ছাপরা ঘরে চলছে প্রাথমিকের পাঠদান, বৃষ্টি হলেই ছুটি

পাবনাঃ গ্রামের ঈদগাঁ মাঠে একটি ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের ছাপরা ঘর। নেই জানালা-দরজা। সেখানে একসঙ্গে চলছে তিনটি শ্রেণির ক্লাস। ছাপরা ঘরে নেই শিক্ষকদের বসার জায়গা। নেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রাখার ব্যবস্থাও। ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই চার দিক থেকে পানি এসে ভিজে যায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। ফলে বন্ধ হয়ে যায় ক্লাস। তখন ছুটি দিতে হয়। এ অবস্থা পাবনার ফরিদপুর উপজেলার মাদারজানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের।

সরেজমিনে দেখা যায়, ছাপরা ঘরে আলাদাভাবে বেঞ্চ পেতে বিভিন্ন শ্রেণির ক্লাস নিচ্ছেন শিক্ষকরা। খোলা ক্লাসেই শিক্ষার্থীরা পাঠ নিচ্ছে। তার মধ্যেই শিক্ষকদের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। শ্রেণিকক্ষ না থাকায় বিদ্যালয়ে দিন দিন কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চিত্ত সরকার জানান, এ বিদ্যালয়ে বর্তমান ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা ৮২ জন। অথচ এ বছরের জানুয়ারিতে ছাত্রছাত্রী ছিল ১১২ জন। নানা প্রাকৃতিক কারণে মাঝেমধ্যেই ক্লাস ছুটি দিতে হয় বলে অনেক অভিভাবক তাদের ছেলেমেয়েদের অন্য বিদ্যালয়ে নিয়ে গেছে। তিনি জানান, বিদ্যালয় ভবন নির্মাণকাজে ধীরগতির কারণে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্কুলের সাবেক সভাপতি ও জমিদাতা খন্দকার কাওসার হোসেন বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ না হলে অভিভাবকরা তাদের ছেলেমেয়েদের এ স্কুলে ভর্তি না-ও করাতে পারে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খ ম জাহাঙ্গীল হোসেন বলেন, বিদ্যালয়টিতে গত বছরের ১০ মে তিন রুমের একটি নতুন বিল্ডিং নির্মাণকাজ শুরু হয়। এক বছরের মধ্যে এর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত ৭০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমানে কাজ চলছে ধীর গতিতে।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মো. আজিজুর রহমান বলেন, সময়মতো কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারকে কয়েক বার তাগাদাপত্র দেওয়া হলেও কাজ শেষ করেনি। উপরন্তু ঠিকাদার সময় বাড়িয়ে চেয়ে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ে আবেদন করেছে।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/২৯/০৯/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.