নোয়াখালীসহ সারাদেশে নারী-শিশু নির্যাতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

গতকাল নোয়াখালীতে এক গৃহবধূকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে দুর্বত্তদের পাশবিক নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়ে ও জড়িতদের শাস্তির দাবিতে আজ ৫ অক্টোবর ২০২০ জাতীয় প্রেসক্লাবে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট ও বাংলাদেশ নারীমুক্তি কেন্দ্রের উদ্যোগে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্তের সভাপতিত্বে ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফন্টের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাসদ(মার্কসবাদী) ঢাকা নগর শাখার ইনচার্জ নাঈমা খালেদ মনিকা, লেখক ও গল্পকার মাহমুদুল হক আরিফ, অভিভাবক আলমগীর কবির, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি জয়দীপ ভট্টাচার্য, চারণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সংগঠক সুস্মিতা রায় সুপ্তি প্রমুখ।

সমাবেশ নেতৃবৃন্দ বলেন, “নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে রাতের বেলা ঘরে ঢুকে এক গৃহবধূকে অপবাদ দিয়ে তার উপর পাশবিক নির্যাতন চালিয়েছে একদল যুবক। গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জয়কৃষ্ণপুর গ্রামের বড় খালপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তারা নির্যাতন করবার সময়ের ভিডিওচিত্র ধারণ করে যা আজ ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়ায় ঘটনাটি সবার সামনে প্রকাশিত হয়।

অভিযুক্তরা সরকারি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ দলের সাথে যুক্ত। বর্বর ঘটনাটির ভিডিওচিত্র দেখে আজ হয়তো অনেকেই ঘুমোতে পারবেন না। কিন্তু প্রশ্ন ওঠে কেন এমন হচ্ছে প্রতিনিয়ত? কেন একের পর এক গণধর্ষণের শিকার হচ্ছে মেয়েরা? কেন একপাল জানোয়ারে পরিণত হচ্ছে আমাদের ছেলেরা? কোন সংস্কৃতি ওদের ধর্ষক হিসেবে তৈরি করছে?

প্রশ্নগুলো সহজ না হলেও উত্তরটা পরিষ্কার। ক্ষমতাসীন ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার তার বিভিন্ন স্তরের সংগঠিত শক্তিপ্রয়োগ করে দেশকে আজ এই বর্বরতার সীমানায় এনে দাঁড় করিয়েছে। মানুষকে অমানুষে পরিণত করেছে। কোনো ঘটনার বিচার না করে তৈরি করেছে বিচারহীনতার সংস্কৃতি, যার ছায়ায় পার পেয়ে যাচ্ছে তাদের সাথে যুক্ত সমস্ত অপরাধী। এই দেশে এখন কোনো অন্যায়ের বিচার তো হয়ই না, বরং রাষ্ট্র নিজেই তাদের সহয়তা করে। ক্ষমতায় টিকে থাকবার জন্য এমন হীন কাজ নেই যা তারা আজ করছে না। দেশে ন্যূনতম মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই। মাদক, পর্নোগ্রাফি ও যাবতীয় নোংরামিকে চারিদিক থেকে ইন্ধন দেওয়া হচ্ছে। নারী-পুরুষের সমমর্যাদাভিত্তিক চিন্তাধারা সমাজ থেকে বিলুপ্ত করা হচ্ছে।

ঘরে ঘরে আমাদের মেয়েরা, আমাদের মায়েরা আজ অসহায়, অনিরাপদ। একটার পর একটা ঘটনা আমাদের যেন পায়ের নিচের মাটি সরিয়ে দিচ্ছে। কিন্তু এই ভোগসর্বস্ব পুঁজিবাদী সমাজে এটাই অনিবার্য। যতদিন না এই ‘অমানুষ’ তৈরির সমাজ আমরা ভাঙতে পারব-এই বর্বরতার শেষ হবে না।

তাই আজ প্রয়োজন গণমানুষের সংঘবদ্ধ আন্দোলন। এই পিশাচসম সমাজব্যবস্থাকে ভেঙে গুড়িয়ে দিন। এই ক্রান্তিকালে মানুষের কাছে আমরা সেই লড়াইয়ের আহ্বান জানাচ্ছি।”


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.