।। বিন-ই-আমিন।।
দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত হচ্ছে শিক্ষা।এজন্যই শিক্ষাকেবলা হয় জাতির মেরুদন্ড । আর এ মেরুদন্ড দণ্ডায়মান রাখতে শিক্ষকদের মেরুদন্ডই ভেঙ্গে যায় যুগ যুগ ধরে। একটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরের মধ্যে শিক্ষা উপরে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে শিক্ষাক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন আইন কানুন চালিয়ে দেওয়া হয়। প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন কারিকুলাম চলে আসছে। প্রাথমিক শিক্ষা শিক্ষা ক্ষেত্রের মূল ভিত্তি।
একসময় বেসরকারি রেজিস্টার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি প্রাথমিকের সাথে একই কারিকুলাম বাস্তবায়ন করে আসছে। এক পর্যায়ে রেজিস্টার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো জাতীয়করণ করা হয়। বাকি থাকে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন সরকারের আমলে মাধ্যমিকের শিক্ষক কর্মচারীরা তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে আসছে। কিন্তু তাদের দাবী দাওয়া এবং জাতীয়করণ বিষয় কোন সরকারি কর্ণপাত করেনি। বেসরকারি রেজিস্টার বিদ্যালয়গুলো সরকারিকরণ হলেও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ নিয়ে সরকারের উদাসীনতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
মাধ্যমিক পর্যায়ের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শতকরা ৯৭ ভাগ ফলাফল উপহার দিয়েও কোন এক অদৃশ্য কারনে জাতীয়করণ বিষয়ে সরকারকে বুঝাতে ব্যর্থ হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো একই সিলেবাস পড়ানো হয়। আর পাবলিক পরীক্ষায় ফলাফলের দিক থেকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সবচেয়ে বেশি অবদান রেখে আসছে। সরকারি বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক পদোন্নতি পেয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার হয়। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে একই যোগ্যতা সম্পন্ন একজন শিক্ষক কাম্য যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা থাকলে সর্বোচ্চ প্রধান শিক্ষক হলেও বাড়ি ভাড়া ১হাজার টাকা ও চিকিৎসা পাতা ৫০০ টাকা পেয়ে আসছে। একজন পিয়ন যে টাকা বাড়িভাড়া পায় একজন প্রতিষ্ঠান প্রধানও সে পরিমাণ বাড়ি ভাড়া পায়।
বর্তমান সময়ে ১০০০ টাকায় একটি মুরগির ভাড়া পাওয়া না।তারপরও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মরত শিক্ষক কর্মচারীরা তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব আন্তরিকতার সহিত পালন করে আসছে। পরিতাপের বিষয় হল তাদের প্রতিমাসে ১০% হারে অবসর ও কল্যাণের যে টাকা কর্তন করা হয় তার কোন হিসাব কেউ জানে না। বিষয়টি অত্যন্ত পরিতাপের বলে আমি মনে করি। একজন শিক্ষক কর্মচারীর কষ্টার্জিত জমানো টাকা হিসাব জানতে পারবে না এটা কেমন কথা। এমনিতেই বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের দুর্দশার শেষ নেই।
প্রায় দুই যুগ শতকরা ২৫ ভাগ উৎসবভাতা পেয়ে আসছে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ। উৎসবেরও ভাগ হয় তাও আবার সিকি আনা। পৃথিবীর কোনো দেশে এরকম আছে বলে আমার জানা নেই।
বিভিন্ন সময়ে সরকারের দালালি করে শিক্ষক নেতারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছেন।সাধারণ শিক্ষকদের কথা ভাবেনি। অবসরপ্রাপ্ত ও সরকারের দালালি করা নেতাদের কারনেই বেসরকারি শিক্ষক সমাজ আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাছাড়া অবসরে গিয়েও অবসর সুবিধা থেকে বঞ্চিত থাকে বেসরকারি শিক্ষক। অবসরের ৪-৫ বছর পর তাদের প্রতি মাসের ১০% করে বেতন থেকে কেটে রাখা অবসর ও কল্যাণের টাকা পেতে বিরম্বনার শিকার হতে হয়। অনেকে না পাওয়ার বেদনায় পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে। অনেকে অন্ধ ও পঙ্গুত্ব বরন করে অসহায় ভাবে বৃদ্ধ বয়স অতিবাহিত করে।
আমরা এ অবস্থার পরিবর্তন চাই। আমরা চাই সরকারি অন্য সকল সেক্টরের ন্যায় আমাদের সকল সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হোক। আমাদের সারা জীবনের জমানো টাকার হিসাব আমাদের জানানো হোক।
শান্তিতে নোবেল বিজয়ী ও বর্তমান সময়ে পৃথিবীর সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি যিনি বাংলাদেশের চরম দুঃসময় দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, অর্থনৈতিকভাবে দেশকে স্বাবলম্বী করার চেষ্টা করছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মোহাম্মদ ইউনুস এবং অন্তর্বর্তী সরকারের শিক্ষা এবং অর্থ উপদেষ্টা মহোদয়ের প্রতি আবেদন শিক্ষকদের দুরবস্থা ও অবহেলার কথা চিন্তা করে তাদের প্রতি চলে আসা দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অন্যায় আচরণের অবসান হোক। অবহেলিত বেসরকারি শিক্ষক সমাজ তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাক এবং তাদের কষ্টার্জিত প্রতিমাসে অবসর এবং কল্যাণের টাকার যথাযথ হিসাব পেতে পারে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবেন এ আশা সকল বেসরকারি শিক্ষক সমাজের।।
লেখক:
বিন-ই-আমিন
সভাপতি, মাধ্যমিক শিক্ষক ফোরাম নলছিটি ও শিক্ষক,
নলছিটি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঝালকাঠি।
শিক্ষাবার্তা /এ/০৭/০৮/২০২৫
দেশ বিদেশের শিক্ষা, পড়ালেখা, ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সর্বশেষ সংবাদ শিরোনাম, ছবি, ভিডিও প্রতিবেদন সবার আগে দেখতে চোখ রাখুন শিক্ষাবার্তায়
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
