এইমাত্র পাওয়া

ভর্তিতে ‘লটারি সিস্টেম’: মেধা বিকাশের পথ রুদ্ধ হচ্ছে না তো?

রেজাউল ইসলাম: বাল্যকালে আমরা মেধাবী শিক্ষার্থীরা একে অপরের সাথে প্রতিযোগিতা করতাম পড়ালেখা করে পরবর্তী শ্রেণিতে প্রথম হওয়ার জন্য, পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়ার জন্য। আর একটু বয়স বাড়লে চিন্তা করতাম আরও কত ভালো করে পড়ালেখা করলে জেলা শহরের সেরা কলেজটিতে ভর্তির সুযোগ পাওয়া যাবে। আরও একটু বয়স হলে আঁটঘাট বেঁধে দেশের শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির মহারণে ঝাঁপিয়ে পড়তাম। জীবনের এসকল শ্বাসরুদ্ধকর প্রতিযোগিতায় আমরা অনেক সময় সফল হতাম, আবার অনেক সময় ব্যর্থও হতাম। কিন্তু ব্যর্থ হলেও সেসকল প্রতিযোগিতা আমাদের অনেক কিছু দিত। জীবনব্যাপী শেখার স্পৃহা তৈরি করে দিত, জীবনের কঠিন সময়েও হার না মানার মানসিকতা তৈরি করে দিত। সার্বিকভাবে এসব প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের পড়ালেখার মান উন্নত করতে অপরিসীম ভূমিকা পালন করত।

সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেয়ে জেলা শহরের একটি স্বনামধন্য বিদ্যালয়ে চাকরির সুবাদে সেই একই চিত্র আমি ঐ শহর এবং তার আশেপাশের গ্রামগুলোতে দেখেছিলাম। শহরের সেরা ঐ বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থী হওয়ার জন্য সেখানকার কোমলমতি শিশুদের মধ্যে সে কী প্রতিযোগিতা! কেউ তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তির জন্য প্রতিযোগিতায় নেমেছে, আবার কেউ ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হতে চায়। খুবই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। শহরের অসংখ্য ভর্তিইচ্ছুক শিক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র কিছুসংখ্যক ওখানে ভর্তির সুযোগ পাবে। তাই নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণের প্রশ্নে কেউ ছাড় দিতে চায় না। রাতদিন লেখাপড়া আর লেখাপড়া! চান্স যে পেতেই হবে। সেখানকার বাবা-মায়েরাও সন্তানদের মধ্যে পড়ালেখার এমন সুস্থ প্রতিযোগিতা দেখে সবসময় উৎসবমুখর পরিবেশে থাকতেন।

বদলি জনিত কারণে জেলা শহর থেকে এরপর যেতে হলো উপজেলা শহরে। ওমা, সেখানেও সেই একই দৃশ্যপট! উপজেলার সব বাচ্চারাই সেখানকার সেরা বিদ্যালয়টিতেই পড়তে চায়। এর জন্য রাতদিন তাদের কী পরিমাণ খাটুনি! ভালো করে প্রস্তুতি নিয়ে ভর্তি পরীক্ষায় বসতে হবে- যাতে তার পছন্দের বিদ্যালয়টি কোনোক্রমেই হাতছাড়া হয়ে না যায়। আমার দেখা সেই অভিজ্ঞতার মতো বাস্তবেই পুরো দেশজুড়ে একসময় এদেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে মেধার তীব্র প্রতিযোগিতা চলত। ক্রমাগত অনুশীলন ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে দেশের শ্রেষ্ঠ মেধাবী বাচ্চারাই সেখানে জায়গা করে নিত। এতে করে দেশের সবচেয়ে মেধাবীরা যেমন সম্পূর্ণ সরকারি খরচে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা অর্জন করতে পারত, সেইসাথে দেশের সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীরা একজায়গায় এসে একটা প্রকৃত শিক্ষা-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে পারত। কিন্তু হঠাৎ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটা আদেশের মাধ্যমে কোমলমতি এসব মেধাবী শিক্ষার্থীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা মেধা যাচাই ও বিকাশের প্রতিযোগিতা হারিয়ে গেল! মেধাবী শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাইয়ের সু্যোগ দেওয়ার পরিবর্তে তাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হলো ‘লটারি’ নামক ভাগ্যের খেলা! অর্থাৎ, একজন শিক্ষার্থীর পাহাড়সম মেধা থাকা সত্ত্বেও সে লটারিতে না টিকলে সেরা বিদ্যাপীঠে ভর্তি হতে পারবে না।

আচ্ছা, আপনি কেমন বোধ করবেন যদি আগামীকাল সকালে ঘুম থেকে উঠে খবরের কাগজে দেখেন যে, এখন থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে লটারির আয়োজন করা হবে? অর্থাৎ, লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হবে। আপনার কাছে নিশ্চয় ধারণাটি অস্বাভাবিক লাগবে। একজন শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিক হিসেবে কিছুটা হলেও আপনি বিস্মিত হবেন। কারণ, বিশ্ববিদ্যালয় হলো একটা দেশের সবচেয়ে মেধাবীদের জায়গা। আর লটারির মাধ্যমে মেধাবীদের বাছাই করা যায় না। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে এমনটি কখনো না ঘটলেও, বাংলাদেশের মাধ্যমিক শিক্ষায় এমনটি ঘটেছে ২০২০ সালে। আর সেই থেকে এমন আজব নিয়ম এখনো চালু আছে শিক্ষার অতি গুরুত্বপূর্ন এই স্তরে।

২০২০ সালে করোনা ভাইরাস নামক একটা অতিমারি সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়লে মানুষের ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম-সহ সব ধরনের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। মানুষ অফিসের কাজ করবে কি, ঘরের বাইরেই বের হতে পারে না।এতে করে গোটা মানব সমাজেই একটা বিরাট স্থবিরতা নেমে আসে। বাংলাদেশও সেই অতিমারির ছোবলে ক্ষতবিক্ষত হয়। দেশের সকল প্রতিষ্ঠান কার্যত অচল হয়ে পড়ে। সবাইকেই তখন বাধ্যতামূলক সামাজিক দূরত্ব মেনে চলতে হয়। দেশের অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মতো শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও তাদের কার্যক্রম অতি সীমিত আকারে নামিয়ে আনে। এরই একটি ছোট্ট উদাহরণ হচ্ছে, মাধ্যমিক বিদ্যালয় সমূহে শিক্ষার্থী ভর্তির নিমিত্তে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ভর্তি পরীক্ষা প্রথার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করার সিদ্ধান্ত। সিদ্ধান্তটি সেই সময় তুমুল বিতর্কের জন্ম দিলেও, তখনকার পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের আপামর জনসাধারণ সেটা মেনে নিয়েছিলেন।

কিন্তু, পরবর্তীতে দেশের মানুষ অত্যন্ত বিস্মিত হয়ে লক্ষ্য করলেন যে, এমন একটি অসার, অকার্যকর ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত করোনা উত্তর বাংলাদেশেও বহাল তবিয়তে টিকে রয়েছে! যেখানে সিদ্ধান্তটি নেওয়াই হয়েছিল কেবলমাত্র করোনা অতিমারির সময় সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিমিত্তে, সেখানে লটারির মতো একটা মেধা বিনষ্টকারী প্রথা কীভাবে করোনা পরবর্তী বাংলাদেশেও বিদ্যমান থাকে! ২০২০ সালে করোনা ভাইরাসের দোহাই দিয়ে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি এই অনাকাঙ্ক্ষিত নিয়মটি চালু করলেও পরবর্তীতে নিয়মটি বাতিল না করে বরং সেটিকে স্থায়ীকরণের ঘোষণা দেন। সেই থেকে নিয়মটি এখনো বলবৎ আছে দেশের হাজারো মেধাবী শিক্ষার্থীকে নিরবে নিভৃতে কাঁদিয়েই।

এটা স্বাভাবিক যে, দেশের সবচেয়ে মেধাবীরাই দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠগুলোতে পড়বে। এটাই বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত প্রথা। কারণ, একমাত্র শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠগুলোই পারে দেশের শ্রেষ্ঠ মেধাবীদের লালন-পালন করতে, জ্ঞান বিতরণ করতে। একমাত্র শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠগুলোতেই মেধার মূল্যায়নের যথার্থ অবকাঠামো ও সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া, একজন অসম্ভব মেধাবী শিক্ষার্থীর মধ্যকার সুপ্ত মেধার পরিপূর্ণ বিকাশ ঘটাতে তার চারপাশে মেধাবী মানুষদের বলয় তৈরি করে দিতে হয়। আর এ ধারণা থেকেই কিন্তু আজকের বিশ্ববিদ্যালয়ের সৃষ্টি। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একজন শিক্ষার্থী যতটুকু না তার শিক্ষকদের কাছ থেকে শেখে, তার চেয়ে বেশি শেখে তার সহপাঠীদের কাছ থেকে। এখন যদি রাষ্ট্রের উপর-পর্যায়ের জরুরি এক সিদ্ধান্তে ঘোষণা করা হয় যে, দেশের সকল উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ভর্তিতে আর ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে না, বরং তার পরিবর্তে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হবে, তাহলে কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সার্বজনীন ধারণাটিই আর থাকে না।

এমন হটকারী সিদ্ধান্ত চালু হলে কিন্তু আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যশোর এম. এম. কলেজের মধ্যে কোনো পার্থক্য থাকে না। পৃথিবীর সকল দেশে এমন হাস্যকর সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে কিন্তু আজ অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজ, স্ট্যানফোর্ড, এমআইটি’র মতো পৃথিবীর বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আর আলাদা করে জানার দরকার মানুষের পড়ত না। এই সকল প্রতিষ্ঠানে পৃথিবীর সেরা সেরা শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পায় বলেই এরা পৃথিবীর সেরা গ্রাজুয়েট বের করে আনতে পারে এবং এ কারণেই তারা বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করে। এখন যদি হঠাৎ করে এসব পৃথিবী বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হয়,আর সেই লটারির মাধ্যমে যদি মোট শিক্ষার্থীর মাত্র পাঁচ বা দশ শতাংশ মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পায়, তাহলে বাকি পঁচানব্বই বা নব্বই শতাংশ মেধাহীন শিক্ষার্থীর ভিড়ে এই অল্প কতক মেধাবীও কিন্তু জ্ঞান চর্চার ক্ষেত্র থেকে ছিটকে যায়। এজন্য একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর সাথে আর একজন মেধাবী শিক্ষার্থীকে রেখে জ্ঞান চর্চার পথকে আরো সুগম করতেই বিশ্ববিদ্যালয় নামক ধারণার সূচনা হয়।

দেশের উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রতিথযশা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো মাধ্যমিক পর্যায়েও কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে যেগুলোকে বলা হয়ে থাকে দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের আঁতুড়ঘর। মাধ্যমিক পর্যায়ের এসব খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেমন আছে, তেমনি আছে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আছে গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুল, ঢাকা, ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়, আজিমপুর সরকারি বালক ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মতিঝিল সরকারি বালক ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, দেশের সকল বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ের সরকারি হাইস্কুল ইত্যাদি। মাধ্যমিক পর্যায়ের খ্যাতনামা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আছে ভিকারুননিসা নুন স্কুল, আইডিয়াল স্কুল, সেন্ট জোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সেন্ট গ্রেগরি উচ্চ বিদ্যালয়, হলিক্রস গার্লস হাই স্কুল,রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল ইত্যাদি। মাধ্যমিক পর্যায়ের এসকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এ যাবৎ বহু জ্ঞানী-গুণী মানুষ তৈরি হয়েছে। কারণ, দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীদের মধ্যে জ্ঞান বিতরণ ও জ্ঞান চর্চায় তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর রয়েছে সর্বোচ্চ প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও শিক্ষার সহায়ক পরিবেশ।

কিন্তু, হঠাৎ একটা কালো আইন বলে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো রাতারাতি তাদের গৌরবোজ্জ্বল পরিচয় হারাতে বসেছে। এখন লটারি নামক এক ভাগ্যের খেলায় গড়পড়তা মানের শিক্ষার্থী ভর্তি করিয়ে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ভাগ্য নিয়েই ছিনিমিনি খেলা হচ্ছে। মাত্র কয়েক বছর আগেও এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কী মানের শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারত, আর এখন কী মানের শিক্ষার্থী সেখানে ভর্তি হচ্ছে- এসব নিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের শিক্ষানুরাগী ও সুধীজনদের আক্ষেপের অন্ত নেই। এখন লটারি নামক এক অশুভ দৈত্যের আবির্ভাবে দেশের জন্মগত মেধাবীরা তাদের যোগ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারছে না। তারা ভাগ্যের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে তাদের মানের চেয়ে অনেক নিম্নমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়তে বাধ্য হচ্ছে। এতে করে তারা না পাচ্ছে তাদের মানের সহপাঠী, না পাচ্ছে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ও অবকাঠামো। এভাবে দেশের এই মেধাবী সন্তানরা শিক্ষার সুষ্ঠু একটা পরিবেশের অভাবে জ্ঞান চর্চার ক্ষেত্র থেকে অকালেই ছিটকে পড়ছে। তারা প্রস্ফুটিত করতে পারছে না তাদের জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও সৃজনশীল সম্ভাবনাগুলোকে।

একটি দেশ বা জাতির মধ্যে অগণিত মেধাবী সন্তানের জন্ম হয় না। জন্মগত মেধাবী মানুষের সংখ্যা সব কালেই এবং সব দেশেই খুব সীমিত থাকে। আর একটা দেশ সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে চালাতে এই অল্প সংখ্যক মেধাবী মানুষের জন্য শিক্ষার সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারাই যথেষ্ট। কিন্তু, এসব মেধাবী সন্তানদের দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষিপ্তভাবে ছেড়ে দিলে তাদের মেধার যথার্থ বিকাশ ঘটবে না। বরং এই সকল মেধাবী শিক্ষার্থী যাতে এক জায়গায় জড়ো হতে পারে এবং একে অপরের বুদ্ধিদীপ্ত চিন্তা-ভাবনা আদান-প্রদান করতে পারে-সেই ব্যবস্থা করতে হবে। এ লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ে প্রয়োজনে আরো ভালো ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যেতে পারে। কিন্তু, শিক্ষার্থী ভর্তিতে লটারির মতো কালাকানুন করে দেশের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মেধাবীদের মেধা নষ্টের পরিকল্পনা জাতির জন্য শুভ কোনো ফল বয়ে আনবে না।

লেখক:  সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি), নারিন্দা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, ঢাকা।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.