এইমাত্র পাওয়া

সন্তানের পিতৃ পরিচয় চেয়ে নারীর সংবাদ সম্মেলন

ঢাকাঃ সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবের ডিএনএ টেষ্ট রিপোর্টে মবিনা জান্নাত নিশ্চিত হয়েছেন যে তার আড়াই বছর বয়সের সন্তানের বাবার নাম মোকাদ্দেস হানিফ টলিন। আদালতও অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জানিয়ে দিয়েছে যে ওই সন্তানের পিতা তিনি। তারপরও মোকাদ্দেস হানিফ সন্তানের পিতৃত্বের পরিচয় মানতে নারাজ। একের পর এক হুমকি দিয়ে ওই নারীর জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছেন। বাধ্য হয়ে ওই নারী রাজধানীর নিউ ইস্কাটন রোডে একটি রেষ্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনে সন্তানের পিতৃ পরিচয়ের দাবি তুলে নিজের জীবনের নিরপত্তা চেয়েছেন।

তিনি দাবি করেছেন, আদাবরের এএনএইচ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোকাদ্দেস হানিফ টলিন তার সন্তানের পিতৃ পরিচয় অস্বীকার করে হুমকি দিয়ে যাচ্ছেন। সন্তানের পিতৃ পরিচয় না পেলে তার আত্মহত্যা করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।

সংবাদ সম্মেলনে মবিনা জান্নাত বলেন, ২০১৭ সালে পারিবারিকভাবে খোরশেদ আলম রোমেল নামে এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কিন্তু স্বামী রেমেলের হাতে দীর্ঘদিন মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে অবশেষে ২০২০ সালে তালাকপ্রাপ্ত হন। এরপর চাকরির সুবাদে পরিচয় ঘটে এএনএইচ গ্রুপের এমডি মোকাদ্দেস হানিফের সঙ্গে। তার অভিযোগ, হানিফ তার স্বামীর সঙ্গে দূরত্ব ও সংকটের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং পরবর্তীতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার একই কাজ করেন।

২০২২ সালের এপ্রিল মাসে মবিনা জানতে পারেন তিনি সন্তান সম্ভবা। কিন্তু মোকাদ্দেস বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন এবং সন্তানের দায় নিতে গড়িমসি করেন। এ অবস্থায় সন্তান জন্ম নিলে সামাজিক স্বীকৃতি ও আইনি নিরাপত্তা পাওয়ার আশায় তিনি ডিএনএ টেস্টের উদ্যোগ নেন।

ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, মোকাদ্দেস হানিফই তার সন্তানের পিতা। তারপরও হানিফ সন্তানের পিতৃত্ব স্বীকার করতে রাজি হননি বরং রাজনৈতিক যোগাযোগ ও ক্ষমতা ব্যবহার করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এমন কি বিশেষ একটি সংস্থা দিয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন বলে অভিযোগ করেন মবিনা।

মবিনা আরও জানান, মামলার পর মোকাদ্দেস হানিফকে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। কিন্তু এক সময়ের প্রভাবশালী ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সহযোগিতায় গত ৫ মে জামিনে বেরিয়ে যান হানিফ। এরপর থেকে মবিনাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি সন্তানের পিতৃপরিচয়ের জন্য লড়াই করছি। অথচ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, প্রাণনাশের হুমকি ও সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে।’

ভুক্তভোগী এই নারী বলেন, আমার আড়াই বছরের মেয়েটি জন্ম থেকে হার্টে একটি ছিদ্র রয়েছে । আর্থিক অভাবে তার চিকিৎসা চালাতে পারছি না। জরুরি ভিত্তিতে তাকে দেশের বাইরে নিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে। কিন্তু মোকাদ্দেস তার ক্ষমতা ব্যবহার করে আমাকে হয়রানি করছে। কিন্তু সন্তানের চিকিৎসার জন্য কোনো সহযোগিতা করছে না। বরং সে টাকা পয়সা খরচ করে আমাকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। এমন কি মোকাদ্দেসের স্ত্রী ও বোনও অতীতে আওয়ামী লীগের ক্ষমতাসীনদের ব্যবহার করে মবিনাকে হয়রানি ও হত্যার চেষ্টা করছে। বর্তমানে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের ব্যবহার করে মবিনা ও তার সন্তানকে হয়রানি করে আসছে।

মবিনা জান্নাত তার সন্তানকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য সহায়তা এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মহিলা ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমিন এস মুরশিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে এএনএইচ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকাদ্দেস হানিফ টলিনের সঙ্গে যোগাযোগা করা হলে তিনি বলেন, ‘এই সন্তান আমার। বিষয়টি পরবর্তীতে সুরাহ করব।’ এই বলে তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/২৫/০৫/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.