ঢাকা সিটিতে বাড়ছে বন্যার ঝুঁকি

নিউজ ডেস্ক।।

রাজধানীর আশপাশে নদ-নদীগুলোর পানি আরও বাড়ছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় পানি আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে ঢাকা সিটি করপোরেশনের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হতে পারে বলে শুক্রবার জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

অন্যদিকে, উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের নদনদীগুলোর পানি ক্রমশই নামতে শুরু করেছে। ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, পদ্মা-গঙ্গার পানি নামছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। পূর্বাঞ্চলে কুশিয়ারা ছাড়া আপার মেঘনা অববাহিকার নদীগুলোর পানি স্থিতিশীল রয়েছে, যা অব্যাহত থাকবে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া শুক্রবার সমকালকে বলেন, বন্যার পানি পর্যায়ক্রমে কমছে। বিশেষ করে উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে পানি আর বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্লাবিত জেলাগুলো বন্যার পানি থেকে মুক্ত হবে বলে আশা করা যায়। তবে ঢাকা সিটি করপোরেশনের নিন্মাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হবে।

সংস্থার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, চাঁদপুর, রাজবাড়ী, শরিয়তপুর এবং ঢাকা জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। এ ছাড়া কুড়িগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জে পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পর্যবেক্ষণে নদনদীগুলোর ১০১টি পয়েন্টের মধ্যে ৩৪টিতে বৃদ্ধি পেয়েছে, কমেছে ৬৬টি পয়েন্টে। ২৭টি পয়েন্টে নদনদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। বিশেষ করে এক দিনের ব্যবধানে শেরপুরে ভোগাই নদীতে পানি বেড়েছে ৩৫৫ সেন্টিমিটার। ঢাকার আশপাশে তুরাগ, বালু, শীতলক্ষ্যা এবং টঙ্গীখালের পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে যাচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে ৩১টি জেলা উপদ্রুত হয়েছে। দেড়শটির বেশি উপজেলায় বন্যাকবলিত সাড়ে নয়শ ইউনিয়নে পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৪৪৭টি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৫১ লাখ মানুষ। এ পর্যন্ত ৪১ জনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে। দেড় হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন ৬৫ হাজার ৩৯০ জন মানুষ। ৭৮ হাজারের বেশি গবাদিপশুরও জায়গা হয়েছে সেখানে। সারাদেশে বন্যাদুর্গত এলাকায় কাজ করছে ৩৮৭টি মেডিকেল টিম।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.