রাশেদা কে চৌধুরী।।
উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষা বাতিল করার সরকারি সিদ্ধান্তকে আমি খুবই ইতিবাচকভাবে দেখছি। বর্তমান পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় এ পরীক্ষা গ্রহণের কোনো সুযোগ নেই। করোনা পরিস্থিতি এখনও আমাদের চরম অনিশ্চয়তার মাঝে রেখেছে। অনিশ্চিত এ পরিস্থিতিতে এ ধরনের বড় পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণ সামগ্রিক ব্যবস্থাকে আরও বড় অনিশ্চয়তায় ফেলে দিত।
আমি মনে করি, নতুন এ সিদ্ধান্তের ফলে লাখ লাখ পরীক্ষার্থী, শিক্ষক ও তাদের অভিভাবকদের উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার নিরসন হলো। এতদিন এ পরীক্ষা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ছিল। পরীক্ষা হবে কি হবে না, হলে কবে কখন হবে, কীভাবে করোনার মধ্যে পরীক্ষা হবে- এসব নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল। এখন তার সমাধান হলো। এই শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন কীভাবে করা হবে, সেই প্রশ্নেরও জবাব মিলল। এই শিক্ষার্থীরা আগের দুটি পাবলিক পরীক্ষায় অবতীর্ণ হয়েছিল। সেই দুটি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে ছাত্রছাত্রীদের মূল্যায়ন করা হবে।
একটি বিষয় হলো, এই পরীক্ষা গ্রহণের জন্য সরকারের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি ছিল। প্রশ্নপত্রও ছাপানো ছিল। তবে লাখো পরীক্ষার্থীর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে শেষতক সরকার এ পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সিদ্ধান্তটি যথাযথ। তবে মূল্যায়নের বিষয়টি আরও নানাভাবেই দেখা যেতে পারত। যেমন- এই পরীক্ষার্থীরা একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে নিজ প্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকটি পরীক্ষায় বিগত দিনে অংশ নিয়েছে। টেস্ট পরীক্ষাও দিয়েছিল। সেসব পরীক্ষার ফল তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। সেই ফলের ভিত্তিতে তাদের মূল্যায়ন করা যেতে পারত। সরকার এ বিষয়টি ভেবে দেখতে পারে।
পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলব, আগামীতে উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে হবে। তোমরা তার প্রস্তুতি নিতে শুরু করো। ভর্তি পরীক্ষাও তো পরীক্ষাই, তাহলে এই পরীক্ষা বাতিল হলে তাতে মন খারাপ করার কিছু নেই। পরীক্ষাই জীবনের সবকিছু নয়। পরীক্ষা ছাড়াও মূল্যায়নের নানা ব্যবস্থা আছে। শিক্ষার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অনেক অনেক সময় পাওয়া যাবে। জীবন গেলে তো পাওয়া যাবে না।
সরকার পরীক্ষা নিলে পরীক্ষাকালে কেউ করোনা আক্রান্ত হলে তার কী হতো! একটা দুর্ঘটনা ঘটলে সরকারের সমালোচনা হতো। ৩০ লাখ মানুষকে একত্রিত করে এ পরীক্ষার আয়োজন করতে হতো। নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে বেশি সমস্যা ছিল। বিশেষত গ্রামের মেয়েদের পরীক্ষার জন্য শহরে গিয়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে উঠতে হয়। করোনাকালে আত্মীয়স্বজন কাউকে জায়গা দিতে নাও চাইতে পারে। এরপর ছিল পরীক্ষা-সংশ্নিষ্ট লাখো মানুষের গণপরিবহন ব্যবহারের ঝুঁকি।
কয়েকটি দেশে দেখেছি, স্কুল খুলে দিলেও উপস্থিতি কমে গেছে বা পরে তা বন্ধ করে দিতে হয়েছে। আমরা আমাদের সংক্রমণের হার এখনও ৫ শতাংশের নিচে নামাতে পারিনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুসারে ৫ শতাংশের নিচে সংক্রমণের হার না এলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া যাবে না। আমরা যে পর্যায়ে এখনও যেতে পারিনি।
রাশেদা কে চৌধুরী :শিক্ষাবিদ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
