ঢাকায় গাছভর্তি কাঁচা আম, করোনায়ও কাজে দেবে

নিজস্ব প্রতিনিধি।।

এখন গাছ ভর্তি আম। না, পাকা আমের কথা হচ্ছে না। কাঁচাটিই বিশেষ দৃষ্টি কাড়ছে। কিছুদিন আগে যেসব গাছে সোনালি মুকুল দোল খেয়েছে, বর্তমানে সেখানে থোকা থোকা আম। রাজধানী শহরে এমন দৃশ্য দুর্লভও বটে। জানালার গ্রিল ধরে গাছের দিকে তাকিয়ে থাকতে তাই বেশ লাগে।

হ্যাঁ, ঘরবন্দী সময়ে নিজের বাসার জানালা বা বারান্দা থেকেই দেখা যাচ্ছে আম গাছ। সবাই দেখতে পাবেন এমন নয়। অনেকেই দেখতে পাচ্ছেন। বিশেষ করে উঁচু বাড়ির ছাদে গেলে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা আম গাছটিও আপনার চোখ এড়াবে না। কংক্রিটের জঞ্জাল ঠেলে কোন রকমে ওপরের দিকে উঠে আসা গাছ তার প্রাণশক্তি ধরে রাখেনি শুধু, ফলের জোগান দিচ্ছে। এবার ফলন এত বেশি যে, গুনে শেষ করা যায় না। কারণও আছে। এখন পর্যন্ত কালবৈশাখী বা শিলাবৃষ্টি তেমন হানা দেয়নি। দু’একদিন ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেছে। তাতে আম পড়েছে সামান্যই। যা পড়েছে তার সৎকার করতেও ভোলেননি অনেকে। ঢাকার পুরনো বাড়ির যেগুলোয় আম গাছ আছে, সেগুলোর মেয়েরা তৎপর ছিলেন। কুড়িয়ে ঘরে আনা আমে ভর্তা করে খেয়েছেন তারা। কী করে জানা গেল? কেন ফেসবুক আছে না? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাঁচা আম ভর্তার ছবি পোস্ট করেছেন অপেক্ষাকৃত কম বয়সীরা। তাই দেখে বুড়োরা কমেন্ট বক্সে শৈশবের স্মৃতিচারণ করেছেন। গ্রামীণ জীবনে ফিরে গেছেন তারা। আম কুড়ানোর সুখ কত, সে তো আজকের শহুরে প্রজন্ম বুঝবে না। তবুও বলার চেষ্টা করেছেন।

ছোট ছুরা দিয়ে আম ছিলে ফালি ফালি করে কেটে খেয়েছে ছেলেরাও। হাতের তালুতে রাখা লবণ দানায় আমের ফালি চেপে ধরে স্বাদ বাড়িয়ে নিয়েছে। স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে অন্যের গাছ থেকে আম ছিঁড়ে পকেট ভর্তি করতেও দ্বিধা করেনি। ছুরিটা স্কুল অবদি নেয়া যায় না। দূরন্ত ছেলেরা তাই ক্লাস রুমের দরজার ফাঁকে কাঁচা আম ঠেসে ধরেছে। অন্য হাত দিয়ে চেপে ধরেছে কপাট। এভাবে থেতলে নেয়া আম সবাই মিলে খেয়েছে। শহরের আম ভর্তি গাছ মনে করিয়ে দিচ্ছে এমন আরও অনেক মধুর স্মৃতি।

তবে এখন সময়টা বৈরী। করোনায় বিপর্যস্ত গোটা দুনিয়া। বাংলাদেশও বড় হুমকির মুখে। এ অবস্থায় মনে হতে পারে, কাঁচা আমের গল্প করা অনর্থক। আসলে তা নয়। এ সময়ে গল্পটি করার যৌক্তিক কারণ আছে। পুষ্টিবিদরা বলছেন, কাঁচা আমেরও আছে নানা গুণ। এমনকি করোনায় কাজে আসতে পারে কাঁচা আম।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.