এইমাত্র পাওয়া

পরিকল্পনার সার্থকতা দেখছেন রাকিবুল

গ্রুপপর্বে হ্যাটট্রিক করেছেন, অনেকদিন ধরেই বাংলাদেশের এই যুব দলটার অন্যতম সেরা পারফরমার রাকিবুল হাসান। বৃহস্পতিবার রাতে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে নিয়ে গেছেন এবারের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে। অসাধারণ এই যাত্রায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে সেরা চারে গেলো বাংলাদেশ।

এমন পারফরম্যান্সের পর রাকিবুল হাসান বলছিলেন, এই দারুণ জয়ের কৃতিত্ব কেবল তার নয়। তিনি ব্যাটসম্যানদের বড়ো একটা কৃতিত্ব দিলেন আগে ব্যাট করে ২৬১ রানের স্কোর করতে পারায়। এরপর বললেন, বোলারদের সাফল্যটা আসলে পরিকল্পনা সার্থক মতো প্রয়োগ করতে পারার সাফল্য।

এই বিশ্বকাপে রাকিবুলের এখন পর্যন্ত সংগ্রহ ১০ উইকেট। তবে ম্যাচশেষে সংবাদ সম্মেলনে দারুণ আত্মবিশ্বাসী রাকিবুল নিজে কৃতিত্ব নিতে চাইলেন না। বললেন, দক্ষিণ আফ্রিকার দুর্বলতাটা কাজে লাগাতে চেয়েছেন তারা। সেটা পেরেছেন, ‘আমরা দক্ষিণ আফ্রিকার আগের ম্যাচগুলো দেখেছি। মনে হয়েছিল, ওরা স্পিনের বিপক্ষে খুব স্বচ্ছন্দ্য নয়। তাই আমরা স্পিন দিয়ে আক্রমণটা করতে চেয়েছিলাম। সে জন্য এই ম্যাচে বাড়তি একজন স্পিনারও নেওয়া হয়েছিল। স্পিনাররা সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী বল করতে পেরেছে। এর আগে ব্যাটসম্যানরা আসল কাজটা করে গেছে—ভালো একটা স্কোর করেছে তারা।’

পচেফস্ট্রুমেই ৬ ফেব্রুয়ারির সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড। এই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাদের মাটিতেই গত অক্টোবরে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে এসেছে যুবারা। গতকালকেই ম্যাচের কথা বলতে গিয়ে রাকিবুল বলছিলেন, তারা গত দুই বছরে পাওয়া সাফল্যের স্টাইলেই বিশ্বকাপে খেলছেন, ‘আমরা এই বিশ্বকাপের আগে বেশ কিছু সিরিজ খেলেছি। সেখানে আমরা যেভাবে সাফল্য পেয়েছি, সেভাবেই এই ম্যাচটাও খেলতে চেয়েছিলাম। আমাদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলেছি আমরা। ড্রেসিংরুমে আমরা বলছিলাম যে, আমরা নিজেদের খেলাটা খেলতে পারলে সাফল্য পাব।’

এই ম্যাচে সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে রাকিবুল বলছিলেন, ‘এই উইকেটে আগের ম্যাচগুলো দেখেছি। দ্বিতীয় ইনিংসে পিচ খানিকটা স্লো হয়ে যায়। তাই আমি এটি কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি। গতির তারতম্য দিয়ে ব্যাটসম্যানদের বোকা বানানোর চেষ্টা করেছি।’

বোলার হিসেবে রাকিবুল চাইলে অনেককেই অনুসরণ করার কথা বলতে পারেন। কিন্তু তার প্রিয় আসলে দেশের সেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান, ‘আমার কোনো রোল মডেল নেই। তবে আমি সাকিব আল হাসানকে অনুসরণ করি। বাংলাদেশ ক্রিকেটে তিনি একজন কিংবদন্তি। আমি দেখার চেষ্টা করি তিনি কীভাবে প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানকে পড়েন, উইকেটের আচরণ বুঝতে চেষ্টা করেন। এ কারণেই হয়তো কাজ হয়েছে। এছাড়া গত এক বছরে আমি যে কঠোর পরিশ্রম করেছি, তার ফল আসলো এই ম্যাচে। আমি ভালো করলাম, দলও ভালো করল।’

মাঠে বাংলাদেশের যে কয়েক জন সমর্থক ছিলেন, তারা একটা বাড়তি সুবিধা দিয়েছেন বলে বলছিলেন রাকিবুল, ‘দেখেন, দর্শক উপস্থিতি সবসময়ই যেকোনো দলের জেতার জন্য একটা বাড়তি সুবিধা। এখানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে আমরা খেলেছি, ওদেরই মাঠে ওদের হারালাম। যে কয়জন আমাদের সমর্থন দিয়েছে, এটা আমাদের খুব সাহায্য করেছে। ওদের মাঠে, ওদের দর্শকদের সঙ্গে আমাদেরও কিছু দর্শক আওয়াজ করছে, আমার মতে এটা অনেক বড়ো বিষয় ছিল।’


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.