নিউজ ডেস্ক।।
বাংলাদেশের মেয়েদের ফুটবল আজকে এই জায়গায় আসার পেছনে বিশেষ অবদান মাহফুজা আক্তার কিরণের। বয়সভিত্তিক সাফের শিরোপা জেতা বাংলাদেশ দলকে নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন তার। মেয়েদের ফুটবলকে দেখতে চান বিশ্বকাপে। আবারও নির্বাচিত হয়ে এলে কী করবেন, তা সমকালের সঙ্গে একান্ত আলাপে বলেছেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাখাওয়াত হোসেন জয়
= ফুটবলে কতটা সফল
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের অনেক সীমাবদ্ধতা আছে। তার ভেতর থেকে আমি মনে করি প্রেসিডেন্ট কাজী সালাউদ্দিন আমাদের সব সময় সাপোর্ট করেন। তার সাপোর্ট আছে বলেই আজকে মেয়েদের ফুটবলটা এই জায়গায় নিয়ে আসতে পেরেছি।
=বয়সভিত্তিক সাফল্য বেশি, জাতীয় দলে নয়
জাতীয় দলে সাফল্য আসতে সময় লাগবে। কারণ সিনিয়র কাউকে নিয়ে আপনি যদি টিম তৈরি করেন, তাহলে সেটা তো কোনো টিম হবে না। আপনার খেলোয়াড়দের জুনিয়র অর্থাৎ বয়সভিত্তিক থেকে শুরু করে, তারপরে সিনিয়র দলে জায়গা করে নিতে হবে। সেটার জন্য তো সময় লাগবে। আর তিন-চার বছর পরে এরাই হবে শক্তিশালী জাতীয় দল।
= সাফ এবং এসএ গেমস নিয়ে
আপনি দেখবেন ভারতের যে জাতীয় দলটা খেলে, তাদের একেকটা খেলোয়াড়ের বয়স ২৫-এর ওপরে। এই লেভেলের মেয়েদের ফিজিক্যাল পার্থক্য থাকে। আমাদের মেয়েরা তো অনেক ছোট। আমাদের বয়সভিত্তিক মেয়েরা কিন্তু সিনিয়র লেভেলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে খেলে। যখন বডি কন্টাক্টে যায়, তখন কিন্তু আমাদের মেয়েরা পিছিয়ে থাকে। তাই এই জায়গাতে যেতে হলে বয়সে বড় হতে হবে। তখন কিন্তু সাফের সেরা হতে লড়াই করবে মেয়েরা।
=নির্বাচিত হলে মেয়েদের ফুটবল নিয়ে পরিকল্পনা
বয়সভিত্তিক নারী দলগুলোর সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জাতীয় দলকে একটি শক্তিশালী দল হিসেবে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করব আমরা। সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ ও এসএ গেমসে যেন আমরা শিরোপা জিততে পারি তা নিয়ে কাজ করব। আমরা হাইপ্রোফাইল কোচিং স্টাফ নিয়োগ প্রদানসহ উন্নত মানের প্রশিক্ষণের সুবিধা নিশ্চিত করব।
= নারী ফুটবল নিয়ে স্বপ্ন
মেয়েদের ফুটবল আমি একটা জায়গায় দেখতে চাই, সেটা হলো বিশ্বকাপ। প্রথমে বয়সভিত্তিক লেভেল, তারপরে মূল বিশ্বকাপ। অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৮ বিশ্বকাপে প্রথমে মেয়েরা অংশগ্রহণ করবে, তারপরে সিনিয়র বিশ্বকাপ। কত সালে বিশ্বকাপে খেলব, সেটা বলা যাবে না। তবে আমরা যেভাবে ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এগোচ্ছি তাতে করে বয়সভিত্তিক পর্যায়ের বিশ্বকাপ খেলতে পারব। আমরা এরই মধ্যে বয়সভিত্তিক বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে খেলেছি। একবার খেলেছে বলে, তাদের অভিজ্ঞতা হয়েছে। হয়তো আরও দুই-তিনবার খেলবে। তারপরে সেই লেভেলে যেতে পারবে।
= চার বছরের মধ্যে বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা
দেখুন, গোটা পৃথিবী এখন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে আমরা খেলতে পারব কিনা, এর তো কোনো নিশ্চয়তা নেই। আগামী চার বছরের মধ্যে বিশ্বকাপ খেলব, এ রকম আশাও করতে পারব না। এবার মনে হয় না হবে। তার পরও আমরা চেষ্টা করব।
= নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে
আমি একটা জিনিস সব সময় বিশ্বাস করি, সেটা হলো কাজ। আমি কোনোদিন কোনো জিনিস এমনিতে পাইনি, আর পেতেও আমি আগ্রহী নই। আমি যে কোনো জিনিস প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে, যোগ্যতা দিয়ে অর্জন করতে পছন্দ করি। এবং আমি এই পর্যায়ে কিন্তু লাফ দিয়ে আসিনি। বাফুফেতেও কিন্তু আমি নির্বাচনে জিতে এসেছি। আমি মেয়েদের ফুটবল নিয়ে যে কাজ করলাম, আমার বিশ্বাস আমাদের কাউন্সিলররা সেটা বুঝবে। আর মেয়েদের ফুটবলটাকে আরও উন্নতির জন্য তারা আমাকে নির্বাচিত করবেন।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
