ষান্মাসিক সামষ্টিক মূল্যায়ন নিয়ে জরুরী বার্তা এনসিটিবির

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: নতুন শিক্ষাক্রমে বদলে যাওয়া নিয়মে পরীক্ষার পরিবর্তে নেওয়া হচ্ছে ষাণ্মাসিক সামষ্টিক মূল্যায়ন। প্রথম দিনে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণিতে চারটি বিষয়ের মূল্যায়ন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্কুলে স্কুলে শিক্ষার্থীদের বেশ উৎসবমুখর পরিবেশে এতে অংশ নিতে দেখা যায়। তবে অধিকাংশ শিক্ষার্থীই আগের রাতে এ মূল্যায়নের নির্দেশিকা বা প্রশ্নপত্র হাতে পেয়েছে। প্রশ্নপত্রের আলোকে সমাধানও (কীভাবে কাজ করতে হবে) বাসায় বসেই শিখেছে শিক্ষার্থীরা। স্কুলে গিয়ে শুধু সেগুলো করে দিয়ে এসেছে তারা। পরীক্ষার আগের রাতে ষাণ্মাসিক মূল্যায়নের প্রশ্ন ফেসবুক-ইউটিউবে সয়লাবে সমালোচনার ঝড় বইছে। তবে এসব নিয়ে এবার জরুরী বার্তা দিয়েছে এনসিটিব।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোঃ মশিউজ্জামান (রুটিন দায়িত্ব) স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে গতকাল বুধবার রাতে জরুরী নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়, জাতীয় শিক্ষাক্রম-২০২২ এর আলোকে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ২০২৪ সালের ষান্মাসিক সামষ্টিক মূল্যায়ন ০৩ জুলাই, ২০২৪ হতে সমগ্র দেশব্যাপী একসাথে শুরু হয়েছে । এই ষান্মাসিক সামষ্টিক মূল্যায়নের “মূল্যায়ন নির্দেশনা” প্রতিটি বিষয়ের মূল্যায়নের আগের দিনে নৈপুণ্য অ্যাপের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান প্রধানের নিজস্ব আইডিতে প্রেরণ করা হচ্ছে ।

যদিও এই “মূল্যায়ন নির্দেশনাসমূহ” কোন শিক্ষার্থী আগে থেকে জেনে গেলেও সামগ্রিক মূল্যায়ন কার্যক্রমে কোন ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হবে না, তথাপিও পরীক্ষার হলে প্রবেশের পূর্বেই এই “মূল্যায়ন নির্দেশনাসমূহ” কতিপয় প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক বিভিন্ন মহলের সাথে শেয়ার করায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে । যার ফলে, কতিপয় অসাধু ব্যক্তি এবং সংস্থা কর্তৃক এই “মূল্যায়ন নির্দেশনাসমূহের” বিভিন্ন অসত্য, ভুল, অপ্রাসঙ্গিক এবং বিভ্রান্তিকর সমাধান ইউটিউব এবং অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে । এই বিভ্রান্তিকর সমাধানসমূহ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকগণকে ব্যপকভাবে বিভ্রান্ত করছে এবং মূল্যায়ন কার্যক্রম বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।

প্রতিষ্ঠান প্রধান/প্রধান শিক্ষকের নিজস্ব আইডিতে প্রেরণকৃত এই “মূল্যায়ন নির্দেশনাসমূহ” বাইরের যে কারো সাথে শেয়ার করা শিক্ষকতার নৈতিকতা বিরোধী কার্যক্রম এবং চরম অ-শিক্ষকসুলভ আচরণ । প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, নৈপুণ্য অ্যাপের ইউজার আইডির মাধ্যমে এই “মূল্যায়ন নির্দেশনাসমূহের” ডাউনলোড এবং বিস্তরণ কার্যক্রম ট্র্যাকিং করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আছে। এই ট্র্যাকিং এর আলোকে কোনো প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক মূল্যায়ন নির্দেশিনাসমূহ কোন অপ্রাসঙ্গিক কমিউনিটি কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ারের বিষয় প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ।

এমতাবস্থায় মূল্যায়ন কার্যক্রমের “মূল্যায়ন নির্দেশনাসমূহ” বিস্তরণের মত এরকম স্পর্শকাতর একটি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে আরও দায়িত্বশীল হওয়া এবং সতর্কতা অবলম্বন করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো ।

উপরিউক্ত বার্তাখানা আপনার আওতাধীন প্রযোজ্য প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতিষ্ঠান প্রধান বরাবর প্রেরণের বিনীত অনুরোধ করা হলো ।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/০৪/০৭/২০২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.