রংপুরঃ ইউজিসির নির্দেশ অমান্য করে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আবারও শিক্ষক নিয়োগের বোর্ড আয়োজন করছেন বলে জানা গেছে। ইউজিসির সুস্পষ্ট নির্দেশনা অমান্য করে উপাচার্য ড. শওকাত আলী একাই এই বোর্ডের তারিখ নির্ধারন করেন বলে জানা গেছে।
ইউজিসির সূত্র জানায়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের জন্য অনুসরনীয় গাইডলাইনসহ একটি পরিপত্র গত ২৮ মে ইউজিসি জারি করেন।
ইউজিসির অর্থ, হিসাব ও বাজেট শাখার পরিচালক রেজাউল করিম হাওলাদার স্বাক্ষরিত সেই পরিপত্রে স্পষ্টভাবে খন্ডকালীন ও শিক্ষা ছুটির বিপরীতে শিক্ষক নিয়োগ না দিতে বলা হয়। আর শিক্ষক নিয়োগ দিলেও সেক্ষেত্রে অবশ্যই মঞ্জুরি কমিশনের পূর্বানুমিত নিতে হবে। অন্যথায় এ খাতে বাজেট বরাদ্দ দেয়া হবে না বলেও পরিপত্রে সতর্ক করা হয়।
এই পরিপত্র জারি সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ইউজিসির পরিপত্রকে উপেক্ষা করে সামাজ বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষা ছুটির বিপরীতে একজন শিক্ষককে নিয়োগ প্রদানের জন্য আগামী রবিবার প্রার্থীদের এডমিট কার্ড ইস্যু করেন। রবিবার ইউজিসির নির্দেশ অমান্য করে নতুন একজন শিক্ষক এ বিভাগে নিয়োগ দেয়া হবে।
এছাড়া জানা যায়, উপাচার্যে নিজ ক্ষমতায় এই নিয়োগ বোর্ডে উপাচার্যের ঘনিষ্ঠ জাপানিজ স্টাডিজের একজন শিক্ষককে বোর্ডের এক্সপার্ট হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন, যা সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সাথে সামঞ্জস্য নেই। সমাজবিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের বোর্ডে না রেখে জাপানিজ স্টাডিজের শিক্ষককে বোর্ডে রাখায় এ নিয়েও বিতর্ক দেখা দিয়েছে। আগামী রবিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডের আয়োজন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জুলাই আন্দোলনের সামনের সারিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী এস এম আশিকুর রহমান বলেন, ২৪-এর এই বিপ্লব ও রক্তঝরানো গণঅভ্যুত্থানের পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডে ইউজিসির নির্দেশনা অমান্য করে বোর্ড গঠন কোনভাবেই কাম্য নয়। এটি শুধু শিক্ষার্থীদের ত্যাগ ও সংগ্রামের প্রতি চরম অবমাননা নয়, বরং দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার জন্য একটি বড় হুমকি। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং স্পষ্টভাবে প্রশাসনকে বলতে চাই, ২৪-পরবর্তী সময়েও যদি আপনারা স্বৈরাচারের মতো নিয়োগ বাণিজ্য এবং দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেন তবে তা রুখে দিতে আমরা ছাত্রজনতা প্রস্তুত। প্রয়োজনে সব অন্যায় এবং দুর্নীতিকে রুখে দিতে আবারও রাজপথে নামবো, তবুও কোন অন্যায়, দুর্নীতির স্থান এই বেরোবিতে হতে দেবো না।
এ বিষয়ে উপাচার্য ড.শওকাত আলী বলেন,আমি বিষয় টি জানার পর স্থগিত করে দিয়েছি। এটি আবার পরে হবে।
যোগাযোগ করা হলে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড.তানজিম উদ্দিন বলেন, খন্ডকালীন বা পূর্ণকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিতে হলে অবশ্যই অনুমতি নিতে হয়। আমি বিষয়টি দেখতেছি।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/১৪/০৮/২০২৫
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
