কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিসের নিয়োগ পরীক্ষার আগে জেলার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আরএমওর (রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসার) বাসায় কিছু পরীক্ষার্থীর অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে।
এই পরিস্থিতিতে পরীক্ষার আগের রাতে ওই কর্মকর্তার বাসা বাসায় চাকরিপ্রার্থীদের বের হওয়ার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে পরীক্ষার আগমুহূর্তে ওই কর্মকর্তার বাসায় উত্তরপত্র তৈরি ও প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল।
অভিযুক্ত ওই কর্মকর্তার নাম ডা. মোহাম্মদ হোসেন ইমাম। তার দাবি, অভিযোগটি ভুলভাবে ব্যাখ্যা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন।
মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরই এ অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, পরীক্ষার দিন সকালে ২৫–৩০ জন প্রার্থী একসঙ্গে ওই বাসা থেকে বের হচ্ছেন। আগের রাতে অ্যাম্বুলেন্সে করে বাসায় প্রবেশের বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের ৩য়/৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী পদে ১১৫ জন নিয়োগে আহ্বান করা হয়। এতে স্বাস্থ্য সহকারী পদে ৯৭ জন, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পাঁচ জন, স্টোর কিপার চার জন,পরিসংখ্যানবিদ তিন জন, কোল্ড চেইন টেকনিশিয়ান একজন, সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর একজন ও ড্রাইভার পদে চার জনসহ মোট ১১৫টি পদে ১৬০০ প্রার্থীর আবেদন জমা পড়ে। গত শুক্রবার ২৪ অক্টোবর সকাল ১০টায় কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্রে যথারীতি ওই নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
কিন্তু পরীক্ষার আগের দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে প্রশ্নপ্রত্র ফাঁস ও ঘুষের বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ ৩০/৪০ চাকরিপ্রার্থীকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডাক্তার হোসেন ইমামের বাড়িতে গোপনে এম্বুলেন্সযোগে জড়ো করা হয়। পরে তাদের প্রত্যেককে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সরবরাহ করে সেগুলো মুখস্তসহ প্রস্তুতিমূলক পরীক্ষা নেওয়া হয়, যাতে তারা শুক্রবার অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পরীক্ষায় নির্বিঘ্নে উত্তীর্ণ হতে পারে।
ঘটনাটি জানার পর স্থানীয় সাংবাদিকরা ভোরে ওই বাড়ির সামনে জড়ো হন। এসময় সাংবাদিকরা তথ্য উদঘাটনের চেষ্টা করলে উপস্থিত চাকরিপ্রার্থীরা ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের জেরার মুখে তারা ওদিক-ওদিক ছুটাছুটি করতে থাকে এবং যে যার মত দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর জেলাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে নিয়োগ বাণিজ্যের ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি ও পুনঃপরীক্ষার দাবিতে সাধারণ চাকরিপ্রার্থীরাসহ ‘সচেতন নাগরিকদের উদ্যোগে’ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে হাসপাতালের আরএমও ডাক্তার হোসেন ইমাম বলেন, আমি পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া ফ্ল্যাটের দ্বিতীয় তলায় থাকছি। বাড়ির অন্যান্য ফ্লোরগুলো ছাত্রীনিবাসের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়েছে। সেখানে কে কখন আসা-যাওয়া করে তা আমি কখনই তদারকি করিনা। প্রশ্ন ফাঁস ও আগের রাতে চাকরিপ্রার্থীদের এখানে অবস্থানের বিষয়টি আমার জানা নেই। এসব অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, যা শাস্তি দেওয়া হবে সেটাই মেনে নেব।
কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডাক্তার শেখ মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার কারণে বিষয়টি আমিও জেনেছি। যেসব অভিযোগ উঠেছে সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন জানান, কুষ্টিয়ার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আরএমও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত নন। তবে অভিযোগটি তদন্তের জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের খুলনা বিভাগীয় পরিচালককে জানানো হয়েছে।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/২৫/১০/২০২৫
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
