প্রস্তাবিত সেন্ট্রাল বিশ্ববিদ্যালয়: উদ্বেগ জানিয়ে ঢাকা কলেজ শিক্ষকদের ১১ দফা দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: রাজধানীর আলোচিত ৭ কলেজ নিয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার প্রতিবাদে মানববন্ধন করছেন বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার সমিতির ঢাকা কলেজ ইউনিটের নেতারা।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা কলেজের মূল গেটের সামনে এ মানববন্ধন করেন তারা। শিক্ষা ক্যাডাররা বলেন, সাত কলেজকে পরীক্ষাগার বা গিনিপিগ বানিয়ে কোনো পরীক্ষামূলক বিশ্ববিদ্যালয় মডেল চাপিয়ে দেয়া যাবে না। উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য হবে না। এ ছাড়াও তারা এ সময় ১১ দাবি জানান।

শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা বলেন, আমরা দেখতে পেলাম যে আমাদের উদ্বেগকে কোনো আমলে না নিয়েই ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৫’ খসড়া প্রকাশিত হয়েছে। প্রস্তাবিত খসড়ায় ৭ কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী, কলেজে কর্মরত শিক্ষক ও কর্মচারীদের স্বার্থ চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডর কর্মকর্তারা ১১ দাবি উত্থাপন করেন, ৭ কলেজের নাম বা কাঠামো পরিবর্তন করে কোনো অনুষদে বা স্কুলে রূপান্তর করা যাবে না। অর্থাৎ কলেজ কাঠামোর মৌলিক রূপ ভেঙে অনুষদভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা যাবে না। কলেজের লোগোসহ স্থাবর ও অস্থাবর সকল সম্পত্তি স্ব-স্ব কলেজের নামে অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। কোনোভাবেই জোর করে এসব সম্পদের মালিকানা প্রভাবিত সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি নামে হস্তান্তর গ্রহণযোগ্য নয়।

বর্তমানে পাঠদান করা হয় না-এমন কোনো নতুন বিষয় সংযোজন করে শিক্ষার্থীদের অযথা ভোগান্তিতে ফেলা যাবে না। বিদ্যমান কোনো বিষয় বিয়োজন করা যাবে না। বিশেষত আরবি ও ইসলাম শিক্ষা বাদ দেওয়ার চেষ্টা ইসলাম বিদ্বেষের সামিল এবং তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রয়োজনে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস অবশ্যই পৃথক স্থানে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

সাত কলেজকে পরীক্ষাগার বা গিনিপিগ বানিয়ে কোনো পরীক্ষামূলক বিশ্ববিদ্যালয় মডেল চাপিয়ে দেয়া যাবে না। সাত কলেজকে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধীনে রাখা হলেও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হবে এবং সব পদে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশে সব প্রশাসনিক পদ ও শিক্ষক হিসেবে শুধুমাত্র বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যদের নাম স্পষ্ট ও এককভাবে উল্লেখ করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশে সব প্রশাসনিক পদ ও শিক্ষক হিসেবে শুধুমাত্র বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের সদস্যদের নাম স্পষ্ট ও এককভাবে উল্লেখ করতে হবে।

সাত কলেজ সরকারের বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হওয়ায় এর সাংগঠনিক কাঠামো পরিবর্তনের আগে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত গ্রহণ ও যৌক্তিকতা যাচাই করা আবশ্যক। এজন্য প্রস্তাবিত খসড়া অধ্যাদেশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার, ইউনিভার্সিটি শিক্ষক, আইন পেশাজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন রিভিউ কমিটির মাধ্যমে পর্যালোচনা করতে হবে।

ঢাকা কলেজসহ ৫টি কলেজ দীর্ঘদিন ধরে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করে আসছে। তাই উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের ন্যূনতম স্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য হবে না।

সাত কলেজে ইতোমধ্যেই উচ্চশিক্ষার ব্যাপক সংকোচন করা হয়েছে। বিশেষত ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা কলেজ বহু বছর ধরে নারীদের জন্য নিরাপদ ও সাশ্রয়ী উচ্চশিক্ষার সুযোগ প্রদান করে আসছে। প্রস্তাবিত কাঠামোয় নারী শিক্ষার ব্যাপক সংকোচনের পরিকল্পনা স্পষ্ট, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। সাত কলেজে কর্মরত কোনো কর্মচারীর চাকরি বা অন্য কোনো স্বার্থ ক্ষুন্ন করা যাবে না।

প্রভাবিত কাঠামো অনুযায়ী বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার সদস্যরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রশাসনিক কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই যেসব শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, তাদের পরীক্ষা গ্রহণের কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

এমন পরিস্থিতিতে, খসড়া অধ্যাদেশের সর্বস্তরে কেবলমাত্র বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার সদস্যদের অবস্থান নিশ্চিত না করলে তারা ঢাকা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করবে না। তবে যেসব শিক্ষাবর্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত নয়, তাদের কার্যক্রম যথারীতি চলমান থাকবে।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম 


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.