এডওয়ার্ড কলেজ শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

সহপাঠীর বাবার খুনীদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে এডওয়ার্ড কলেজ শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে আব্দুল হামিদ সড়কে মানববন্ধন করেছেন।মানববন্ধনে পাবনায় সাথিয়া উপজেলা আমোষ গ্রামে কৃষক এনামুল শেখ হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেন।

এডওয়ার্ড কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা সম্মান শ্রেণীর ছাত্র হুমায়ন কবির নিহত এনামুল শেখের ছেলে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের কারণে প্রভাবশালীদের অস্ত্রাঘাতে গত ১১ আগষ্ট কৃষক এনামুল মারা যান।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নিহত এনামুল শেখের ছেলে ও এডওয়ার্ড কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা সম্মান শ্রেণীর ছাত্র হুমায়ন কবির শেখ, নিহতের ভাই আলমগীর হোসেন শেখ, আকরাম শেখ, সুজন পারভেজ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, হত্যার ঘটনার পর থানায় মামলা দায়ের হরা হয়। কিন্তু এত দিনেও এখনো খুনিরা গ্রেপ্তার হয়নি। হত্যাকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় তারা মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছেন। নিহত কৃষকের পরিবারের লোকজন আতঙ্কে রয়েছেন।

বক্তারা বলেন, একজন সাধারণ কৃষক খুন হয়েছেন বলে হয়ত মামলাটি গুরুত্ব পাচ্ছে না। কিন্তু বাস্তবতার নিরিখে কৃষক হত্যার মামলাটিই বেশি গুরুত্ব পাওয়ার দাবিদার।

তারা বলেন, কৃষক মাথার ঘাম পায়ে ফেলে টাকা আয় করে সন্তানদের কলেজ- বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠান। এ বিষয়টি সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা অনুধাবন করে এ মানববন্ধনে সহযোগিতা করায় নিহতের পরিবারের লোকজন শিক্ষার্থীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তারা জেলা প্রশাসনের কাছে এ মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

উল্লেখ্য, এ বছর কুরবানীর ঈদের দিন জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার আমোষ গ্রামে প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন কৃষক এনামুল শেখ। তিনি রাজশাহী মেডিকলে কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ আগস্ট মারা যান। এই ঘটনায় পাবনা সাথিয়া থানায় নিহত এনামুল শেখের ছোট ভাই কামরুল শেখ বাদী হয়ে নাইম শেখকে প্রধান করে ৪০ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ কোন আসামি গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

এ ব্যাপারে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসিম আহমেদ মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জানান, এনামুল শেখ হত্যা মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার পুলিশের চেষ্টার ত্রুটি নেই। আসামিরা আত্নগোপনে চলে যাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরো জানান, মামামলাটি এরই মধ্যে সিআইডতে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং সেক্ষেত্রেও সাঁথিয়া থানা পুলিশ সহযোগিতাই করেছে। তিনি জানান, এখন মামলাটির দায়িত্ব সিআইডির উপর ন্যস্ত রয়েছে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.