সমন্বিত পদ্ধতি নয়, কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার পক্ষে উপাচার্যরা

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বিত পদ্ধতির বদলে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তাব দিয়েছেন উপাচার্যরা। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) উপাচার্য পরিষদের বৈঠকে এ ব্যাপারে একমত হন তাঁরা।

বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) উপাচার্যদের সঙ্গে এক সভায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

তবে মঙ্গলবারের বৈঠকে বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপাচার্যরা উপস্থিত ছিলেন না। এমনকি তাঁরা তাঁদের সিদ্ধান্তের কথাও এখনো জানাননি। ফলে সমন্বিত বা কেন্দ্রীয় যেকোনো পদ্ধতির পরীক্ষাই হোক না কেন, এই তিন বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরো কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণ নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

উপাচার্য পরিষদের বৈঠক শেষে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে অবশ্য জানানো হয়েছে, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা ও মানবিক শাখা থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্যসূচির আলোকে প্রণীত আলাদা প্রশ্নপত্রে সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। তিনটি শাখার বিভিন্ন বিষয়ে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত কলেজগুলোর স্নাতক (সম্মান) শ্রেণির ভর্তির জন্যও এ প্রক্রিয়া প্রযোজ্য হবে।

এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের স্বল্প সময়ের মধ্যে অনলাইনে দরখাস্ত আহ্বান করা হবে। নভেম্বর মাসের মধ্যেই ভর্তি পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে। কেন্দ্রীয় মেধাতালিকায় অন্তর্ভুক্ত শিক্ষার্থীরা সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদার আলোকে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবে। সভায় প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত লিখিত উত্তরবিশিষ্ট পরীক্ষাপদ্ধতি অনুসরণ করার প্রস্তাব করা হয়।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান গত রাতে বলেন, ‘উপাচার্য পরিষদের সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যরা উপস্থিত ছিলেন না। তাই এসব বিশ্ববিদ্যালয় এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত না। তাই এটিকে সমন্বিত কিংবা গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা বলা যাবে না। এটি কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা।’

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-অর-রশিদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীন আখতার, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আবদুস সোবহান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানসহ ২৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.