এইমাত্র পাওয়া

ভূমিকম্পে মুন্সিগঞ্জের অর্ধশত বিদ্যালয় ভবনে ফাটল, মেরামত প্রস্তাব ফাইলবন্দি

মুন্সিগঞ্জঃ কয়েক দফা ভূমিকম্পে বড় ও মাঝারি ধরণের ফাটল দেখা দিয়েছে, মুন্সিগঞ্জের প্রায় অর্ধশত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনে। এরমধ্যে ঝুঁকি নিয়ে শ্রেণিকক্ষে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান। সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত এসব স্কুল ভবন পরিদর্শন শেষে, কয়েকটি বিদ্যালয়কে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে, ফায়ার সার্ভিস।

স্কুল আঙিনায় বাজছে ছুটির ঘণ্টা, বার্ষিক পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরা শিশুদের এমন তাড়া নিত্যদিনের।

কিন্তু এসব বিদ্যালয়ে নিভৃতে ওঁৎ পেতে আছে বড় দূর্ঘটনার শঙ্কা। একে তো জারাজীর্ণ ভবন তার ওপর গেল ২১ নভেম্বর ভুমিকম্প। ফলে বড় ও মাঝারি ধরণের ফাটল দেখা দিয়েছে, মুন্সিগঞ্জের প্রায় অর্ধশত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনে। এরপর থেকে কয়েক দফা ভূমিকম্পে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে সবার মাঝে। আর এই ঝুঁকি নিয়ে শ্রেণীকক্ষে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান।

একজন শিক্ষার্থী বলেন, আমার মা-বাবা অনেক টেনশনে আছে। আমাদের স্কুলে পাঠাতে চায় না কারণ এটা যখন তখন ভেঙে পড়লে আমাদের অনেক সমস্যা হবে। একজন শিক্ষক বলেন, বড় ধরণের ভূমিকম্প যদি স্কুল চলাকালীন সময়ে হয় তাহলে প্রায় ২শ’ বাচ্চাদের দায়-দায়িত্ব কে নেবে।আরেকজন শিক্ষিকা বলেন, প্রতিটি ওয়াল এবং সিলিং সব জায়গায় ফাটল রয়েছে। ভূমিকম্পের পর থেকেই আমাদের মনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

কোথাও খসে পড়ছে পলেস্তরা, দেয়ালের আস্তরণ আর পিলার ও মেঝেতে দেখা দিয়েছে ছোট বড় অসংখ্য ফাটল। তাই ঝুঁকি এড়াতে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের পাঠদান বন্ধ রেখেছেন।

একজন অভিভাবক বলেন, আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। বাচ্চাকে স্কুলে পাঠিয়েও দুই তিনবার করে দেখতে আসি।আরেকজন বলেন, কোন সময় এটা ধসে পড়ে বলা যায় না।

জেলা শিক্ষা অফিসার জানান, এসব ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল মেরামতের জন্য প্রস্তাব দিলেও সেটি ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে আছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে। আর জেলার ৩৮৪টি বিদ্যালয় ভবন জরুরী সংস্কার ও নতুন ভবন নির্মাণের তাগিদ দিয়েছে, ফায়ার সার্ভিস।

মুন্সিগঞ্জ জেলার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, যে সমস্ত স্কুলগুলো এখন ঝুঁকিপূর্ণ আছে সেগুলো আমরা চিহ্নিত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আমরা জানাব।

মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ যে ভবনগুলো আছে সেগুলো মেরামত করার জন্য আমরা পরামর্শ দিয়েছি। এমনকি সংশ্লিষ্ট যে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিপার্টমেন্ট আছে তারা এইটা দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/১০/১২/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.

Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading