এইমাত্র পাওয়া

বরিশালে অধ্যক্ষের বাসার অবৈধ কাজে গিয়ে পিয়ন হাসপাতালে

মামুনুর রশীদ নোমানী, বরিশাল :

চাপের মুখে অধ্যক্ষের বাসায় অবৈধ কাজ করতে গিয়ে কলেজ পিয়ন তপন কুমার শিল এখন শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত পাবার পাশাপাশি তার পায়ের রগ কেটেগেছে। ১৩টি সেলাই দিতে হয়েছে। তার অবস্থা আশংকাজনক।

বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ এহতেশামুল হক জোপূর্বক কলেজের পিয়ন তপন কুমার শীলকে দিয়ে বাস ভবনের ছাদে অবৈধভাবে বানানো রান্না ঘরের কাজে লাগায়। ২৮ মে দুপুর একটার দিকে এ কাজ করার সময় দুর্ঘটনার শিকার হন তপন কুমার শীল। বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা মোঃ আমির হোসেন জানান, ঘুর্নিঝড় রিমলের কারনে অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ এহতেশামুল হকের বাসার ছাদে বানানো অবৈধ রান্না ঘরের টিন এলোমেলো হলে সেই কাজ করতে গিয়ে টিনে কলেজের পিয়ন তপন কুমার শীলের বাম পায়ের রগ কেটে যায়। তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তার বাম পায়ে তেরটি সেলাই দেয়া হয়। তপন কুমার শীল বর্তমানে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজের তৃতীয় তলায় অর্থোপেডিক্স পুরুষ ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ।

হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, তপন নামে বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের একজন অফিস সহায়ক অর্থপেডিক্স (পুরুষ) ওয়ার্ডের ৬ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাকে ২৮ মে দুপুর একটা চল্লিশ মিনিটে ভর্তি করা হয়েছে। নার্স নিপু তপনকে রিসিভ করেছেন। কর্মরত নার্সরা জানিয়েছেন, তপন সরকারি কর্মচারী তাই ফ্রিতে ভর্তি করা হয়েছে । তার ভর্তি রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ১৮৭৩১২/১৫৪ । এ ব্যাপারে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তপন কুমার শীল কোন কথা বলতে চাননি। তিনি চাকুরী হাবার আশংকায় আছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে কলেজের একটি সুত্র জানায়, বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজে অধ্যক্ষ পদে প্রফেসর মোহাম্মদ এহতেশামুল হক যোগদানের পরেই বাস ভবনের ছাদে অবৈধ ভাবে রান্নাঘর বানিয়ে কলেজের গাছ কেটে লাকড়ি বানিয়ে রান্না করেন। উজাড় করে দিচ্ছেন কলেজের অভ্যান্তরে থাকা গাছগুলো।

কলেজের টাকায় বেতন দিয়ে কুলসুমসহ একাধিক কর্মচারীকে দিয়ে রান্নাসহ বাসার কাজ করান অধ্যক্ষ । এহতেশামুল হক কলেজের স্থায়ী ও খন্ডকালীন পিয়নদেরকে চাকুরী থেকে বহিস্কার, এসিআর খারাপ দেয়া, বেতন বন্ধ করার হুমকি দিয়ে রান্নার কাজ,রান্নাঘরের মেরামত, বাসা পরিস্কারসহ ব্যক্তিগত কাজ করানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

এছাড়া ঘুর্নিঝড় রিমেলের কারনে কলেজের গাছ পড়েগেলে তা গত সোমবার কলেজের পিয়নদের দিয়ে কাটিয়ে সংগ্রহ করা হয়। কলেজটির চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীদের দিয়ে অধ্যক্ষের বাসা ও ব্যক্তিগত কাজ করানোর ফলে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটলেও চাকুরী যাওয়ার ভয়ে কেউ কথা বলেন না ।

উল্লেখ্য, অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ এহতেশামুল হকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ লোপাট, দুর্ব্যবহারসহ নানা অভিযোগ। কলেজটিতে যোগদানের পর থেকেই কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী,শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা অতিষ্ঠ। অধ্যক্ষ এহতেসামকে অপসারণ ও দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সকলেই। মাউশি, বরিশাল শিক্ষা বোর্ড, প্রশাসনসহ কলেজের সকলেই তার আচরনে বিরক্ত।

এ ব্যাপারে বরিশাল সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ এহতেশামুল হকের মোবাইলে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি। ফলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.