৪র্থ গ্রেডেই আটকে আছে শিক্ষা ক্যাডারের অধ্যাপকরা-সেমিনারে বক্তরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ বাংলাদেশের শিক্ষা ও শিক্ষক গণঅভ্যুত্থানের পর যথাযথ মনোযোগ পায়নি। শিক্ষকরা এখনও নিজেদের বৈষম্যের শিকার বলে মনে করেন। যিনি দেশের সাধারণ মানুষকে মানবসম্পদে পরিণত করে তোলেন তিনি ৪র্থ গ্রেডের পর আর কোন পদন্নোতি পান না। এমনকি কারিগরী শিক্ষা ও মেডিকেল শিক্ষায় অধ্যাপক পদ ৩য় গ্রেডের হলেও শিক্ষা ক্যাডারের অধ্যাপক পদ এখনও ৪র্থ গ্রেডে। যা চরম বৈষম্য বলে মনে করে বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশন। 

শনিবার (২ আগস্ট) বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের এর উদ্যােগে ঢাকা কলেজে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও শিক্ষা ক্যাডারের ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার ও আলোচনা সভায় এই বৈষম্যের কথা তুলে ধরেন বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ। 

সেমিনার ও আলোচনা সভায় বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মোঃ মজিবর রহমান এবং প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  একুশে পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ (পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞানী) প্রফেসর ড. জসীম উদ্দিন আহমেদ।

সেমিনারে বিসিএস জেনারেল এডুকেশন অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে লিখিত প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শিক্ষা ক্যাডারের এই সংগঠনটির সদস্য সচিব ড. মোঃ মাসুদ রানা খান।

প্রবন্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিসিএস (সাধারন শিক্ষা) ক্যাডারের ভূমিকা ও ভাবনা তুলে ধরা হয়। প্ৰায় দেড় হাজারের বেশি ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ এবং লক্ষাধিক আহতের বিনিময়ে ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারী আওয়ামী শাসন অবসানের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষ যে বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে সেই স্বপ্ন পূরণে বিসিএস (সাধারন শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তাবৃন্দ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে তা প্রবন্ধে তুলে ধরা হয়।

প্রবন্ধে আরো বলা হয় যে, বাংলাদেশের শিক্ষা ও শিক্ষক গনঅভ্যুত্থানের পর যথাযথ মনোযোগ পায়নি। শিক্ষকরা এখনও নিজেদের বৈষম্যের শিকার বলে মনে করেন। যিনি দেশের সাধারণ মানুষকে মানবসম্পদে পরিণত করে তোলেন তিনি ৪র্থ গ্রেডের পর আর কোন পদন্নোতি পান না। এমনকি কারিগরী শিক্ষা ও মেডিকেল শিক্ষায় অধ্যাপক পদ ৩য় গ্রেডের হলেও শিক্ষা ক্যাডারের অধ্যাপক পদ ৪র্থ গ্রেডে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহা- পরিচালকের পদ এক নম্বর গ্রেড হলেও সেখানে যাওয়ার কোন পদসোপান নেই। দীর্ঘদিন যাবত পদন্নোতি পান না শিক্ষা ক্যাডারে এমন কর্মকর্তার সংখ্যা অভাবনীয়। প্রভাষকগণ ১২ থেকে ১৩ বছর যাবত পদন্নোতি পান না যা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মানের স্পিরিটের সাথে বেমানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেন, এখনই সময় একটি মেধাবী জাতি তৈরী করার। এতে শিক্ষকদের ভূমিকা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সময় এসেছে তরুনদের শ্রেণীকক্ষে ফিরে যাওয়ার, দেশ গড়ার কারিগড় হিসাবে তৈরী করার। একটা অস্থির সময় পার করছে সবাই, যা বিচক্ষণতার মধ্যে দিয়ে পার করতে হবে। শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশ্বমানের মাপ কাঠিতে নিজেদের বিবেচনা করার জন্য কাজ করছে সরকার।

তিনি শিক্ষা ক্যাডারের বিদ্যমান বৈষম্য দূরীকরণে ভূমিকা রাখবেন বলে সেমিনারে উপস্থিত কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করেন।  

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০২/০৮/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.