মহাদেবপুর মডেল সরকারি প্রাঃ বিদ্যালয়টি ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করেছে

মোঃরফিকুল ইসলাম, মহাদেবপুর (নওগাঁ)প্রতিনিধিঃ

বাংলাদেশের খাদ্য ভান্ডার হিসাবে পরিচিত রাজশাহী বিভাগের নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলা সদরে আএাই নদীর পূর্ব পাশ্বে ঐতিহাসিক ডাকবাংলো মাঠের কোল ঘেঁশে প্রতিষ্ঠিত মহাদেবপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি গত কয়েক বছর ধরে সমাপনী পরীক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্য অর্জন করেছে।আর এটি সম্ভব হয়েছে প্রধান শিক্ষকসহ সকল শিক্ষকের সৃজনশীল পাঠদান,উচ্চতর দক্ষতা ও আন্তরিকতায়। আরো সফলতা পেয়েছে অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং এস এম সি এর নিরলস প্রচেষ্টার মাধ্যমে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, জমিদারী প্রথা বিলুপ্তীর আগে ঐ সময়ে জমিদার পরিবারের সন্তান রামগোপাল রায় চৌধুরীর ছেলে শিক্ষানুরাগী ক্ষিতিশ চন্দ্র রায় চৌধুরীর দান করা ৪৩ শতক জমিতে ১৯৪৭ সালে উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে গড়ে ওঠে ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যপিঠটি।

ধারাবাহিক সাফল্য, প্রত্যাশিত ফলাফল ও পড়ালেখায় বিদ্যালয়টি বেশ সুনাম অর্জন করেছে । সব সময় শিক্ষার্থীর পদচারনায় মুখরিত হয়ে থাকে বিদ্যালয় অঙ্গনটি। যদিও বা বর্তমান করোনা ভাইরাসের কারনে সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। বর্তমানে এ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪শ ৯২ জন। এবং
বর্তমান ১২ জন শিক্ষক শিক্ষিকা কর্মরত আছেন, তাঁরা শিক্ষার্থীদের মোবাইলের মাধ্যমে পাঠদান অব্যহত রেখেছেন।

গত ২০১৮ ইং সালে ৫ ম শ্রেণি সমাপনী পরীক্ষায় এ বিদ্যালয় থেকে ১৯ জন ট্যালেন্টপূলে এবং ২ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি পেয়েছে। আর
২০১৯ সালে ১৩ জন ট্যালেন্টপূলে বৃত্তি লাভ করে। ভাল ফলাফল করায় অনেক সচেতন অভিভাবকগন তাদের সন্তানদের এ বিদ্যালয়ে ভর্তি করে থাকেন।
কার্ব স্কাউট ও খেলাধূলায় উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে অনেক বার শিক্ষার্থীরা পুরস্কার গ্রহনকরে প্রতিষ্ঠানের সুনাম অর্জন অক্ষুণ্ণ রেখেছে।

মহাদেবপুর উপজেলা সদরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থানের পর ও শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে জরাজীর্ণ টিনশেডের ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে নির্মিত আধাপাকা ৬ টি রুমের মধ্যে ৩ টি ভেঙ্গে ইউআরসি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে আর কিছু অংশ ভেঙ্গে বাথরুম নির্মাণ করা হলেও অবশিষ্ট ২ রুম অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীর সংখ্যার তুলনায় বিদ্যালয়ের অবকাঠামো কম হওয়ায় সুষ্ঠভাবে পাঠদান সম্ভব নয়।

স্হানীয় শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী এ বিদ্যালয়ে ৪ তলা বিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষ বরাবর শিক্ষাবার্তা ডট কমের মাধ্যমে জোর দাবী জানান।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব আব্দুস সোবহান  শিক্ষাবার্তার প্রতিবেদককে জানান, মোট ৯ টি শ্রেণি কক্ষের ৫ টি কক্ষ পরিত্যক্ত করা হয়েছে। বাকী কক্ষ দিয়ে কোন রকমে পাঠদান চালিয়ে নিতে হয়। এ ফলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কিছুটা ব্যহত হয় বলে তিনি মনে করেন। প্রতিষ্ঠাকালীন ভবনের রুমগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেগুলো ও পরিত্যাক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সুতরাং ভবনটি ভেঙ্গে সেখানে একটি নতুন ৪ তলা ভবন নির্মাণ করা গেলে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে বলে তিনি প্রতিবেদককে জানান।

বর্তমান বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি জনাব রবিউল আলম প্রতিবেদককে জানান, বিদ্যালয়টি মহাদেবপুর উপজেলার একটি শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ।যার ছাএ সংখ্যা ৪৯২ জন। এখানে শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতা, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনসহ নানা সমস্যায় পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। এমতোবস্হায় এ বিদ্যালয়টিতে নতুন একটি ৪ তলা বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করে সমস্যা সমাধানের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট  শিক্ষাবার্তার মাধ্যমে জোর দাবী জানাচ্ছি।
এ দিকে সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার জনাব মো : আনোয়ার হোসেন জানান, ঐতিহাসিক দিক থেকে এ প্রতিষ্ঠানটি একটি আলাদা গুরুত্ব বহন করে। গত কয়েক বছরের ফলাফল অত্যন্ত সন্তোষজনক। কিছু অবকাঠামোগত উন্নত হলে এ বিদ্যাপিঠটি আরো অনেক দুর এগিয়ে যাবে বলে তিনি মনে করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাফিয়া আক্তার বলেন, আমি সবে মাএ এখানে যোগদান করেছি। বিদ্যালয়টিতে আমি এখনও যাইনি, তবে শিক্ষার গুনগতমান ও পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য যেসব প্রদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন তা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি শিক্ষাবার্তার প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.