অনলাইন ক্লাস কি ন্যায্য বিকল্প?

নিউজ ডেস্ক ।।

মহিমা ও অনন্যা উত্তর ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের একটি ছোট বেসরকারি বিদ্যালয়ের একই ক্লাসের শিক্ষার্থী। শিক্ষকরা উভয়কেই মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে এখন যেহেতু ক্লাসগুলো অনলাইনে স্থানান্তরিত হয়েছে এবং তারা ভারতের ডিজিটাল বিভাজনের বিপরীত দিকে নিজেদের খুঁজে পেয়েছে।

অনন্যার বাড়ি শহর অঞ্চলে, তার বাড়িতে ওয়াই-ফাই রয়েছে এবং সে সহজেই তার ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারে। সে বিবিসিকে বলে, অভিজ্ঞতাটি দুর্দান্ত এবং ক্লাসগুলো সত্যিই ভালো চলছে। এটিই এখন আমাদের স্কুল।

তবে মহিমার ক্ষেত্রে এটি হতাশাজনক অভিজ্ঞতা। গ্রামে বসবাস করা মহিমার বাড়িতে কোনো ওয়াই-ফাই নেই। এর পরিবর্তে সে তার ফোনে ফোর-জি সিগন্যালের ওপর নির্ভর করে, যা গ্রামাঞ্চল ও ছোট শহরগুলোতে ইন্টারনেটের একটি সাধারণ উৎস। তবে ফোনে ফোর-জি সিগন্যাল পেতে মহিমাকে বাড়ির চত্বরে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। তাই তার কাছে ওই রোদ্রে দাঁড়িয়ে ক্লাস করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই। সে বলে, ‘মাঝে মাঝে আমি পাঠগুলো পুরোপুরি মিস করি। আবার আমি শিক্ষকের অনলাইনে পাঠানো ভিডিও দেখতেও পারি না। ডাউনলোড এখানে বড় একটি সমস্যা। আমরা কেবল কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাই, তাই ফোনে চার্জ রাখাও একটি সমস্যা। আমি গত দেড় মাসে কেবল ১০-১২টি ক্লাস করতে পেরেছি। জমে যাওয়া পাঠের কারণে অনেক সময় আমি দারুণ হতাশা অনুভব করি।’

সরকার অনলাইন ক্লাসকে কার্যকর বিকল্প হিসেবে ঘোষণা করলেও ইন্টারনেটের অসম সুবিধা এবং অভিভাবকদের আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনায় নেয়া হয়নি। অনলাইন ক্লাসগুলো আদৌ একটি ন্যায্য বিকল্প কিনা তা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন।

বিবিসি


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.