ঢাকাঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরীণ পরিবহন সেবা ‘শাটল সার্ভিস’ বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আপত্তি করছেন শিক্ষার্থীরা। অ্যাকাডেমিক ভবন থেকে যেসব শিক্ষার্থীর হলের অবস্থান তুলনামূলক দূরে, তারা এ বিষয়ে রীতিমতো ক্ষুব্ধ।
‘গ্রিন ফিউচার ফাউন্ডেশন’ এসব সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাদের এই কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
শনিবার (২৩ আগস্ট) চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. জসীম উদ্দিনের ‘গ্রিন ফিউচার ফাউন্ডেশন’ এর চেয়ারম্যান বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আমরা বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পেরেছি আপনার সংগঠন গ্রিন ফিউচার ফাউন্ডেশন দ্বারা যেসব সেবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রদান করা হচ্ছে সেগুলো ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে। এমতাবস্থায়, ২৩ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আপনার এই সংগঠন দ্বারা সব ধরনের সার্ভিস/ ইনক্লুডিং ইলেকট্রিক শাটল সার্ভিস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বন্ধ রাখার জন্য আপনাকে অনুরোধ করছি।
নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশের ফলে আজ ক্যাম্পাসে শাটল সার্ভিস বন্ধ রয়েছে সকাল থেকে। ফলে বিপাকে পড়েছেন অ্যাকাডেমিক ভবন থেকে দূরে থাকা হলগুলোর শিক্ষার্থীরা।
সুফিয়া কামাল হলের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, শাটল আসে ১৫ মিনিট পরপর, ফলে আমাদের সুবিধা হয়। কিন্তু ভার্সিটির দেওয়া বাস আসে ১ ঘণ্টা পরপর, ফলে ক্লাসে আসতে দেরি হচ্ছে অথবা আগে চলে এসেছে কেউ কেউ। আবার শাটল না থাকায় বাসে ৫০ জনের জায়গা হলে ১০০ জন ওয়েট করছে। ফলে অনেকে জায়গা না পেয়ে আসতে পারেনি।
কুয়েত-মৈত্রী হলের ঋষিতা দেবনাথ বলেন, কোনো আগাম বিজ্ঞপ্তি ছাড়া এমন কাজ প্রশাসনের হটকারী সিদ্ধান্ত। দূরের হলগুলোতে থাকা শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা না করে প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের আজ সকালে আসতে যে ঝামেলা ভোগ করতে হয়েছে, সেটা তো আর প্রশাসন জানে না।
এ বিষয়ে চিফ রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. জসীম উদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্রিন ফিউচার ফাউন্ডেশন শাটল সার্ভিসের যারা যুক্ত তাদের অনেকে নির্বাচনী ক্যান্ডিডেট। তাদের এই সেবা নির্বাচনে যেন কোনো প্রভাব না ফেলে তাই এই সেবা বন্ধ রাখা হচ্ছে ।
রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর দেওয়া ভেন্ডিং মেশিন ও পানির ফিল্টার স্থাপন নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে, সে ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। গ্রিন ফিচারের বিষয়ে অভিযোগ এসেছিল বলে আমরা সেটি বন্ধ করেছি। যদি পানির ফিল্টার বা ভেন্ডিং মেশিনের বিষয়ে এমন কোনো অভিযোগ আসে তাহলে সেটিও আমরা সিল (বন্ধ) করে দেবো।
কার্যক্রম বন্ধ রাখার বিষয়ে গ্রিন ফিচার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খালিদ হাসান বলেন, এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা কতটুকু সেই বিশ্লেষণ নির্বাচন কমিশন এবং যিনি নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন যে,আমাদের কার্যক্রম নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে তার ওপর বিবেচনা জন্য ছেড়ে দিলাম। আমি শুধু বলবো এখানে যারা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে যুক্ত আছেন, এটা তাদের রুটি-রুজির বিষয় অনেকটা। আবার দূরের হলগুলোর শিক্ষার্থীরাও এটা দ্বারা উপকৃত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকে মাথায় রেখে আমরা এটা গত ১ বছর নিরবচ্ছিন্নভাবে করেছি। আমাদের কার্যক্রম এর ফলে সামগ্রিক ভাবে শিক্ষার্থীরা উপকৃত হচ্ছেন।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/২৪/০৮/২০২৫
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
