এইমাত্র পাওয়া

উইলস্ লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজে বাংলা নববর্ষ উদযাপিত

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উইলস্ লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজে উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করে নেওয়া হয়েছে। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে মঙ্গলবার স্কুল প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য ‘বর্ষবরণ অনুষ্ঠান’-এর আয়োজন করা হয়। লাল ও সোনালী রঙের দৃষ্টিনন্দন ব্যানারে সাজানো মঞ্চ এবং বাঙালির ঐতিহ্যবাহী উপকরণে সজ্জিত ক্যাম্পাসে দিনভর ছিল উৎসবের আমেজ।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন। বাঙালির লোকজ সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে ব্যবহার করা হয় রঙিন ঘুড়ি ও বিভিন্ন দেশীয় সজ্জা। নারী শিক্ষার্থীদের লাল-সাদা শাড়ি এবং পুরুষদের পাঞ্জাবি পরিধান অনুষ্ঠানে এক অনন্য বৈশাখী আবহ সৃষ্টি করে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে এক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরা হয়। কোরআন তেলাওয়াত করেন সিনিয়র শিক্ষক মো. মহিবুল হাসান এবং গীতা পাঠ করেন ইংলিশ মিডিয়াম সেকশনের প্রধান প্রকাশ চন্দ্র বিশ্বাস। আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক নাসিমা চাঁদনী সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অ্যাডহক কমিটির চেয়ারম্যান ও অবসরপ্রাপ্ত সচিব মোহাম্মদ মসিউর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলা নববর্ষ বাঙালি সংস্কৃতির প্রাণশক্তি এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। তিনি শিক্ষার্থীদের শুধু পুঁথিগত শিক্ষায় সীমাবদ্ধ না থেকে দেশীয় কৃষ্টি ও ঐতিহ্য চর্চার মাধ্যমে সুনাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার আহ্বান জানান।তিনি বর্তমান সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড কে এগিয়ে নিতে সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।দেশের অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিতে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে তিনি নতুন বছরে দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং এমন আয়োজনের জন্য প্রতিষ্ঠানকে ধন্যবাদ জানান।

বিশেষ অতিথি অ্যাডহক কমিটির অভিভাবক প্রতিনিধি মো. জাকির হোসেন তাঁর বক্তব্যে নতুন প্রজন্মকে বাঙালির হাজার বছরের ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ জাতিগত ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধনকে দৃঢ় করে এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আ.ন.ম শামসুল আলম খান। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের আত্মপরিচয়ের উৎসব, যা শিক্ষার্থীদের মাঝে দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করে। আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি নিজস্ব সংস্কৃতির চর্চাকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন। এসময় তিনি সফল আয়োজনের জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানান।

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে নতুন বছরে নতুন উদ্দীপনায় দেশ ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক, আর এই সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা রক্ষা ও নতুন প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।  অনুষ্ঠানটি পরিচালনা কলে নাজমা হোসেন লাকি। নাজমা হোসেন লাকির পরিচালনায় গান, নৃত্য ও  একক সংগীত অনুষ্ঠিত হয়।

দিনব্যাপী এই আয়োজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার সৃষ্টি করে এবং বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল প্রতিফলন হিসেবে সবার মনে আনন্দের বার্তা ছড়িয়ে দেয়।

শিক্ষাবার্তা /এ/ ১৪/০৪/২০২৬

দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.