এইমাত্র পাওয়া

বিদ্যালয় না গিয়ে তামাক চাষ, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মা মলার নির্দেশ

বান্দরবানঃ বান্দরবানে তিন বিদ্যালয়ের ১৩ শিক্ষকের বিরুদ্ধে বেতন-ভাতা পাচারের অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক থানজামা লুসাই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন না, তবু বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন।

জানা গেছে, আলীকদমের রেংপুং হেডম্যানপাড়া, রাইতুমণি পাড়া এবং মেনকিউ মেনকপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মোট ১৩ জন শিক্ষক এই অভিযোগের অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয় বাসিন্দা ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য যাচাই করতে জেলা পরিষদ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল। কমিটি তদন্তের পর প্রাপ্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ সত্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষকরা নিজেরা কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকে বর্গা শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন এবং তামাক চাষসহ বিভিন্ন ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। অভিযোগের বিষয়ে তাদের কেউ সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। তাই জেলা পরিষদ ১৩ শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা এবং প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

রাইতুমণিপাড়া বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মংসাথুই মারমা বলেন, ‘এক বছর প্রশিক্ষণে থাকার কারণে বিদ্যালয়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পর্কে জানি না। দুর্গম এলাকার কারণে সব শিক্ষকের জন্য নিয়মিত উপস্থিত থাকা কঠিন। তবে বিদ্যালয় বন্ধ হয়নি।’ মেনকিউ মেনকপাড়া বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক রাজিব ম্রো বলেন, ‘অতীতে পরিবেশ সুবিধাজনক ছিল না, বর্তমানে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে ফিরে এসেছে। নারী শিক্ষকদের সমস্যা এখনও রয়েছে, তাই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আগে বাস্তব অবস্থা বিবেচনা করা উচিত।’

আলীকদম উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানিয়েছেন, ‘দুর্গম এলাকার কারণে পরিদর্শন কঠিন হলেও জেলা পরিষদের তদন্তের পর শিক্ষা কার্যক্রমে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। ধীরে ধীরে সব বিদ্যালয় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে।’

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/২৪/১০/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.