নিউজ ডেস্ক।।
করোনার কারণে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পরিবর্তে জেএসসি ও এসএসসির ফলের ভিত্তিতে চূড়ান্ত মূল্যায়নের ঘোষণার পর এখন কিভাবে কোন কৌশলে ফল চূড়ান্ত হবে সেটিই প্রশ্ন। তবে সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চলতি সপ্তাহেই বসছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত পরামর্শক কমিটির বৈঠক। বৈঠকের দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত না হলেও কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, গ্রেডিং কিভাবে নির্ধারণ করা হবে তা ঠিক করতে চলতি সপ্তাহেই বৈঠকে বসবেন তারা।
এদিকে জেএসসি ও এসএসসির ফলাফলের গড়ের ভিত্তিতে এইচএসসির ফল নির্ধারণের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে কিছু জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। তাই এসব জটিলতার কথা মাথায় রেখেই ফল চূড়ান্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা। তারা জটিলতার কারণ তুলে ধরে বলেছেন, দেশে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার ফলের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয় যে কোন শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা দেয়ার যোগ্যতা আছে কি না। অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার ফলও নির্ভর করে এই দুই পাবলিক পরীক্ষার ফলের ওপর।
এছাড়া ইঞ্জিনিয়ারিং বা মেডিক্যালে পড়তে চাইলে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিতের মতো কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয়ে ন্যূনতম গ্রেড প্রয়োজন হয়। তাই পরীক্ষা না নিয়ে জেএসসি ও এসএসসির ফলের ওপর ভিত্তি করে এইচএসসির ফলাফল দেয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিতে জটিলতা তৈরির আশঙ্কা থেকেই যায়। এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষাবিদরা।
শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি জানিয়েছেন, জেএসসি ও এসএসসির ফলের ভিত্তিতে কীভাবে এইচএসসির ফল ঠিক করা হবে, তা নির্ধারণ করবে এ বিষয় সংক্রান্ত একটি পরামর্শক কমিটি। পরামর্শক কমিটির একজন সদস্য ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু, জিয়াউল হক বলছিলেন, ঠিক কোন নীতি অনুসরণ করে ফলাফল নির্ধারিত হবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া না হলেও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের কাজ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কীভাবে জেএসসি পরীক্ষা ও এসএসসি পরীক্ষার বিষয়গুলো যুক্ত করে এইচএসসির বিষয়গুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যায়, তা নিয়ে পরামর্শক কমিটির পাশাপাশি আমাদের নিজস্ব টেকনিক্যাল কমিটিও কাজ করছে। এসএসসি থেকে এইচএসসিতে যেসব শিক্ষার্থী বিভাগ পরিবর্তন করেছে, তাদের বিষয়টিও পর্যালোচনা করছে কমিটি। শুধু বিজ্ঞান থেকে মানবিক বা ব্যবসা শিক্ষায় নয়, কারিগরি শিক্ষা বা মাদ্রাসা থেকে সাধারণ শিক্ষায় যোগ দেয় শিক্ষার্থীরা। আবার প্রাইভেট, মানোন্নয়ন শিক্ষার্থীও আছে। এই প্রতিটি ক্ষেত্রই আমরা শনাক্ত করেছি এবং একটার সঙ্গে আরেকটাকে সম্পৃক্ত করতে যা করা দরকার তা নিয়ে কাজ করছি। তবে এইচএসসি পরীক্ষা না নেয়া হলেও বিদেশে পড়ালেখা করতে যাওয়ার ক্ষেত্রে এই শিক্ষার্থীরা সমস্যার মধ্যে পড়বে না।
চেয়ারম্যান আরও বলেন, আমাদের দেশ থেকে বিদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সময় তারা শুধু দেখে যে শিক্ষার্থী টুয়েলভ গ্রেড পর্যন্ত লেখাপড়া করেছে কিনা। এরপর শিক্ষার্থীর মেধা যাচাইয়ে প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব পদ্ধতিই অবলম্বন করে। সারা পৃথিবীতে অনেক জায়গাতেই করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে পাবলিক পরীক্ষা বা এক্সিট এক্সামগুলো নেয়া সম্ভব হয়নি। কাজেই আমাদের শিক্ষার্থীদের ভিন্নভাবে যাচাই করা হবে বলে আমার মনে হয় না।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কিভাবে কোন কৌশলে ফল চূড়ান্ত হবে তা নিয়ে চলতি সপ্তাহেই বসবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত পরামর্শক কমিটির বৈঠক। বৈঠকের বিষয়ে কমিটির প্রধান শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নাজমুল হক খান জনকণ্ঠকে বলেছেন, আমরা আশা করি চলতি সপ্তাহেই বৈঠকে বসতে পাবব। এখনও দিনক্ষণ ঠিক হয়নি। বসলেই একটা পথ বের হবে। এ বিষয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। সরকার অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে কাজ করছে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের আগের দুটি পাবলিক পরীক্ষার নম্বর মূল্যায়ন পদ্ধতি ও গ্রেড নির্ণয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শ দিতে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটির পরামর্শের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। যেহেতু এইচএসসি পরীক্ষা হচ্ছে না সেহেতু একজন শিক্ষার্থীকে মূল্যায়নের ফাইনাল ধাপ হবে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি। এক্ষেত্রেও পরামর্শক কমিটির সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেয়া হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে এ কমিটিতে ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্বপালন করবেন। এছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদফতরের প্রতিনিধি এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানও থাকবেন। তাদের পরামর্শে বিভাগ পরিবর্তনকারীদের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। বিভাগ পরিবর্তনজনিত (যারা বিজ্ঞান থেকে মানবিক বা অন্য বিভাগ পরিবর্তন করেছে) কারণে যে সমস্যাটি হতে পারে তা ঠিক করতেও বিশেষজ্ঞ কমিটি কাজ করবে। এই বিশেষজ্ঞ কমিটি নবেম্বর মাসেই তাদের পরামর্শ বা মতামত দেবে। এরপর ডিসেম্বরে এই মূল্যায়নের ফল প্রকাশ করা হবে।
এদিকে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী মনে করেন, বিদ্যমান করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা না নেয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের সঠিক সিদ্ধান্ত।
তিনি আরও বলেছেন, কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করছেন যে, তাদের ভর্তি পরীক্ষার কী হবে। ভর্তিতে সমস্যা হবে কিনা। চাকরিতে প্রবেশে সমস্যা হবে কিনা। বিদেশে পড়তে গেলে সমস্যা হবে কিনা। আমি মনে করি, উদ্বেগ প্রশমনের ব্যবস্থাও সরকারের কাছে আছে। পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে ভিসিদের নিয়ে গঠিত কমিটিতে। এটা ইতিবাচক। তারাই এখানে ভর্তি সংক্রান্ত সমাধান রাখতে পারবেন।
বিদেশে পড়তে যান খুব কমসংখ্যক। তাদেরও চিন্তার কিছু নেই। কেননা সারাবিশ্বেই একই অবস্থা। ইতোমধ্যে গত জুনে ‘এ’ লেভেল (উচ্চ মাধ্যমিক) পরীক্ষার ফল একই প্রক্রিয়ায় হয়েছে। তাই এ বিষয়টি বিশ্বের কাছে একমাত্র দৃষ্টান্ত নয়। অন্যান্য দেশও তাই করেছে। তাছাড়া বিদেশে কেউ পড়তে যেতে চাইলে তাকে আইইএলটিএস, স্যাট, জিআরই, টোফেল ইত্যাদি পরীক্ষা দিতে হবে। সুতরাং মূল্যায়ন ছাড়া কেউ থাকবে না।সুত্র জনকন্ঠ
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
