জোরপূর্বক ইস্তফা নিয়ে বরখাস্তের অভিযোগ:  প্রধান শিক্ষক লাল মিয়ার

বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়া সদরের মাটিডালী স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক লাল মিয়াকে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জোরপূর্বক ইস্তফা নিয়ে চাকরিচ্যুত করার অভিযোগ উঠেছে। চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে বর্তমানে তিনি স্কুলের গেটে এসে কান্নাকাটি করছেন এবং বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগী লাল মিয়া জানান, তিনি ২০২৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি মাটিডালী স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে সততা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। তিনি বলেন, এলাকায় কেউ মারা গেলে স্কুল মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হতো। এমনই এক জানাজার সময় ইমাম সাহেবের সামনে শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ছবি থাকায় তা সরিয়ে দেন তিনি।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্কুল ম্যানেজিং কমিটির কয়েকজন সদস্য ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ করেন লাল মিয়া। তার ভাষ্যমতে, ২০২৪ সালের ২ জুন রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তাকে স্কুল অফিসে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক ইস্তফাপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে তাকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হয়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে লাল মিয়া আরও বলেন, মাটিডালী স্কুলে যোগদানের আগে তিনি জয়পুরহাটের আব্বাস আলী খান সাহেবের একটি মাদ্রাসায় চাকরি করতেন। সে কারণ দেখিয়ে তাকে ‘জামায়াতের কর্মী’ হিসেবে ট্যাগ দিয়ে অন্যায়ভাবে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমি আজ ছেলে-মেয়ে নিয়ে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত হয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন যাপন করছি। চাকরি ফিরে পাওয়ার আশায় আমি বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন করেছি।”

লাল মিয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে আবেদন জানিয়ে বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে তাকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তিনি ন্যায়বিচার ও তার চাকরি পুনর্বহালের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ বা ম্যানেজিং কমিটির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.