নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: বিধি সংশোধন করে স্বাস্থ্য ক্যাডার কর্মকর্তাদের ক্ষতিগ্রস্ত করে এনক্যাডার কর্মকর্তাদের সুবিধা প্রদান সংবিধানবিরোধী বলে অভিযোগ এনে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান কর্মসূচি ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা।
বুধবার (১২ জুন) সকালে রাজধানী ঢাকার মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে টিবি গেইটের সামনে এই কর্মসূচি পালন করেন তারা।
এ সময় আন্দোলনকারীরা বলেন, ‘এ ধরনের অবৈধ পদোন্নতি ও পদায়ন অবিলম্বে বাতিল করতে হবে এবং চলমান প্রমার্জনার সকল প্রক্রিয়া বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান তারা। এ সময় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তারা বলেন, প্রশাসনের এই ধরনের অপতৎপরতায় তারা সংক্ষুব্ধ, বিব্রত এবং বিস্মিত।’
তারা আরও জানান, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নেতৃত্বে যে দেশ স্বাধীন হয়েছে, তাঁর যোগ্যতম কন্যা যে দেশের প্রধানমন্ত্রী সেই দেশে কোনো বৈষম্যমূলক ও অনিয়মতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা পেতে পারে না।’
এর আগে এদিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিএস স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, গত ৯ মে প্রশাসনিক উন্নয়ন সংক্রান্ত সচিব কমিটির সভায় ২৩৪৬ জন এনক্যাডারকৃত নন-ক্যাডারদের (এডহক-১৯৮৯ জন ও প্রজেক্ট-৩৫৭ জন) অনুকূলে বিসিএস রিক্রুটমেন্ট রুলস, ১৯৮১ এর অনেকগুলি ধারা সংশোধনের প্রস্তাব পাস করা হয়।
এই ধরনের অনুমোদন সংবিধান পরিপন্থি এবং আপিল বিভাগের দেওয়া রায়কে অবজ্ঞা করার শামিল আখ্যা দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিসিএস ফেল ও সম্প্রতি এনক্যাডারকৃত একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চারটি বিষয় তুলে ধরে বলা হয়—
১. বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং একটা বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা পাইয়ে দেবার জন্য কোনো বিদ্যমান আইন সংশোধন করা যায় না।
২. আপিল বিভাগের রায়ে আছে, যেই শর্তে কোনো কর্মচারী নিয়োগ পান, সেই শর্তেই তিনি পদোন্নতি পাবেন। সময়ের প্রয়োজনে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ আইন-বিধি পরিবর্তন করতে স্বাধীন, তবে উক্ত আইন-বিধি পরিবর্তন করে পূর্বনিয়োগপ্রাপ্ত তথা বিধিগত অধিকারী কাউকে বঞ্চিত করা যাবে না। বিভিন্ন মারফতে আপিল বিভাগের এই রায় সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও তা আমলে নেয়া হয়নি।
৩. আমাদের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ আছে যাতে স্পষ্টতই বোঝা যায় যে, পূর্ববর্তী প্রায় ৬ শতাধিক অবৈধ পদোন্নতিকে বৈধতা দিতে এই সংশোধন করা হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, এনক্যাডারমেন্টের আগেই চাকরির সকল বিধি-বিধানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে প্রায় ৬ শতাধিক নন- ক্যাডার কর্মকর্তাকে, ক্যাডারদের জন্য সংরক্ষিত পদে (৬ষ্ঠ গ্রেডে) পদোন্নতি দেয়া হয়েছিল।
৪. বিধি সংশোধনের প্রস্তাবসমূহ পাশ করানোর লক্ষ্যে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মিথ্যা/ ভুল তথ্য দিয়ে এবং তথ্য গোপন করে (হাইকোর্টে চলমান রিটের তথ্য গোপন করা হয়েছিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বারবার চিঠি দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে প্রভাবিত করেছিল। একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই ধরনের কার্যক্রম খুবই অগ্রহণযোগ্য এবং দৃষ্টিকটুও বটে।
স্বাস্থ্য ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষে ডা. উম্মে তানিয়া নাসরিন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটিতে আরও বলা হয়, বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারের সম্ভাব্য সংখ্যা ৩৫ হাজার। মুষ্টিমেয় কয়েকজনের স্বার্থে বিদ্যমান আইন সংশোধন করে তা বাস্তবায়ন করা হলে সম্ভাব্য ১৫ হাজার স্বাস্থ্য ক্যাডার কর্মকর্তা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তারা পদায়ন ও পদোন্নতি বঞ্চিত হবেন, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, প্রশাসনিকভাবে এবং সামাজিকভাবে অসম্মানিত হবেন।
শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/১২/০৬/৩০২৪
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
