মেডিকেলের প্রশ্ন ফাঁস করে কোটিপতি

নিউজ ডেস্ক ।।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত সন্দেহে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি বলছে, সংঘবদ্ধ এই চক্রটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস থেকে প্রশ্ন বের করে বিপুল অংকের অর্থের বিনিময়ে তা বিক্রি করত।

এভাবে প্রশ্ন ফাঁস করে তারা কোটি কোটি টাকার সম্পদ করেছেন; বাড়ি-গাড়ি ও ফ্ল্যাট বানিয়েছেন। এফডিআর হিসবে জমা আছে লাখ লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার সিআইডি সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে সাইবার ক্রাইম ইউনিটের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) সুমন কুমার দাস বলেন, ২০১৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে তদন্ত করে সিআইডি। এই মামলায় ৪৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের ৪৬ জনই আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

ওই তদন্তের অংশ হিসেবে ২০১৮ সালে এই চক্রের বিষয়ে জানতে পারেন সিআইডি কর্মকর্তারা। এরপর তাদের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছিল। এরমধ্যে গত ১৯ জুলাই এসএম সানোয়ার হোসেন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ২০১৩, ২০১৫ ও ২০১৭ সালে মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য দেন।

“ওই তিন বছর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের মূল হোতা জসিম উদ্দিন ভূইয়া ওরফে মুন্নু (৪৫) নামের একজন বলে জানান তিনি।”

এরপর ওই দিনই মিরপুর এলাকা থেকে মুন্নুসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অপর তিনজন হলেন- মো. পারভেজ খান (৩২), জাকির হোসেন দিপু ও মোহাইমেনুল ইসলাম বাঁধন (৪৫)।

জসিমের সঙ্গেই রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মো. পারভেজ খান, জাকির হোসেন দিপু ও মোহাইমেনুল ইসলাম বাঁধনকে। এদের মধ্যে পারভেজের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির দেওয়া ৮৪ লাখ টাকার চেক উদ্ধারের কথা জানিয়েছে সিআইডি।জসিমের সঙ্গেই রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মো. পারভেজ খান, জাকির হোসেন দিপু ও মোহাইমেনুল ইসলাম বাঁধনকে। এদের মধ্যে পারভেজের কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির দেওয়া ৮৪ লাখ টাকার চেক উদ্ধারের কথা জানিয়েছে সিআইডি।গ্রেপ্তারের পর জসিমের কাছ থেকে দুই কোটি ২৭ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র এবং বিভিন্ন ব্যক্তির দেওয়া দুই কোটি ৩০ লাখ টাকার চেক উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া তার তিনটি গাড়ি, ঢাকায় দুটি বাড়িসহ অর্ধশত কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পাওয়া গেছে।
বাকিদের মধ্যে পারভেজের কাছ থেকেও ৮৪ লাখ টাকার চেক পাওয়া গেছে।

সিআইডির সাইবার ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান বলেন, গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজনের আত্মীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে চাকরি করতেন। তাদের মাধ্যমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস থেকে প্রশ্নপত্রগুলো বাইরে চলে আসত এবং উচ্চমূল্যে বিক্রি করা হত। একেকজনের কাছ থেকে ১০ লাখ বা তার বেশি টাকা নিয়ে প্রশ্ন দেওয়া হত।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে জসিমের বাড়ি মানিকগঞ্জের সিংগাইরে।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.