মো. হুসাইন আলম :
ছোটবেলায় আমার মা বলতো পাশের গ্রামের লোকেদের সাথে ভালো সম্পর্ক থাকলে মাঝে মাঝে দাওয়াত খাওয়া যায় ও তাদের কে দাওয়াত দিয়ে ভালো কিছু কাজ করা যায় । আমি এ কথার গুরুত্ব ২৫ বছর পর ভালোভাবে বুঝতে পেরেছি যে এই সম্পর্ক শুধু আত্মার সম্পর্কে বৃদ্ধি করে না,অর্থনীতির সম্পর্কে ও অনেক হারে বৃদ্ধি করে।অর্থনৈতিক শব্দের সাথে কূটনৈতিক শব্দের দারুন একটা মিল আছে, এই দুই শব্দের মিলন কে বন্ধুর সম্পর্কে বলা যেতে পারে।যারা একে অপরের পাশে থাকে ছাতার মত সহায়ক উপকারী বস্তু হিসেবে। যে দেশের কূটনৈতিক অবস্থা যত ভালো সে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ততো উন্নত । কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে এক দেশের সাথে অন্য দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার সৃষ্টি হয়ে থাকে। বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থা অনেক ভালো আমাদের দেশের তৈরি পোশাক সুনামের সাথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্রয় করা হয়।আমি লন্ডন সহ ইউরোপের সবগুলো দেশেই সুপার মার্কেটে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বিক্রি করতে দেখেছি।আমাদের দেশের ঔষধ ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিক্রি করা হয়ে থাকে।বহির্বিশ্বের সাথে সুসম্পর্কের কারণে আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা অন্যান্য দেশে লেখাপড়া সহ বিভিন্ন পেশায় চাকরি করে থাকে।
আর প্রবাসীদের উপার্জিত অর্থ দিয়ে আমাদের দেশের অর্থনৈতিক দিকের অবস্থা অনেকটাই সচল করে রেখেছে।আবার অন্যদিকে আমাদের দেশে থেকে বিদেশে টাকা পাচারের পরিমাণের সংখ্যাও কম নয়। বর্তমান সময়ে দেশের প্রায় সব জেলা হতে ইউরোপে লেখাপড়া ও চাকরি করার জন্য উপচে পড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে।অনেকে অনেক টাকা খরচ করে আসতে দ্বিধাবোধ করছে না আবার অনেকেই প্রতারণার শিকার হচ্ছে, সর্বস্বান্ত হচ্ছে অনেকে কারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের সংখ্যা এখানে অনেক বেশি।আমাদের দেশে ইউরোপের অনেকগুলো দেশের দূতাবাস নাই। যেগুলো দেশের দূতাবাস নেই তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল লিথুনিয়া,লাটভিয়া,চেক রিপাবলিক,রহমানিয়া, পর্তুগাল,পোল্যান্ড শোভাকিয়া,হাঙ্গেরি,মালটা সহ আরো অনেকগুলো দেশ।যার ফলে লেখাপড়া ও চাকুরী প্রত্যাশী প্রার্থীদের কে এগুলো দেশে আসতে হলে ভিসার জন্য ভারতে যেতে হয় এবং ভারতে সর্বনিম্ন ২০ থেকে ৩০ দিন থাকতে হয়,এটা নির্ভর করে থাকে ভিসা আবেদনের ক্যাটাগরির উপর। ভিসার সময় সীমার তেমন কোনো নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া নেই।
আমি এখানে একটু বলে রাখি পর্তুগালে স্টুডেন্ট ভিসার জন্য এক থেকে দুই মাস ও আরো বেশি সময় নিয়ে থাকে।পোলান্ডে ১৫ থেকে ৩০ দিন সময় নিয়ে থাকে।চেক রিপাবলিক ১ থেকে ২ মাস বা আরো বেশি সময় নিয়ে থাকে। হাঙ্গেরি এক থেকে দুই মাস লিথুনিয়া ১৫ থেকে ৩০ দিন রহমানিয়া এক থেকে দুই মাসের মত সময় নিয়ে থাকে লেখাপড়া করার জন্য আবেদনকারী গুলোর ক্ষেত্রে। তবে চাকরির ভিসার জন্য এই সমস্ত দেশগুলোতে আরো বেশি সময় নিয়ে থাকে।আমি এখানে একটু বলব কত টাকা প্রত্যেক প্রার্থীকে শুধুমাত্র ভারতে আসা যাওয়া থাকা খাওয়া ও চলাফেরার জন্য খরচ করে থাকে। প্রত্যেক ভিসা প্রত্যাশী প্রার্থী কে ভিসার জন্য ভারত যেতে ভারতের ভিসা নিতে হয় আর ভারতের ভিসা বাবদ সর্বনিম্ন ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকা খরচ করে থাকে কারণ অনেক লোক ভিসা আবেদনের ফরম পূরণ করতে পারে না ফলে তাদেরকে এজেন্সির মাধ্যমে আবেদন করতে হয়।বাংলাদেশ থেকে ভারতে যেতে বিমানে ৮000 থেকে ১0000 টাকা খরচ হয় আর কেউ যদি বাসে যায় তাহলে দুই থেকে তিন হাজার চার হাজার টাকা ও বেশি এবং কম হতে পারে।আমি এখানে সর্বনিম্ন রেট বলছি।
হোটেলে থাকতে ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা প্রতিদিন খরচ করতে হয় আর খাওয়া-দাওয়া বাবদ ৫০০ থেকে ৮০০ টাকা প্রতিদিন খরচ করতে হয়।আর ভারতে অনেক গুলো দেখার মত জায়গা আছে আমার মনে হয় না এমন মানুষ আছে যে ভারতে গেছে অথচ তাজমহল,রাষ্ট্রপতি ভবন,ইন্ডিয়া গেট,মাথাত্হা গান্ধীর সমাধি, হুমায়নের সমাধি দেখে নাই ।আর কেনাকাটা চলাফেরা বাবদ প্রায় ৪ থেকে ১০০০০ হাজার টাকার মতো খরচ করে থাকে।
এখন আমি একজন প্রার্থী ভারতে একদিনে সর্বনিম্ন কত টাকা খরচ করে তার একটু বর্ণনা তুলে ধরব।হোটেল ভাড়া ১০০০টাকা
খাওয়া বাবদ ৫০০ টাকা
চলাফেরা বাবদ ৩০০ টাকা
মোট ১৮০০ টাকা সর্বনিম্ন এক দিনে খরচ হয।এখানে যদি কোন প্রার্থী একমাস এর বেশি থাকে এবং তার কোন সময় থাকে তাহলে তারা অনেক ক্ষেত্রে অনেক বেশি খরচ হয়ে থাকে তাহলে 30 দিন যদি থাকে ১৮০০* ৩০ = ৫৪০০০ টাকা সর্বনিম্ন তার খরচ হবে একমাসে।এখানে যোগ হবে ইন্ডিয়ান ভিসা বাবত ৩০০০টাকা গাড়ি ভাড়া ৩০০০টাকা থেকে ২০০০ টাকা। সর্বনিম্ন ৫৪০০০+ ৬০০০+ ৬০০০০ টাকা।
যদি কেউ দুই মাস থাকে তাহলে ১ লক্ষ২০ হাজার টাকা খরচ হবে।আমি এখানে ফিরে আসার টাকার কোন হিসাব ধরি নাই।যদি বাংলাদেশ হতে প্রতি বছর ২০থেকে ২৫ হাজার লোক আবেদন করে থাকে তাহলে টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৬০ হাজার গুন ২৫০০০ মোট অর্থ হল ১৫০০০০০০০০ টাকা যদি একমাস থাকে । আর পোল্যান্ড এর ভিসা আবেদনের জন্য ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা দিতে হয় কারণ এই ওয়েবসাইট সম্পূর্ণ ওই দেশের লোকেদের নিয়ন্ত্রণে। সহজ ভাবে ভিসা আবেদনের তারিখ পাওয়া সম্ভব নয়। আর চাকুরী প্রত্যাশীদের অবস্থা যে কত করুন আমি তা নিজের চোখে দেখেছি,এদেরকে যে কতদিন ভারতে থাকতে হয় তার কোনো হিসাব নাই। আমাদের দেশে হতে কতো টাকা চলে যাচ্ছে শুধুমাত্র দূতাবাস না থাকার কারণে । এই দূতাবাসগুলো যদি আমাদের দেশে থাকে তাহলে এই টাকাগুলো আমাদের দেশেই থাকবেন এবং এই দূতাবাসগুলোতে আমাদের দেশের লোক চাকরি করতে পারবে যা দেশের অর্থনৈতিক দিক দিয়ে কিছুটা হলেও উপকার হবে।
আর আমাদের দেশের শিক্ষার্থী ও চাকুরী প্রত্যাশীদের ভিসার পরিমাণ কিছুটা হলেও বেশি হবে কারণ ভারতে বাংলাদেশিদের তেমন করে ভালো মূল্যায়ন করা হয় না।কারণ এই দূতাবাসগুলোতে ভারতের লোক গুলোর বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে থাকে।আমি কিছুদিন আগে পর্তুগাল,লিথুনিয়া এবং পোল্যান্ডের বিভিন্ন ইউনিভার্সিটির ভাইস চ্যান্সেলর এর সাথে মিটিং করেছিলাম।তারা নতুন করে কাউন্সিলর এর অফিস চালু করতে চাই এশিয়ার দেশগুলোতে।যদি আমরা এই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারি তাহলে তাহলে এই দূতাবাসগুলোতে চাকরি এবং অন্যান্য কাজ করে আমরা অর্থ উপার্জন করতে পারবো ।
যেটা অর্থনৈতিক দিক দিয়ে যেমন লাভবান তেমনি মনের দিক দিয়েও নিজের পরিবারের সাথে থাকার আনন্দটা ও আমারা গ্রহণ করতে পারবো। আমরা যদি চেষ্টা করি তাহলে হয়তোবা এই দেশগুলোর দূতাবাস আমাদের দেশে নেয়া সম্ভব হবে ।আর যার মধ্য দিয়ে ভিসা সংক্রান্ত সমস্যা ও হয়রানিমূলক সমস্যা থেকে আমরা রক্ষা পেতে পারি। আর অর্থনৈতিক দিক দিয়ে অনেকটা স্বাবলম্বী হতে পারব।
লেখক- মো. হোসাইন আলম
পিএইচডি ক্যান্ডিডেট অ্যান্ড টিচিং অ্যাসিস্ট্যান্ট
ইনস্টিটিউট অফ পলিটিকাল সায়েন্স
ইউনিভার্সিটি অফ Wroclaw, পোল্যান্ড
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
