এইমাত্র পাওয়া

সদ্য সরকারিকৃত কলেজেগুলোতে দ্রুত এডহক নিয়োগ চাই

দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে সুদুরপ্রসারি যতগুলো পরিকল্পনা গ্রহণ করেন সবগুলোর মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত কার্যকরী পদক্ষেপ। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে ইতোপূর্বে বাংলাদেশ “মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল(MDGs) বা সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা” এর ৮টি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে সবকটি অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। তাছাড়া বর্তমানে জাতিসংঘ ঘোষিত “সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল(SDGs) বা টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা” যা ২০১৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জন করার কথা এর ১৭ টি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ প্রায় অর্ধেক অর্জন করে নিয়েছে। SDGs এর ৪ নম্বর লক্ষ্যমাত্রা হলো ‘মানসম্পন্ন শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিতকরণ’।

যেকোনো একটি দেশকে উন্নত পর্যায়ে নিয়ে যেতে গেলে মানসম্পন্ন শিক্ষাব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে উপলব্ধি করেছেন বলেই গ্রামীণ পর্যায়ে শিক্ষার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং সাধারণ মানুষদের মধ্যে স্বল্প খরচে শহরের মতো উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণে উপজেলাভিত্তিক স্কুল ও কলেজ সরকারিকরণের দিকে মনোনিবেশ করেন।

কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৫ বছরেও এ কাজ শেষ করতে পারেনি। শিক্ষার্থীরা তো কোনো সু্যোগ-সুবিধা পাচ্ছেই না উপরন্তু তাঁরা এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে আরো বিভ্রান্তিতে পড়ছে। শিক্ষকদের অবস্থা আরো করুণ! সরকারিকরণের পর অনেক কলেজের অধ্যক্ষ নন এমপিও শিক্ষক কর্মচারিদের বেতন-ভাতা বন্ধ করে দিয়েছেন। করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে বেশিরভাগ কলেজের অবস্থা আরো বেশি চরমে। নুন আনতে যাদের পান্তা ফুরায় তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাসের এই সামান্য উপার্জনের রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়া শুধু বেদনাদায়কই থাকেনা বরং হয় মর্মান্তিক। আবার এডহক নিয়োগ সম্পন্ন না হওয়ার কারণে আমাদের অনেক শিক্ষক খালি হাতে বিদায় নিচ্ছেন।

মাউশিতে কাগজপত্র দেখার কাজ শেষ করে বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এই কাজ চলছে। সেখানে তিনভাগের একভাগ কাজ শেষ হয়নি এখনো। গুটিকয়েক কলেজের ফাইল শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে গেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজ শেষ করার পরে আরো অনেক ধাপ অতিক্রম করতে হবে কলেজগুলোকে। নিয়ম অনুযায়ী সেখান থেকে ফাইলগুলো যাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পদ সৃষ্টির পর অর্থ বিভাগের ব্যবস্থাপনা, বাস্তবায়ন অনুবিভাগ এবং প্রশাসনিক উন্নয়ন সংস্থার সচিব কমিটির অনুমোদনের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষক কর্মচারিদের যোগ্যতা থাকা সাপেক্ষে নিয়োগ প্রদান করবে। মেডিকেল টেস্ট ও পুলিশ ভেরিফিকেশন তো রয়েছেই। এ ধাপগুলো অতিক্রম করতে কত সময় লাগবে তা কে জানে!

দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়োগ দেওয়ার জন্য সরকারের নির্দেশনা থাকলেও কাজে সেভাবে অগ্রগতি নেই। দীর্ঘদিন করোনার কারণে কাজ বন্ধ থাকার পর নতুনভাবে যে গতিতে চলছে তা অব্যাহত থাকলে শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয়েই লেগে যেতে পারে কয়েক বছর! এ অবস্থা চলতে থাকলে সরকার যে উদ্দেশ্য নিয়ে কলেজ সরকারিকরণের কাজে হাত দিয়েছিলেন সে উদ্দেশ্য ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। জনগণের মনে এর বিরূপ প্রভাবও পড়তে পারে। তাই এই বৃহৎ উন্নয়নমূলক কাজে যাতে কোনো ব্যাঘাত সৃষ্টি না হয় সরকারের উচিত এখনই এর লাগাম টানার। সরকারের সুনামের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এ মহতী উদ্যোগকে বাস্তবায়নের জন্য এ কাজে আমলাতান্ত্রিক কোন জটিলতা রয়েছে কিনা অথবা এ কাজে নিয়োজিত কোনো কর্মকর্তাদের কাজে গাফিলতি আছে কিনা তা খুঁজে বের করে সমাধানের রাস্তা বের করতে হবে সরকারকে। ঈর্ষাপরায়ণ হয়ে সরকারের এ উন্নয়নমূলক কাজকে কেউ ব্যর্থ করতে চায় কিনা তাও খুঁজে বের করা দরকার। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে সরকারিকরণের এ কাজটিকে বেগবান করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা অতীব জরুরী। বর্তমান সরকারের এই ডিজিটাল যুগে নিয়োগ প্রক্রিয়ার জটিল বিষয়গুলো বাদ দিয়ে আরো সহজ পন্থা অবলম্বন করে ২০২০ সালের মধ্যেই জিও জারির তারিখে কর্মরত আমাদের সকল শিক্ষকের এডহক নিয়োগ সম্পন্নের জোর দাবি জানাই।

মো. শরীফ উদ্দিন
সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত)
সরকারি কলেজ স্বাধীনতা শিক্ষক সমিতি
কেন্দ্রীয় কমিটি।
sharifcu82@gmail


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.