নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: স্বতন্ত্র ‘মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর’ গঠনের সিদ্ধান্তে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি (বাসমাশিস)।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাসমাশিসের প্রধান সমন্বয়ক রেবেকা সুলতানা এবং মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ও এন্ট্রি পদে ৯ম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদের আহ্বায়ক ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, ঢাকা অঞ্চল, ঢাকার উপপরিচালক ড. মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ দেশের সচেতন মহলের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তাঁরা বলেন, “এই সময়োপযোগী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি প্রশাসনিক কাঠামোকে আরও সুসংগঠিত ও দক্ষ করে তুলবে।”
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে ন্যায়ভিত্তিক নীতি ও প্রশাসন ব্যবস্থার মাধ্যমে শিক্ষা খাতকে এগিয়ে নিতে সরকারের প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ সমর্থন জানায় বাসমাশিস।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০০৩ সালে প্রফেসর মনিরুজ্জামান মিয়া শিক্ষা কমিশনের সুপারিশ, পরবর্তী সময়ে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প ও গবেষণা প্রতিবেদনে ‘মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর’ ও ‘উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা অধিদপ্তর’ পৃথকভাবে গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখে অনুষ্ঠিত সচিব সভায় মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা সংস্কার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দিলে, সেই ধারাবাহিকতায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ দুটি পৃথক অধিদপ্তর—‘মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর’ ও ‘কলেজ শিক্ষা অধিদপ্তর’—গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়।
এ ছাড়া সমিতির সমন্বয়ক আব্দুস সালাম বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কলেজ এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (সিইডিপি) কর্তৃক সকল অংশীজনকে নিয়ে আয়োজিত Impact Analysis on Education Governance and Management শীর্ষক জাতীয় কর্মশালা এবং প্রাপ্ত সুপারিশের ভিত্তিতে ‘বিয়াম ফাউন্ডেশন গবেষণা ও পরামর্শ সেবা কেন্দ্র’ (বিএফআরসিএসসি) এর প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদনে শিক্ষা প্রশাসন ব্যবস্থাপনার বর্তমান কাঠামোর পরিবর্তে ‘মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর’ এবং ‘উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা অধিদপ্তর’ হিসেবে দুটি পৃথক অধিদপ্তর সৃজনের পরামর্শ প্রদান করা হয়।
তিনি আরও বলেন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের জানুয়ারি ২০২৫-এর প্রতিবেদনে বাংলাদেশের শিক্ষা সার্ভিসের সংস্কারের জন্য প্রস্তাবিত বিশেষ সুপারিশের আলোকে, সর্বোপরি মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে ‘মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর’ এবং ‘কলেজ শিক্ষা অধিদপ্তর’—এই দুটি অধিদপ্তরে বিভক্ত করার প্রস্তাব করা হয়।
এইসব রিপোর্ট ও সুপারিশের আলোকে ‘মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর’ এবং ‘কলেজ শিক্ষা অধিদপ্তর’ গঠনের পদক্ষেপের জন্য শিক্ষক সমাজ মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, শিক্ষা উপদেষ্টা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি (বাসমাশিস)।
বাসমাশিসের নেতা তানভীর আহমেদ বলেন, “স্বতন্ত্র মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা মাধ্যমিক শিক্ষার ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায়। এটি শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তব রূপ। আমরা আশা করছি, এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার বাকি কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে।”
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সচিবের দপ্তরে উপস্থিত হয়ে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন: মোঃ আব্দুল খালেক, জেলা শিক্ষা অফিসার, নরসিংদী; মোঃ কামাল উদ্দিন, শিক্ষক নেতা ও সিনিয়র শিক্ষক, নবাব ফয়জুন্নেসা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কুমিল্লা; মোঃ মনজুরুল হক, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক নেতা, বাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা; মোঃ মাহফুজুল হক, সিনিয়র শিক্ষক ও শিক্ষক নেতা, শেরপুর ভিক্টোরিয়া একাডেমি, শেরপুর; মোহাম্মদ আমির হোসেন, জেলা শিক্ষা অফিসার, মানিকগঞ্জ; একেএম আব্দুল্লাহ, সাবেক উপপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, সিলেট; আবুল কাশেম মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, সিনিয়র শিক্ষক ও শিক্ষক নেতা, বিদ্যাময়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ময়মনসিংহ; মোঃ আব্দুল হাকিম, সিনিয়র শিক্ষক ও শিক্ষক নেতা, লালমনিরহাট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়; সহকারী প্রধান শিক্ষক মোঃ তাজুল ইসলাম; সিনিয়র শিক্ষক আবু হাসানাত মোঃ আনিছুর রহমান; সিনিয়র শিক্ষক মোঃ আশরাফ মিয়া; সিনিয়র শিক্ষক মোঃ আব্দুল কাদের; সিনিয়র শিক্ষক মোঃ ইসমাঈল; এবং সিনিয়র শিক্ষক আব্দুর রেজ্জাক।
এই সাক্ষাৎকালে উপস্থিত শিক্ষক নেতৃবৃন্দ শিক্ষকদের বকেয়া টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের বিষয়ে শিক্ষা সচিব মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। শিক্ষা সচিব মহোদয় শিক্ষকদের বকেয়া টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।সিনিয়র শিক্ষক আব্দুর রেজ্জাক।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
