নিজস্ব প্রতিনিধি ।।
উজানের ঢলের সাথে উজান-ভাটির টানা বর্ষণে সৃষ্ট বন্যায় ইতোমধ্যে দেশের এক তৃতীয়াংশ জেলা প্লাবিত হয়েছে। বন্যাকবলিত জেলার সংখ্যা এখন পঁচিশটির বেশি। প্রায় ৪০ লাখ মানুষ ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এরই মধ্যে আরো দুই দিন তীব্র বর্ষণের আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এতে করে দেশের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে।
বর্তমানে ১৪টি নদীর ২৪টি পয়েন্টে পানি বইছে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে। বেশ কিছু জায়গায় দেখা দিয়েছে নদীভাঙন। ভিটেহারা মানুষ এখন দিশেহারা।
এ বছর স্বাভাবিকের চাইতে বেশি বৃষ্টিপাত হচ্ছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তারা জানায়, মে মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে ১৭ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আর জুন মাসেও ২ শতাংশ বেশি বৃষ্টি হয়েছে। তবে চলতি জুলাই পর্যন্ত স্বাভাবিকের চেয়ে ৩০ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করা হয়েছে।
এই বর্ষণের কারণে রাজধানী ঢাকার আশেপাশের নদনদীগুলোর পানি বেড়ে গেছে। এছাড়া দেশের বড় শহরগুলোতে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগের পাশাপাশি মাঠে থাকা সবজিসহ অন্যান্য ফসলের জন্য বিপদ ডেকে এনেছে। ইতোমধ্যে এর প্রভাব পড়েছে বাজারে। সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে গেছে।
বিপর্যস্ত অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন বানভাসী মানুষ। ত্রাণ না পাওয়া, বিশুদ্ধ পানি, নিজেদের খাদ্য সংকটের পাশাপাশি গোখাদ্যেরও সংকট দেখা দিয়েছে। এ পর্যন্ত বন্যায় চার শিশুসহ ২৫ জনের মৃত্যুর সংবাদ জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়।
সাধারণত দুই থেকে তিন বছর পরপর মৌসুমি বায়ু অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠলে বৃষ্টিপাত বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। তারা বলছেন, এ বছরটা সেই শক্তিশালী মৌসুমি বায়ুর মধ্যে পড়েছে।
ভারত ও বাংলাদেশে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করে সাধারণত আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর হয়ে। আরব সাগরের বায়ু ভারতের গুজরাট ও মহারাষ্ট্র দিয়ে প্রবেশ করে মধ্যপ্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে বৃষ্টি ঝরায়। আর বঙ্গোপসাগর থেকে আসা মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের টেকনাফ, ভারতের মিজোরাম ও মিয়ানমারের আরাকান উপকূল দিয়ে প্রবেশ করে। সাধারণত মৌসুমি বায়ুর এই দুটি ধারা একসঙ্গে শক্তিশালী হয় না, সংযুক্তও হয় না। যে বছর তা ঘটে, সেই বছর বাংলাদেশ, ভারত, নেপালসহ পুরো অঞ্চল টানা বর্ষণের কবলে পড়ে। যার ফলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
