- Share on Facebook (Opens in new window) Facebook
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on WhatsApp (Opens in new window) WhatsApp
- Share on Telegram (Opens in new window) Telegram
- Share on X (Opens in new window) X
- Share on Pinterest (Opens in new window) Pinterest
- Print (Opens in new window) Print
- Email a link to a friend (Opens in new window) Email
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
