আল আমিন হোসেন মৃধা: মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের নতুন পরিচালক পদে পদায়ন করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রশাসন ক্যাডারের উপসচিব মোঃ আবুল কালাম তালুকদারকে এই পদে পদায়ন করা হয়েছে। এতদিন এই পদে শিক্ষা ক্যাডার থেকে পদায়ন দেওয়া হতো। প্রশাসন ক্যাডারের পদায়ন দেওয়ায় আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের পদ হারালো শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা।
বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মামুন শিবলী স্বাক্ষরতি প্রজ্ঞাপনে তাকে এই পদে পদায়ন করা হয়।
জানা গেছে, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের দুইটি পরিচালক পদ। একটি পরিচালক প্রশাসন ও অর্থ ও অন্যটি পরিচালক প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের জন্মলগ্ন থেকেই পরিচালক দুইটির মধ্যে একটি প্রশাসন ক্যাডার থেকে আরেকটি শিক্ষা ক্যাডার থেকে পদায়ন দেওয়া হতো। এর আগে সরকার পতনের পর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) পদে প্রশাসন ক্যাডারের যুগ্মসচিব এইচ. এম. নূরুল ইসলামকে পদায়ন করা হয়। অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও উন্নয়ন) পদটি ফাঁকা ছিল। এতদিন এই পদে শিক্ষা ক্যাডার থেকে আসলেও এবার প্রশাসন ক্যাডারের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলো।
এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা। তারা বলেন, শিক্ষা প্রশাসনের পদগুলো একে একে প্রশাসন ক্যাডারের দখলে চলে যাচ্ছে। সর্বশেষ মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক পদটি হারালো বৈষম্যের শিকার শিক্ষা ক্যাডার। এজন্য এ ক্যাডারের দুর্বল নেতৃত্বকে দায়ী করেছেন কর্মকর্তারা।
এর আগে গত ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দ প্রথমবারের মত জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) প্রশাসন ক্যাডার থেকে সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়। এ পদটি শিক্ষা ক্যাডার থেকে পদায়ন করা হতো। এনসিটিবির চেয়ারম্যান শিক্ষা ক্যাডারের অধ্যাপক এ কে এম রিয়াজুল হাসান। কিন্তু শিক্ষা ক্যাডার চেয়ারম্যানের অধীনে প্রশাসন ক্যাডারের সচিব নিয়োগ দেওয়া শিক্ষা প্রশাসনে নজিরবিহীন ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা। আন্দোলনের ঘোষণাও দেন শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা। পরে সিদ্ধান্ত বদল করে সরকার। ২৯ সেপ্টেম্বর এনসিটিবি সচিবের দায়িত্ব থেকে প্রশাসন ক্যাডার কর্মকর্তাকে সড়িয়ে দিয়ে শিক্ষা ক্যাডারের সহযোগী অধ্যাপক (বাংলা) শাহ মুহাম্মদ ফিরোজ আল ফেরদৌসকে সচিব পদে পদায়ন করে।
উল্লেখ্য, শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন পদ থেকে প্রশাসন ক্যাডারদের সরিয়ে শিক্ষা ক্যাডার থেকে নিয়োগের দাবি দীর্ঘদিনের। ‘বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি’র নির্বাচনেও ইশতেহারটি বেশি প্রাধান্য পায়। যেখানে আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসনের দাবিতে দীর্ঘদিন আন্দোলন চলছে, সেখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ কেড়ে নেওয়া হলো।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/১৮/১২/২০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
