নিউজ ডেস্ক।।
প্রিয় বন্ধুরা, তোমরা ঘরে বসে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা কর। আমরা তোমাদের পাশেই রয়েছি।
আমি আমার মাকে ভালোবাসি উপরের বাক্যটিতে মায়ের প্রতি আমাদের ভালোবাসার কথা প্রকাশিত হয়েছে। আমাদের মনের এই ভাবটি কাউকে বোঝানোর জন্য আমরা তাকে কথাটি বলতে পারি বা লিখে বোঝাতে পারি। যেভাবেই তা করি না কেন উভয় ক্ষেত্রেই আমাদের কিছু ধ্বনি বা চিহ্ন ব্যবহার করতে হবে।
মানুষ তার মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য যেসব অর্থবোধক ধ্বনি বা চিহ্ন ব্যবহার করে তাকে ভাষা বলে। যেমন— বাংলা ভাষা, ইংরেজি ভাষা ইত্যাদি।
মাতৃভাষা :
I love my mother.
আমি আমার মাকে ভালোবাসি।
উপরে উল্লেখিত বাক্য দুটি লক্ষ্য করো। উভয় বাক্যের অর্থ একই। প্রথম বাক্যটি আমরা সবাই ঠিকমতো বোঝতে নাও পারি। কিন্তু দ্বিতীয় বাক্যটি সহজেই বোঝতে পারছি। এর কারণ বাক্যটি আমাদের মাতৃভাষা বাংলায় লেখা হয়েছে।
মায়ের কাছ থেকে শিশু জন্মের পর যে ভাষা শেখে তা-ই তার মাতৃভাষা। আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। ইংরেজদের মাতৃভাষা ইংরেজি।
ভাষার রূপ ও রীতি :
ভাষার মাধ্যমে মনের ভাব প্রকাশের দুটি উপায় রয়েছে। একটি কথা বলে, আরেকটি লিখে।
কথা বলার ভাষাকে বলা হয় কথ্য ভাষা। আর লেখার ভাষাকে বলে লেখ্য ভাষা। নিচের ছকটি লক্ষ্য করি—
১। আঞ্চলিক ভাষা ও প্রমিত ভাষা :
নিচের বাক্য দুটি খেয়াল কর—
ঔগেগায়া মাইনেষ্যর দুয়া পোয়া আছিল্।
একজনের দুটো ছেলে ছিল। আমাদের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের রয়েছে নিজস্ব ভাষারীতি। এ রীতিকে বলা হয় আঞ্চলিক ভাষা। প্রথম বাক্যটি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষারীতি। আবার এই কথাটিই নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষেরা তাদের আঞ্চলিক ভাষায় বলবে— ‘অ্যাকজনের দুই হুত আছিল্’। আঞ্চলিক ভাষা একেক স্থানে একেক রকম বলে এক অঞ্চলের মানুষের পক্ষে অন্য অঞ্চলের ভাষা বোঝা কঠিন হয়। আবার উপরের দ্বিতীয় বাক্যটি এদেশে সব অঞ্চলের মানুষই বোঝতে পারবে। এভাবে সব ধরনের ভাষারীতিরই এমন একটি রূপ রয়েছে যেটির মাধ্যমে সকল শ্রেণির মানুষের কাছেই মনের ভাব প্রকাশ করা সম্ভব হয়। এই রূপটির নাম প্রমিত ভাষা।
১। সাধু ও চলিত ভাষা :
নিচের বাক্য দুটি পড়—
তাহারা ফুল তুলিতেছে।
তারা ফুল তুলছে।
দুটি বাক্যের মধ্যে পার্থক্য লক্ষ্য করো। প্রথম বাক্যের সর্বনাম পদ (তাহারা)-টির আকার দ্বিতীয় বাক্যের সর্বনাম পদ (তারা)-এর চেয়ে বড়। আবার প্রথম বাক্যের ক্রিয়াপদ (তুলিতেছে)-এর আকার দ্বিতীয় বাক্যের ক্রিয়াপদ (তুলছে)-এর তুলনায় বড়। আকারে বড় অর্থাত্ প্রথম রূপটির নাম সাধু ভাষা, আর আকারে ছোট অর্থাত্ দ্বিতীয় রূপটির নাম চলিত ভাষা। সাধুভাষা মূলত ব্যবহার করা হয় সাহিত্য রচনায় বা বই পুস্তকে। কথা বলার জন্য আমরা সাধু ভাষা ব্যবহার করি না। চলিত ভাষাতেই আমরা সাধারণত কথা বলে থাকি। তবে বর্তমানে লেখালেখির ক্ষেত্রেও চলিত ভাষার ব্যবহারই বেশি চোখে পড়ে।
যে ভাষা সাধারণত সাহিত্য রচনায় ব্যবহার করা হয় বা বই-পুস্তকে লেখা হয়, তাকে সাধু ভাষা বলে।
যে ভাষায় আমরা সাধারণত কথা বলে থাকি, তাকে চলিত ভাষা বলে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
