মোঃ জিয়াউর রহমান, জেলা প্রতিনিধি :
মহামারী করোনা ভাইরাসের ভয়াবহ আক্রমণ প্রতিরোধে নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন এবং যার দিকনির্দেশনা ও পরামর্শে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে তিনি হলেন উপজেরা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়মা আফরোজ ইভা।

তিনি ছুটে যাচ্ছেন আড়াইহাজার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাড়ি বাড়ি। ভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মানুষের দ্বারে দ্বারে স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরন্তর ছুটে যাচ্ছেন তিনি। সংক্রমণ ঠেকাতে মানুষের মাঝে দিয়ে যাচ্ছেন প্রয়োজনীয় বিভিন্ন পরামর্শ। দুর্যোগপূর্ণ সময়ে সেবা পেয়ে অনেকেই ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ বলেও আখ্যায়িত করছেন তাকে । জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সথে তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চালু করেছেন ১০ শয্যা বিশিষ্ট আইসোলেশন ইউনিট। করোনা আক্রান্ত চার ব্যক্তিকে ইউনিটে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বিভিন্ন ধরনের জনসচেতনামূলক প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
ডা. সায়মা আফরোজ ইভা নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবুর সহধর্মীণি। সংক্রমিত হয়ে যারা নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে রয়েছেন। তাদের স্বাস্থ্যের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন তিনি। নিজের কর্মস্থলেও আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় সুন্দর একটি পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন। তার দক্ষ নেতৃত্বের কারণে মাঠ পর্যায়ে ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে স্বতস্ফূর্তভাবে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন কর্মরত চিকিৎসকগণ। মানুষকে ভালো রাখাই তাদের নিরন্তর প্রচেষ্ঠা। এরই মধ্যে ৫ জন ব্যক্তি সুস্থ হয়েছেন।
করোনায় আক্রান্তদের নমুনা (স্যাম্পল) সংগ্রহের দায়িত্বে আছেন চিকিৎসদের একটি দল। তারা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছুটে যাচ্ছেন। কারোর শরীরে হাঁচি, কাশি ও জ্বর উপসর্গ দেখা দিলে নমুনা (শ্যাম্পল) সংগ্রহ করা হচ্ছে। পরীক্ষার জন্য পাঠানো হচ্ছে আইইডিসিআরে। যে সব এলাকা লকডাউন করা হচ্ছে, যাদের হোমকোয়ারেন্টিনে রাখা হচ্ছে, তাদের খাদ্য নিরাপত্তাসহ স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
বাড়িতে বসেই যাতে চিকিৎসা গ্রহণ করতে পারেন তাই হাসপাতালে চালু করা হয়েছে হটলাইন ব্যবস্থা। জীবাণু নাশক ম্প্রে (টানেল)-এর মাধ্যমে সংয়ক্রিয়ভাবে চিকিৎসকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে নমুনা সংগ্রহে থাকা চিকিৎসকদের মাঝে সরবরাহ করা হয়েছে পার্সোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই)। ঝুঁকির কথা বিবেচনায় রেখে ডাক্তার ও নার্সদের জন্য হাসপাতালে স্থাপন করেছেন সুরক্ষা কক্ষ। চিকিৎসা কর্মীরা যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন সে বিষয়ে বিশেষ দৃষ্টি রাখা হয়েছে।
এছাড়াও ডা. ইভা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের পর পাল্টে যায় পুরো চিত্র। পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পায় সেবার মান। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জুড়েই বর্তমানে একটি মনোরম পরিবেশ বিরাজ করছে। এতে রোগীরা সুন্দর একটি মনোরম পরিবেশে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে যাচ্ছেন।
ডা. সায়মা আফরোজ ইভা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২০১৯ সালের ৩০ শে ডিসেম্বর যোগদান করেন। তিনি বলেন, মানুষকে ভালো রাখার জন্যই আমার এই প্রচেষ্ঠা। করোনাভাইরাসে যারা আক্রান্ত হচ্ছেন। যে সব এলাকা লকডাউন করা হচ্ছে। যাদের হোমকোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। তাদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তাদের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু কাজ করছেন।
তিনি আরও বলেন, আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি ভালো পরিবেশের মাধ্যমে উপজেলাবাসীকে সেবা দিতে। সেবা কেন্দ্রের পরিবেশ সুন্দর হলে চিকিৎসকদের মন-মানসিকতাও প্রফূল্ল থাকে। ভালো পরিবেশ পেলে রোগীরও মনবল বৃদ্ধি পায়। করোনা প্রতিরোধে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন আরএমও ডা. আশরাফুল আমীন, ডা. শান্তা ত্রিবেদী. ডা. চেমন আরা বেগম, ডা. উত্তম কুমার দাশ গুপ্ত, ডা. খলিলুর রহমান প্রফিট, ডা. মনিরুজ্জামান, ডা. আরিফ ভূঁইয়া ও ডা. শারফুল আলম।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ মাহমুদুল হাসান জানান, কয়েক দিনের ব্যবধানে ২৭০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এপর্যন্ত আড়াইহাজারে (কোভিড-১৯) করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩২ জন। এরই মধ্যে ৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
