জয়পুরহাটঃ জয়পুরহাট জেলার প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থায় শহর ও গ্রামের মধ্যে বৈষম্য ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। শহরের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর চাপ বেড়ে গিয়েছে; শ্রেণিকক্ষে জায়গার অভাবে শিক্ষার্থীরা গাদাগাদি করে বসছে। অন্যদিকে, গ্রামাঞ্চলের অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি খুবই কম, কোথাও পাঠদান বন্ধ থাকার পর্যায়ে পৌঁছেছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, জয়পুরহাটে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৭১টি। মঞ্জুরিকৃত ৩৭১ জন প্রধান শিক্ষকের বিপরীতে মাত্র ২৪৪ জন কর্মরত। সহকারী শিক্ষক পদ রয়েছে ২,০৭৬টি, কিন্তু আছেন ১,৮৮০ জন। অর্থাৎ অনেক বিদ্যালয়ে প্রধান ও সহকারী শিক্ষক পদ শূন্য রয়েছে।
জয়পুরহাটের শহরের মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অত্যধিক।জয়পুরহাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১,৫৫১ জন শিক্ষার্থী থাকলেও শ্রেণিকক্ষ মাত্র ১৬টি। ফলে এক শ্রেণিকক্ষে শতাধিক শিক্ষার্থীকে বসতে হয়। পঞ্চম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩৫১ জন। শিক্ষার্থীরা জানায়, তিনজনের বেঞ্চে কখনো চার, কখনো পাঁচজন বসে, ফলে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষ ও বেঞ্চের তীব্র সংকটে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।’
শহরের অন্য মডেল বিদ্যালয়গুলোও পরিস্থিতি ভালো নয়। কালাই মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩৪৩ জন শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র ৯ জন শিক্ষক দায়িত্বে। বিদ্যালয়ের মাঠ সংস্কার না হওয়ায় কোনো সাংস্কৃতিক বা ক্রীড়া কার্যক্রম আয়োজন করা যায় না।
অন্যদিকে, গ্রামের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি খুবই কম।
কাশিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী মাত্র ৭৮ জন, কাথাইল গোপীনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকে মাত্র ৫০-৬০ জন। বড়তারা সরকারি বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে দেখা যায় মাত্র চারজন শিক্ষার্থী। ভবন সংস্কারের অভাব ও শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশাসনিক কাজে ডেকে নেওয়ায় পাঠদান প্রভাবিত হচ্ছে।
ডিজিটাল শিক্ষায় জয়পুরহাট এখনো পিছিয়ে। অধিকাংশ বিদ্যালয়ে প্রোজেক্টর বা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম নেই; পাঠদান এখনো খাতা-কলম ও ব্ল্যাকবোর্ডের ওপর নির্ভর।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘ভালো মানের বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী বাড়ছে, যেখানে সমস্যা আছে সেখানে কমছে।’ কার্যকর নজরদারি ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে শহর-গ্রামের শিক্ষার বৈষম্য আরো বাড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/২৪/১০/২০২৫
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
