এইমাত্র পাওয়া

স্কুল সভাপতি আ’লীগ নেতার রোষানলে পড়ে মানবেতর জীবনযাপন প্রধান শিক্ষকের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকাঃ দুর্নীতি করতে সহযোগিতা না করায় সভাপতির কর্তৃক আ’লীগ নেতা-কর্মীদের হাতে নির্যাতনের শিকার, তাতেও কাজ না হওয়ায় কোন শোকজ না করে সাময়িক বরখাস্ত এবং পরে চূড়ান্ত বরখাস্ত করে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বোর্ড থেকে অনুমোদন নিয়ে চাকরিচ্যুত হওয়া প্রধান শিক্ষক মোঃ সিরাজুল ইসলাম মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বিচার চেয়ে ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে। আর সভাপতির সাথে মিলে মিশে দুর্নীতি করে কোন নিয়মের তোয়াক্কা না করে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ নেওয়া সহকারী প্রধান শিক্ষক রয়েছেন বহাল তবিয়তে। দেখাচ্ছেন ক্ষমতার দাপট। বলছিলাম বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলাধীন জামুন্না পল্লীবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের কথা।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জামুন্না পল্লীবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সিরাজুল ইসলাম  সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করায় বিদ্যালয়টির বাড়ে শিক্ষারমান, বৃদ্ধি পায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে স্কুলটি স্কুল এন্ড কলেজে  উন্নীত হয়। কিন্তু বিদ্যালয়টির তৎকালীন  সভাপতি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের দোসর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি দুর্নীতিবাজ  মোঃ খোরশেদ আলম কলেজ শাখার নিয়োগ বাণিজ্যে মেতে উঠেন। সভাপতির এসব নিয়োগ বাণিজ্যের প্রতিবাদ করায় প্রথমে সভাপতি তার ছেলে নূরে আলম নাহিদ এবং ফ্যাফিস্ট আওয়ামী লীগের ক্যাডারদের দিয়ে প্রধান শিক্ষক সিরাজুলকে মারধর করেন। তাতেও কাজ না হলে সভাপতির দুর্নীতিতে প্রত্যক্ষ সহযোগিতাকারী তৎকালীন সহকারী প্রধান শিক্ষক মোছাঃ নাজমুন নাহারের যোগসাজশে সভাপতি খোরশেদ আলম প্রধান শিক্ষক সিরাজুলকে বিনা নোটিশে সাময়িক বরখাস্ত করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে স্থায়ী বরখাস্ত করেন। গত ১২ মে ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনকে দিয়ে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে স্থায়ী বরখাস্ত অনুমোদন করে প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলামকে চাকুরিচ্যুত করেন। সভাপতির অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির প্রত্যক্ষ সহযোগিতাকারী সহকারী প্রধান শিক্ষক মোছাঃ নাজমুন নাহারকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ দেন। নাজমুন নাহার বিগত ১ জুলাই ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন। 

স্কুল সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলামকে বিধিবহির্ভুতভাবে বরখাস্ত করিয়ে তৎকালীন বগুড়া জেলা শিক্ষা অফিসারকে বাধ্য করে এমপিও শীট থেকে নাম কর্তন করান। সিরাজুল ইসলাম ন্যায় বিচার চেয়ে এবং তাকে বিধিবহির্ভুতভাবে বরখাস্ত করায়  হাইকোর্টে মামলা করেন। মামলা নম্বর ১৫৪৩৭/২২। মামলায় প্রধান শিক্ষকের বরখাস্তের আদেশের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। প্রধান শিক্ষক পদ নিয়ে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্থাতেই সহকারী প্রধান শিক্ষক মোছাঃ নাজমুন নাহারকে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ প্রদান করেন। মামলার বিষয়টি গোপন করে তৎকালীন মাউশির কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজসে নিয়োগ এবং  এমপিওভুক্ত করিয়ে নেন। 

এলাকাবাসী জানান, আদালত অবমাননা করে কিভাবে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব? সেই অসম্ভব কাজকে তারা সাধন করেছেন। আগের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলামকে সম্পন্ন আওয়ামী দোসরা বিধিবহির্ভুতভাবে কোন নিয়ম নিতি তোয়াক্কা না করে বরখাস্ত করেছেন। হাসিনা পালিয়েছে তার (সিরাজুল ইসলাম) ন্যায় বিচার পাওয়া উচিত। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুলটির কয়েকজন শিক্ষক বলেন, কোন প্রধান শিক্ষক অনিয়ম করলে তাকে শোকজ করার কথা। অথচ প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলামকে কোনো শোকজ না করেই সাময়িক বরখাস্ত করে এবং স্থায়ী বরখাস্ত করে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে। এখানে এমপিও নীতিমালা ও জনবল কাঠামোর কোন নিয়ম মানা হয়নি। এছাড়া মামলা চলমান থাকা অবস্থায় সেই পদে কিভাবে নিয়োগ দেওয়া হলো তা বোধগম্য নয়। এখানে আদালতের অবমাননা করা হয়েছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামুন্না পল্লীবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক মোছাঃ নাজমুন নাহারের মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাজাহানপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা  মাহবুবুল হোসেনের মুঠোফোনে কল করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। 

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০৭/০৫/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.