৭৫ শতাংশ শিক্ষক স্থায়ী হবেন বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজে

নিজস্ব প্রতিনিধি ।।

দেশের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলোতে ৭৫ শতাংশ স্থায়ী শিক্ষক রাখার বাধ্যবাধকতা রেখে বেসরকারি মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কলেজ আইন, ২০২০-এর খসড়া নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। এ ছাড়া এ আইনে ২৫ শতাংশের বেশি খ-কালীন (পার্টটাইম) শিক্ষক রাখা যাবে না বলে বলা হয়েছে। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভা শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। খসড়া আইন অনুযায়ী, মেট্রোপলিটন এলাকায় মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজ স্থাপনে দুই একর এবং অন্যান্য এলাকায় চার একর জমি থাকতে হবে। দেশে বর্তমানে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের সংখ্যা ৭০টি, ডেন্টাল কলেজ ২৬টি। সরকারি মেডিক্যাল কলেজ ৩৬টি এবং একটি ডেন্টাল কলেজ রয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এতদিন বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজগুলো চলত দুটি নীতিমালার মাধ্যমে। একটি ছিল ‘বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন ও পরিচালন

নীতিমালা ২০১১’ ও ‘বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ স্থাপন ও পরিচালন নীতিমালা ২০০৯’। এখন দেখা যাচ্ছে নীতিমালা দিয়ে সবকিছু সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য একটা আইন প্রয়োজন, এরই পরিপ্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যশিক্ষা বিভাগ থেকে এ খসড়া আইন নিয়ে আসা হয়েছে।

তিনি জানান, বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের একাডেমিক অনুমোদন, একাডেমিক অনুমোদন নবায়ন, শিক্ষা কার্যক্রম, কত ছাত্র থাকবে, সে জন্য কী ফ্যাসিলিটিজ থাকতে হবে, ছাত্র-শিক্ষকের অনুপাত কী হবে, শিক্ষকদের কী যোগ্যতা থাকবে, কলেজগুলো কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকবে, আর্থিক ব্যবস্থাপনা কেমন হবে- এ বিষয়গুলো খসড়া আইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রত্যেক বিভাগের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের অনুপাত হবে ১:১০, অর্থাৎ প্রত্যেক ১০ জন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষকের ব্যবস্থা থাকতে হবে। মিনিমাম ছাত্র হতে হবে ৫০ জন। ৫০ জনের কম হলে করা (মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজ) যাবে না। ২৫ ভাগের বেশি খ-কালীন শিক্ষক রাখা যাবে না, ৭৫ শতাংশ স্থায়ী শিক্ষক থাকতে হবে।’

বর্তমান নীতিমালায় অনেক কিছু স্পষ্ট না থাকায় অনেক বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ পার্টটাইম শিক্ষক দিয়ে চালানো হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটি বিষয়ে কমপক্ষে পাঁচজন শিক্ষক থাকতে হবে, সেখানে ৫০ জন শিক্ষার্থী থাকবে।’

পরিচালনার বিস্তারিত নির্দেশনার জন্য খসড়া আইনে বিধিমালা প্রণয়নের ক্ষমতা দেওয়া আছে বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

তিনি বলেন, ‘যদি কেউ আইন ভঙ্গ করেন তবে শাস্তির কথা বলা হয়েছে খসড়া আইনে। এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদ- বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দ- দেওয়া যেতে পারে। শর্তপূরণ না করলে অনুমোদন বাতিল হবে বলেও আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।’

রিজার্ভ ফান্ড হিসেবে মেডিক্যাল কলেজগুলোতে তিন কোটি ও ডেন্টাল কলেজগুলোকে দুই কোটি টাকা রাখতে হবে বলে আইনের খসড়ায় উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানান আনোয়ারুল ইসলাম।

বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনে খসড়া আইনে অনেক শর্ত দেওয়া আছে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘মেডিক্যাল চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটা ব্যবস্থা রাখতে হবে। চিকিৎসা বর্জ্যগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, নরমাল যে ডাম্পিং গ্রাউন্ড সেখানে ফেললে হবে না। সেখান থেকে ভাইরাস বা রোগ-জীবাণুর ব্যাপক প্রসার হতে পারে। এ জন্য মেডিক্যাল কলেজগুলোকে মেডিক্যাল বর্জ্য ডিসপোজালের ব্যবস্থা রাখতে হবে। তারা যে জমি নেবে তা অবশ্যই নিষ্কণ্টক থাকতে হবে। মেট্রোপলিটন এলাকায় দুই একর ও অন্যান্য স্থানে চার একর জমি থাকতে হবে। জমি না থাকলে মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজ অনুমোদন পাবে না। ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ডেন্টাল কলেজের জন্য অবশ্যই দুই কোটি টাকা রিজার্ভ ফান্ড থাকতে হবে। ডেন্টাল কলেজের নামে সংরক্ষিত তহবিলে কমপক্ষে এক কোটি টাকা তফসিলি ব্যাংকে থাকতে হবে।’

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, ‘মেডিক্যাল কলেজের ১০ শতাংশ শয্যা গরিব রোগীদের জন্য বিনা পয়সায় চিকিৎসার জন্য সংরক্ষিত রাখতে হবে। মেডিক্যাল কলেজগুলোতে কমপক্ষে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল ও ডেন্টালে ৫০ শয্যার হাসপাতাল থাকতে হবে।’


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.