দেশের দুই তৃতীয়াংশই লকডাউন

নিউজ ডেস্ক ।।

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের বিস্তারের প্রেক্ষাপটে সারাদেশকে ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে দেশের সব জেলায় এখনও করোনার সংক্রমণ ঘটেনি। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ৫১ জেলায় করোনার সংক্রমণের তথ্য জানিয়েছে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। গতকাল শুক্রবার নতুন করে আরও পাঁচ জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়েছে। করোনার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া জেলাগুলোর মধ্যে ২৯টি পুরোপুরি ও ১৯টি আংশিক লকডাউন ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। সরকার ২৬ মার্চ থেকে সরকারি-বেসরকারি সব অফিস ছুটি ঘোষণা করে। এর আগে স্কুল-কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সারাদেশে এখনও ছুটি চলছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ২৬৬ জন করোনা আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে আরও ১৫ জনের।

এ নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ৮৩৮ জনে পৌঁছেছে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিনই স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশে লকডাউন করা জেলার সংখ্যা বাড়ছে। গত চার দিনে আরও নয় জেলা এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার লকডাউন করা হয় গোপালগঞ্জ, নীলফামারী ও ময়মনসিংহ জেলা। বুধবার লকডাউনের তালিকায় যুক্ত হয় শরীয়তপুর, দিনাজপুর ও নওগাঁ জেলা। বৃহস্পতিবার মাদারীপুর এবং গতকাল পিরোজপুর ও পঞ্চগড় জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এসব এলাকায় সড়ক ও নৌপথে প্রবেশ এবং বের হওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কড়াকড়ি করা হয়েছে জেলার অভ্যন্তরে যাতায়াতেও। তবে অভিযোগ পাওয়া গেছে, বেশিরভাগ জেলা শহরেই লকডাউন পুরোপুরি কার্যকর হচ্ছে না। লকডাউন উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষ রাস্তাঘাট ও বাজারে ঘোরাঘুরি করছে।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন সচিব শেখ ইউসুফ হারুন সমকালকে বলেন, লকডাউনের বিষয়টি কেন্দ্রীয়ভাবে করা হচ্ছে না। তাই এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে কেন্দ্রীয়ভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সংক্রমণ বাড়লে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন স্থানীয়ভাবে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। যেসব জেলা ও উপজেলায় করোনার বিস্তার ঘটেছে, সেসব স্থানে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনগণের নিরাপত্তার স্বার্থে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আবার তারা যখন মনে করবেন, তখন এটি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও বিভাগীয় অফিস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা বিভাগের সবচেয়ে বেশি নয় জেলা পুরোপুরি এবং চার জেলায় আংশিক লকডাউন করা হয়েছে। এরপর চট্টগ্রাম বিভাগের ছয় জেলা পুরোপুরি এবং চারটি আংশিক লকডাউন করা হয়েছে। সিলেট বিভাগের চার জেলা পুরোপুরি লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। ময়মনসিংহ বিভাগের দুই জেলা পুরোপুরি এবং দুই জেলা আংশিক লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। বরিশাল বিভাগের তিন জেলা পুরোপুরি এবং চার জেলা আংশিক লকডাউন করা হয়েছে। রংপুর বিভাগের এক জেলা পুরোপুরি এবং চার জেলা আংশিক, রাজশাহী বিভাগের এক জেলা পুরোপুরি এবং তিন জেলা আংশিক এবং খুলনা বিভাগের এক জেলা লকডাউন করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও ভাইরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলাম সমকালকে বলেন, সরকার মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে ছুটি ঘোষণা করেছে। আর ছুটি পেয়ে মানুষ গ্রামে ছুটে গেছে। এতে ভাইরাসের সংক্রমণটি গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে। ছুটি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে লকডাউনের ঘোষণা এলে পরিস্থিতি হয়তো এতটা খারাপ হতো না। এখন কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষণা না করে স্থানীয় পর্যায় থেকে লকডাউনের ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। এতে কী লাভ হচ্ছে জানি না। ২৬ মার্চ ছুটি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কেন লকডাউন করা হলো না? তাহলে তো হাজার হাজার মানুষ গ্রামে ফিরতে পারত না। সংক্রমণটিও এভাবে ছড়িয়ে পড়ত না। সবকিছুতেই সিদ্ধান্ত নিতে সময় নেওয়া হচ্ছে। এতে ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে মনে করেন তিনি।

ঢাকা বিভাগ : এ বিভাগের ৯টি জেলা পুরোপুরি লকডাউন করা হয়েছে। করোনা সংক্রমণে ঢাকার পরই নারায়ণগঞ্জ সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। গত ৮ এপ্রিল থেকে নারায়ণগঞ্জ জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে ৮ এপ্রিল থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ জেলাকে পুরোপুরি অবরুদ্ধ করা হলো। গাজীপুর জেলাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য লকডাউন করা হয়েছে। ১১ এপ্রিল জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকি মোকাবিলা ও প্রতিরোধ সংক্রান্ত সভায় গাজীপুর জেলাকে পুরোপুরি লকডাউনের ঘোষণা দেন। ৭ এপ্রিল জেলা প্রশাসক শহীদুল ইসলাম টাঙ্গাইল জেলাকে লকডাউনের ঘোষণা দেন। রাজবাড়ীতে পাঁচজনের শরীরে করোনা সংক্রমণের পর ১১ এপ্রিল জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম লকডাউন ঘোষণা করেন। ২২ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ১০ দিন লকডাউন থাকবে জেলাটি। ১০ এপ্রিল জেলা প্রশাসক সারওয়ার মোর্শেদ চৌধুরী কিশোরগঞ্জকে লকডাউন ঘোষণা করেন। এর আগে ৯ এপ্রিল জেলা প্রশাসক সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন নরসিংদী জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঝুঁকি ঠেকাতে ১৪ এপ্রিল গোপালগঞ্জ জেলা লকডাউন ঘোষণা করা হয়। ১৫ এপ্রিল জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের শরীয়তপুর জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেন। ১৬ এপ্রিল মাদারীপুর জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক। এই বিভাগে আরও চারটি জেলা আংশিক লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। জেলাগুলো হলো- ঢাকা, ফরিদপুর, মানিকগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ।

চট্টগ্রাম বিভাগ : চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিলল্গা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া- এই ছয় জেলা পুরোপুরি লকডাউন করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৮ এপ্রিল থেকে কক্সবাজার জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। জেলা প্রশাসক কামাল হোসেন এ আদেশ জারি করেন। ১১ এপ্রিল ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। ১০ এপ্রিল নোয়াখালী জেলাকে লকডাউনের ঘোষণা দেন জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস। ১০ এপ্রিল জেলা প্রশাসক আবুল ফজল মীর স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে কুমিল্লা জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। ৯ এপ্রিল সন্ধ্যা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চাঁদপুর জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান খান। ১২ এপ্রিল জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল লক্ষ্মীপুর জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেন।

খুলনা বিভাগ : খুলনার মধ্যে একমাত্র চুয়াডাঙ্গা জেলাকে পুরোপুরি লকডাউন করা হয়েছে। ১০ এপ্রিল জেলা প্রশাসক নজরুল ইসলাম সরকার চুয়াডাঙ্গা জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেন। এ ছাড়া খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, নড়াইল ও কুষ্টিয়া আংশিক লকডাউন করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ বিভাগ : এই বিভাগের ময়মনসিংহ জেলা, নেত্রকোনা, জামালপুর ও শেরপুর এই চার জেলায় আংশিক লকডাউন কার্যকর করা হয়েছে।

বরিশাল বিভাগ : এই বিভাগের বরিশাল জেলাকে পুরোপুরি লকডাউন করা হয়েছে। শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে দুই রোগী শনাক্ত হওয়ার পর ১২ এপ্রিল বরিশাল জেলা লকডাউন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক এসএম আজিয়র রহমান। গতকাল পিরোজপুর জেলা লকডাউন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক।

এ ছাড়া ঝালকাঠি, বরগুনা, পটুয়াখালী ও ভোলা জেলায় আংশিক লকডাউন কার্যকর করা হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগ : এই বিভাগের রাজশাহী জেলাকে পুরোপুরি লকডাউন করা হয়েছে। ১৪ এপ্রিল জেলা প্রশাসক হামিদুল হক এ ঘোষণা দেন।

রংপুর বিভাগ : এ বিভাগের গাইবান্ধা জেলাকে পুরোপুরি লকডাউন করা হয়েছে। ১১ এপ্রিল গাইবান্ধা জেলায় লকডাউন ঘোষণা করেন জেলা প্রশাসক আব্দুল মতিন। এ ছাড়া নীলফামারী, দিনাজপুর ও লালমনিরহাটও লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল পঞ্চগড় জেলা লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এর বাইরে কুড়িগ্রাম ও ঠাকুরগাঁও জেলায় আংশিক লকডাউন কার্যকর হয়েছে।

সিলেট বিভাগ : এ বিভাগের মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও সিলেট জেলাকে পুরোপুরি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। ১১ এপ্রিল জেলা প্রশাসক কাজী এম এমদাদুল ইসলাম সিলেট জেলা লকডাউনের ঘোষণা দেন। পরদিন জেলা প্রশাসক আব্দুল আহাদ সুনামগঞ্জকে লকডাউন ঘোষণা করেন। ৭ এপ্রিল জেলা প্রশাসক কামরুল ইসলাম হবিগঞ্জ জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেন। ১৩ এপ্রিল জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন মৌলভীবাজার জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ সমকালকে বলেন, বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার ধারণ করা এই ভাইরাসের বিস্তার বাংলাদেশেও ঘটেছে। এ জন্য সারাদেশকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। হাঁচি, কাশি ও পরস্পর মেলামেশার কারণে এ রোগের বিস্তার ঘটে। এখন পর্যন্ত বিশ্বে এ রোগের কোনো প্রতিষেধক আবিস্কার হয়নি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী এ রোগের একমাত্র প্রতিষেধক হলো পরস্পরকে নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থান করা, যা নিশ্চিতে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইতোমধ্যে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। এই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী জনগণকে অবশ্যই ঘরে থাকতে হবে। অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে যাওয়া যাবে না।

একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু : গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণে ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫ জনে। একই সঙ্গে নতুন করে আরও ২৬৬ জন শনাক্ত হওয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে এক হাজার ৮৩৮ জনে পৌঁছেছে। গতকাল শুক্রবার অনলাইন বুলেটিনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে আরও ৯ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ পর্যন্ত মোট ৫৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আক্রান্তদের মধ্যে ৩২ শতাংশ হাসপাতালে গিয়ে সেবা নিয়েছেন। আর বাসায় চিকিৎসা নিয়েছেন ৬৮ শতাংশ। এ ছাড়া আক্রান্ত ১ দশমিক ৮ শতাংশ আইসিইউতে চিকিৎসা নিয়েছেন। এই হার থেকে বলা যায়, ১০ হাজার রোগীকে যদি আইসিইউ সাপোর্ট দিতে হয়, তাহলে ৮০টি ভেন্টিলেটর লাগবে। এই সাপোর্টও একবারে লাগবে না, বিভিন্নম্ন সময়ে এটি লাগবে।

স্বাস্থ্য বুলেটিনে যুক্ত হয়ে আক্রান্তদের বয়সভিত্তিক পরিসংখ্যান তুলে ধরেন আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত আক্রান্ত এক হাজার ৮৩৮ রোগীর মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সীদের সংখ্যা বেশি, ২১ শতাংশ। এরপর ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী ১৯ শতাংশ, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে রয়েছে ১৫ শতাংশ। এ থেকে বলা যায়, ২১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে সংক্রমণের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। আক্রান্তদের মধ্যে ৬৮ শতাংশই পুরুষ।

এলাকাভিত্তিক বিশ্নেষণ তুলে ধরে ডা. ফ্লোরা বলেন, এ পর্যন্ত আক্রান্তদের মধ্যে ৪৬ শতাংশ ঢাকা শহরের বাসিন্দা এবং ২০ শতাংশ নারায়ণগঞ্জের। নতুন করে গাজীপুর জেলায় রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও মুন্সীগঞ্জেও রোগী বাড়ছে।

রাজধানীর চিত্র বিশ্নেষণ করে পরিচালক বলেন, রাজধানীর মিরপুর এলাকায় করোনার প্রকোপ এখন পর্যন্ত বেশি। মোট আক্রান্তের ১১ শতাংশ ওই এলাকার বাসিন্দা। এ ছাড়া ৪ শতাংশ করে রোগী মোহাম্মদপুর, ওয়ারী ও যাত্রাবাড়ী এলাকার। আর ৩ শতাংশ করে রোগী উত্তরা ও ধানমন্ডি এলাকার।

৫১ জেলায় সংক্রমণ : গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ৫১ জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়েছে। সংক্রমণের তালিকায় নতুন করে বান্দরবান, ফেনী, জয়পুরহাট, পাবনা এবং বগুড়া- এ ৫ জেলা যুক্ত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে আরও ২৬৬ জন। মৃত্যু হয়েছে আরও ১৫ জনের। মোট আক্রান্ত ১ হাজার ৮৩৮ জন। মোট মৃত্যু ৭৫ জন।

সর্বোচ্চ আক্রান্ত ঢাকা বিভাগে ১ হাজার ৩৭০ জন। অর্থাৎ মোট আক্রান্তের ৭৪ দশমিক ৬৫ শতাংশই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। আবার মহনগর ও জেলা শহরের মধ্যে সর্বোচ্চ আক্রান্ত রাজধানী ঢাকায় ৭৪০ জন, যা মোট আক্রান্তের ৪০ দশমিক ২৬ শতাংশ। এরপরই রয়েছে নারায়ণগঞ্জে ২৮৯ জন, যা মোট আক্রান্তের ১৫ দশমিক ৭২ শতাংশ। অন্যান্য জেলার মধ্যে ঢাকা জেলায় ২৮, গাজীপুরে ১১৭, কিশোরগঞ্জে ৩৩, মাদারীপুরে ২৩, মানিকগঞ্জে ৫, মুন্সীগঞ্জে ২৭, নরসিংদীতে ৬৫, রাজবাড়ীতে ৭, ফরিদপুরে ২, টাঙ্গাইলে ৯, শরীয়তপুরে ৬ এবং গোপালগঞ্জে ১৭ জন।

চট্টগ্রাম বিভাগে মোট আক্রান্ত ৯২ জন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ৩৭ জন, কক্সবাজারে ১, কুমিল্লায় ১৫, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৯, লক্ষ্মীপুরে ১৮, বান্দরবানে ১, নোয়াখালীতে ২, ফেনীতে ১, এবং চাঁদপুরে ৮ জন।

সিলেট বিভাগে মোট আক্রান্ত ৭ জন। এর মধ্যে মৌলভীবাজারে ২, সুনামগঞ্জে ১, হবিগঞ্জে ১ এবং সিলেটে ৩ জন।

রংপুর বিভাগে মোট আক্রান্ত ৩৭ জন। এর মধ্যে রংপুরে ৪, গাইবান্ধায় ১২, নীলফামারীতে ৬, লালমনিরহাটে ২, কুড়িগ্রামে ২, দিনাজপুরে ৮ এবং ঠাকুরগাঁওয়ে ৩ জন।

খুলনা বিভাগে মোট আক্রান্ত ৪ জন। এর মধ্যে খুলনা জেলায় ১, নড়াইলে ২ ও চুয়াডাঙ্গায় ১ জন।

ময়মনসিংহ বিভাগে মোট আক্রান্ত ৪২ জন। এর মধ্যে ময়মনসিংহ জেলায় ১৮, জামালপুরে ১২, নেত্রকোনায় ৭ এবং শেরপুরে ৫ জন।

বরিশাল বিভাগে মোট আক্রান্ত ৩১ জন। এর মধ্যে বরগুনায় ৫, বরিশালে ১৭, পটুয়াখালীতে ২, পিরোজপুরে ৪ এবং ঝালকাঠিতে ৩ জন।

রাজশাহী বিভাগে মোট আক্রান্ত ৮ জন। এর মধ্যে রাজশাহীতে ৪ জন, জয়পুরহাটে ২, পাবনায় ১ এবং বগুড়ায় ১ জন আক্রান্ত হয়েছেন।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.