নিউজ ডেস্ক।।
বন্ধ স্কুল, কবে খুলবে জানা নেই। শিক্ষার্থী নেই, তাই বেতনও নেই শিক্ষকদের। এ অবস্থা দেশের প্রায় ৪০ হাজার কিন্ডারগার্টেনের ৬ লক্ষাধিক শিক্ষক কর্মচারীর। বেঁচে থাকতে সরকারের সহযোগিতা চান তারা। স্কুল মালিকরা বলছেন, শিক্ষকদের বেতন তো দূরের কথা, বাড়ি ভাড়া দিতে না পারায় স্কুলই বন্ধ করে দিতে হচ্ছে তাদের। প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী বলছেন, তাদের নিয়ে আপাতত ভাবা হচ্ছে না।
কিছুদিন আগেও স্কুল প্রাঙ্গণ মুখরিত শিশুদের কলকাকলিতে। প্রায় দেশের কোটি শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে ৪০ হাজার কিন্ডারগার্টেনে।
গত ১৬ মার্চ থেকে একযোগে বন্ধ ঘোষণা করা হয় দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এরপর ৪ দফা বেড়েছে বন্ধের মেয়াদ। সম্প্রতি সীমিত পরিসরে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হলেও আগামি সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠাগুলো বন্ধ রাখার ইঙ্গিত মিলেছে।
বন্ধ স্কুলগাড়ির চাকা, ধুলোপড়া খেলার সামগ্রি। নিরব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিভৃতে নি:স্ব করে দিচ্ছে প্রায় ৬ লাখ শিক্ষক কর্মচারীকে।
কিন্ডারগার্ডের স্কুলগুলোর বেতন হয় শিক্ষার্থীদের ফি আর টিউশনি থেকে। ফি আদায় করা যাচ্ছে না আবার নিষেধাজ্ঞার কারণে টিউশনিও করানো যাচ্ছে না। অনেকটা মানবেতর জীবন যাপন করছেন শিক্ষকরা।
কিন্ডারগার্ডের পরিচালনা করা এক প্রিন্সিপাল হাসিনা আক্তার বলেন, এরইমধ্যে বাড়িওলারা নোটিশ দিয়েছে বাড়ি ছেড়ে দেয়ার জন্য। আমরা এখন বাড়ি ছেড়ে দিলে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষৎ কী হবে?
সরকারি স্কুলের শিক্ষকরা এর মধ্যে বেতন পেলেও বঞ্চিত কিন্ডারগার্টেন শিক্ষকরা চান ঈদের আগে সরকারের বিশেষ প্রণোদনা।
বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন মহাসচিব মিজানুর রহমান বলেন, শিক্ষিত মানুষগুলো কারও কাছে সাহায্য চাইতে পারে না। আবার উপার্জনও করতে পারছে না।
বাংলাদেশ কিন্ডারগার্টেন অ্যাসোসিয়েশন খুলনা অঞ্চলের সভাপতি ওয়াদুদ রহমান পান্না বলেন, সরকারের কাছে বিনীত অনুরোধ করব এ খাতে প্রণোদনার ব্যবস্থা করলে এ খাতে কর্মচারী শিক্ষকরা বেঁচে যাবে।
স্কুল মালিকরা স্বীকার করছেন, মার্চ মাস থেকে শিক্ষকদের বেতন দিচ্ছেন না তারা।
সুইটবোর্ড স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা জেসমিন নাহার বলেন, গত কয়েকমাস ধরে স্কুলের বাড়িভাড়াই দিতে পারিনি শিক্ষক কর্মচারীদের বেতনতো দূরের কথা।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী জাকির হোসেন।
তিনি বলেন, নিজেরটা নিয়েই পারি না। আর এগুলো নিয়ে কেমন করে করব। বেসরকারিতো বেসরকারিই। আমরা এখনও কোনো চিন্তা ভাবনা করি নাই।
দেশের প্রায় ৩০ ভাগ প্রাথমিক শিক্ষার চাহিদা পূরণ করে কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলো। দীর্ঘসময় এ অবস্থা চলতে থাকলে ৮০ভাগ স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
