এইমাত্র পাওয়া

যে যে পরিবর্তন পাঠ্যবইয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক।। চলতি শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যবইয়ে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধ’ অধ্যায়ে প্রথমে রাখা হয়েছে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ছবি। একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে স্থান পেয়েছেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আর ‘রাজনীতিতে নারী’ শীর্ষক প্রবন্ধে যুক্ত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। নতুন সংযোজন ‘আমাদের চার নেতা’ অধ্যায়ে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে।

ইতিহাসের অংশ থেকে অতিবন্দনা-অতিকথন বাদ দেওয়া হয়েছে। আগে যাদের অবদান বই থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল এমন অনেকের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শিক্ষাবিদ, শিক্ষক ও অভিভাকরা অভিন্ন সুরে বলেন, ‘ক্ষমতার পালাবদলে বিগত চার দশকে পাঠ্যবইয়ে বহুবার পরিবর্তন এসেছে। সেখানে একপক্ষ খুশি হলেও অন্যপক্ষ সমালোচনায় মেতে উঠত। এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। অন্তর্বর্তী সরকার বইয়ে জাতীয় সব বীরের অবদানই নির্মোহভাবে তুলে ধরেছে। এতে খুশি অভিভাবক, শিক্ষকসহ সব পক্ষ।’

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্মকর্তারা বলেন, সময়ের স্বল্পতায় এবার কাজটি সুনিপুণভাবে করা পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। আগামী বছর আরও ‘সত্যনির্ভর ইতিহাস’ পাঠ্যপুস্তকে তুলে আনতে বদ্ধপরিকর অন্তর্বর্তী সরকার।

শিক্ষাবিদরা বলেন, পাঠ্যবইয়ে দলীয় রাজনীতির প্রভাব দীর্ঘদিনের। যখন যে রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থেকেছে, তখন তারা নিজেদের গুণগানে ভরিয়ে ফেলেছে। আওয়ামী লীগ সরকারে থাকাকালে এককভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কৃতিত্ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। সবশেষ আওয়ামী লীগের টানা ১৬ বছরের শাসনামলে সব জায়গায় ছিল শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার জয়গান। পাঠ্যপুস্তক থেকে একেবারে মুছে ফেলা হয় জিয়াউর রহমান, তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নাম। মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নেতা তাজউদ্দিন আহমেদের বিশেষ অবদানও ভুলতে বসেছিল শিক্ষার্থীরা। কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানীর অবদানকেও খাটো করা হয়েছিল। তাছাড়া মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনে অবদান রাখা অনেক বীর ছিলেন অপাঙ্ক্তেয়।

‘মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয়’ অধ্যায়ের নাম বদলে করা হয়েছে ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধ’। সেখানে শুরুতে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের একটি দৃশ্য। পুরোনো পাঠ্যবইয়ে ৭ মার্চের ভাষণে শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা উল্লেখ করা ছিল। নতুন পাঠ্যবইয়ে জাতির পিতা বাদ দেওয়া হয়েছে। লেখা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে এ বছর সাতটি গদ্য-পদ্য বাদ দেওয়া হয়েছে। বিপরীতে যুক্ত করা হয়েছে নতুন আটটি গদ্য-পদ্য। তৃতীয় শ্রেণির বইয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনী তুলে দিয়ে যুক্ত করা হয়েছে জাতীয় চার নেতার জীবনী। বাদ গেছে শেখ রাসেলকে নিয়ে লেখা ইংরেজি গদ্যও।

ব্রিটিশ শাসন থেকে বাংলার নবজাগরণ: পাঠ্যবইয়ে এবার ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় নিয়ে প্রায় সব শ্রেণিতে ইতিহাসনির্ভর গল্প-প্রবন্ধ রাখা হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বইতে চতুর্থ থেকে নবম-দশম পর্যন্ত এ বিষয়টি ক্রম বিস্তরভাবে আলোচনা করা হয়েছে। পঞ্চম শ্রেণিতে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে দ্বিতীয় অধ্যায়ে ব্রিটিশ শাসন ও তৃতীয় অধ্যায়ে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ শিরোনামে দুটি প্রবন্ধ রয়েছে। ব্রিটিশ শাসনের পটভূমি ও শুরুর ইতিহাস তুলে ধরে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার ঘটনা রাখা হয়েছে।

বাংলায় ব্রিটিশ শাসন শুরুর পর যারা ব্রিটিশবিরোধী জাগরণ ও বিদ্রোহ করেন তাদের অবদান সুনিপুণভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, নবাব আব্দুল লতিফ, সৈয়দ আমীর আলীর কথা রয়েছে। এ অধ্যায়ে বিশেষভাবে রাখা হয়েছে শহিদ তিতুমীর ও তার বাঁশের কেল্লা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। পরে ক্ষুদিরাম বসু, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, মাস্টারদা সূর্যসেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের অবদানগুলোও তুলে ধরা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের সূচনা ও স্বাধীনতা অর্জন: ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ঘটনাবহুল বিষয়গুলো প্রাথমিকের দুটি ও মাধ্যমিকের সব শ্রেণির বইয়ে রাখা হয়েছে। তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের (বাংলাদেশ) জনগণের ওপর জুলুম-নিপীড়নের চিত্র রয়েছে।

সালের ৬ দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচন নিয়েও আলোচনা রয়েছে। ১৯৭১ সালকে ইতিহাসের গৌরবময় ঘটনা উল্লেখ করে ২৫ মার্চের গণহত্যা, স্বাধীনতার ঘোষণা, ১০ এপ্রিলের অস্থায়ী সরকার গঠন এবং স্বাধীনতা অর্জনে বিশেষ অবদান রাখা সবার নাম রাখা হয়েছে।

পঞ্চম শ্রেণিতে ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ বইতে ‘আমাদের মুক্তিযুদ্ধ’ অধ্যায়ে ছয়টি ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। প্রথমে রাখা হয়েছে মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ছবি। তার পাশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি স্থান পেয়েছে। ভাসানী ও বঙ্গবন্ধুর ছবির নিচে কিছুটা ছোট করে জাতীয় চার নেতাÑসৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামারুজ্জামানের ছবি রাখা হয়েছে। একই অধ্যায়ে জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গণি ওসমানীর ছবিও রয়েছে। পুরোনো বইয়ে শুধু শেখ মুজিবুর রহমান ও জাতীয় চার নেতার ছবি রাখা হয়েছিল।

স্বাধীনতার ঘোষক ও অস্থায়ী সরকার: আওয়ামী লীগের আমলে পাঠ্যবইয়ে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমানকে দেখানো হয়েছিল। তাতে পরিবর্তন এসেছে। নতুন পাঠ্যবইয়ে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত সব অধ্যায়ে প্রায় একইভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে। পঞ্চম থেকে নবম-দশম শ্রেণির বইয়ে উল্লেখ রয়েছে, ‘…২৫ শে মার্চ রাতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। ২৬ শে মার্চ তারিখে মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা করেন। এরপর তিনি ২৭ শে মার্চ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবারও স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।’ পুরোনো বইয়ের সব জায়গায় এ অংশে ছিল ‘২৫ শে মার্চ রাতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে ২৬ শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ…।’

এদিকে, নবম-দশমের বইতে অস্থায়ী সরকার নিয়ে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে অস্থায়ী সরকারের কাঠামো ও দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম উল্লেখ রয়েছে। রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম রাখা হয়েছে। তাছাড়া অস্থায়ী সরকারের উপদেষ্টাদের নাম তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে প্রথমেই মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর নাম রয়েছে। আর মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি হিসেবে কর্নেল (অব.) এম এ জি ওসমানীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। চতুর্থ থেকে নবম-দশম পর্যন্ত সব শ্রেণির বইয়ে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক অধ্যায়ে ৭ মার্চকে ঐতিহাসিক হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। তাছাড়া ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতির ইঙ্গিত করেছিল, তা বর্ণনা করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি শ্রেণির বইয়ে ৭ মার্চে তর্জনী উঁচিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ দেওয়ার মুহূর্তের ছবি রাখা হয়েছে। অন্যদিকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণির ‘বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়’ পাঠ্যবইয়েও স্বাধীনতার ঘোষণার বিষয়টি রয়েছে। এ দুটি শ্রেণির বইয়ে মুক্তিযুদ্ধ শীর্ষক লেখায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা বীর উত্তম মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার ছবিও স্থান পেয়েছে।

নতুন সংযোজন ‘আমাদের চার নেতা’: তৃতীয় শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ে ‘আমাদের চার নেতা’ নামে নতুন একটি অধ্যায় যুক্ত করা হয়েছে। তাতে শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। তাদের কর্মজীবন ও অবদান নির্মোহভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

খুশি অভিভাবক-শিক্ষকরা: দলীয় রাজনীতি এড়িয়ে পাঠ্যবইয়ে বাংলা ও বাংলাদেশের জাতীয় অর্জনে সবার অবদান নিরপেক্ষভাবে তুলে ধরার বিষয়টি নিয়ে সন্তুষ্ট অভিভাবকরা। পাশাপাশি শিক্ষকরাও ইতিহাস পড়াতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন বলে জানিয়েছেন। মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহ সালমান তাজের মা রহিমা বেগম বলেন, ‘বই এখনো হাতে পাইনি। তবে অনলাইন থেকে আমি পিডিএফ কপি ডাউনলোড করে দিয়েছি। সেখানে দেখলাম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসগুলো। আমার কাছে মনে হয়েছে, আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে এবার নিরপেক্ষভাবে গল্প-প্রবন্ধে ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে। একপাক্ষিক বর্ণনা চোখে পড়েনি। বিষয়টি ভালো লেগেছে।’ রাজধানীর সরকারি স্কুলের ১০ জন শিক্ষক বলেন, ‘শিক্ষকজীবনে আমি তিন ধরনের ইতিহাস সংবলিত বই পড়িয়েছি। বিএনপি আমলের বই, এক-এগারোর সময়ের বই এবং আওয়ামী লীগের আমলের বই। তিন বইয়ে তিন রকম ইতিহাস। যখন ক্লাসে আমরা পড়াতে যাই, তখন এটা নিয়ে নিজেদের মধ্যে হীনমন্যতায় ভুগি। এবারের ইতিহাসের ধারাক্রম বর্ণনাটা বেশ নিরপেক্ষ ও সত্যনির্ভর মনে হয়েছে।’

আরও যত পরিবর্তন: দ্বিতীয় শ্রেণির বাংলা বইয়ে যুক্ত হয়েছে সিংহ আর ইঁদুরের গল্প। শেখ মুজিবুর রহমানের ওপর লেখা ‘সোনার ছেলে’ বাদ দিয়ে যোগ করা হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ওপর ‘দুখু মিয়ার জীবন’। ‘পহেলা বৈশাখ’ গদ্য করা হয়েছে ‘নববর্ষ’। বইয়ের ২৪ নম্বর পৃষ্ঠায় পদ্মা সেতুর ছবি পরিবর্তন করা হয়েছে। নববর্ষ অধ্যায়ে মঙ্গল শোভাযাত্রার ছবি বাদ দিয়ে নববর্ষের অন্য ছবি যুক্ত করেছে। তৃতীয় শ্রেণির বইয়ে সংযোজন হয়েছে ‘ঘাসফড়িং ও পিঁপড়ার গল্প’ এবং ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছেলেবেলা’। বাদ গেছে শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে লেখা গদ্য ‘সেই সাহসী ছেলে’। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বইয়ের তৃতীয় অধ্যায়ে ‘আমাদের জাতির পিতা’ বাদ দেওয়া হয়েছে। সেখানে স্থান পেয়েছে জাতীয় চার নেতাকে নিয়ে লেখা ‘আমাদের চার নেতা’। ইংরেজি বইয়ের শেষ অধ্যায়ে লেখা গদ্য ‘অ্যা ওয়ান্ডারফুল বয়’ বাদ গেছে। এতে শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ ছেলে শেখ রাসেলের জীবনী ছিল। চতুর্থ শ্রেণির বাংলা বই থেকে বাদ পড়েছে শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে মমতাজউদ্দীনের লেখা ‘বাংলার খোকা’ এবং নির্মলেন্দু গুণের কবিতা ‘মুজিব মানে মুক্তি’। যোগ হয়েছে ‘টুনুর কথা’ ও রজনীকান্ত সেনের কবিতা ‘স্বাধীনতার সুখ’। ‘মোবাইল ফোন’ নামক গদ্যও বাদ পড়েছে। সেখানে যুক্ত হয়েছে ‘বই পড়তে অনেক মজা’। নবম-দশম শ্রেণির ‘ইংলিশ ফর টুডে’ বই থেকে ইউনিট ওয়ান হিসেবে থাকা ‘ফাদার অব দ্য নেশন’ অধ্যায় বাদ দেওয়া হয়েছে। ‘সেন্স অব সেলফ’, ‘লোনলিনেস’ এবং ‘গ্রাফিতি’ নামে নতুন তিনটি অধ্যায় যুক্ত হয়েছে।

নতুন পাঠ্যবইয়ে ‘দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ’: গত সেপ্টেম্বর থেকে নতুন পাঠ্যবই মুদ্রণের কাজ শুরু করে এ পর্যন্ত একের পর এক বিতর্কের মুখে পড়েছে এনসিটিবি। জাতীয় সংগীত ও জাতীয় পতাকার ছবি পাঠ্যবইয়ের পেছনে যাওয়া, জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহিদ আবু সাঈদের মৃত্যুর তারিখ ভুলসহ বেশ কয়েক বার সমালোচনার মুখে পড়েছে এনসিটিবি। তবে সব বিতর্ককে ছাপিয়ে এবার নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। চব্বিশে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নৃশংসতা ও বর্বরতা চালানো দল আওয়ামী লীগকে দেশের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে পাঠ্যবইয়ে। এনসিটিবি কর্তৃক মুদ্রিত মাদ্রাসা বোর্ডের ও মাধ্যমিক স্তরের নবম-দশম শ্রেণির নতুন পাঠ্যবইয়ে পতিত আওয়ামী লীগকে সবচেয়ে পুরাতন ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষাবার্তা /এ/১০/০১/২০২৫


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.