রাবি: পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না পাওয়ায় বিভাগের গেইটে তালা

রাবি: পরীক্ষায় অংশগ্রহণের দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) দর্শন বিভাগের গেইটে তালা ঝুলিয়ে আন্দোলন করেছেন স্নাতকোত্তরের ৩৩ জন ডিসকলিজিয়েট শিক্ষার্থী। এসময় কয়েকজন কলেজিয়েট শিক্ষার্থীদেরও আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করেন।

বুধবার (২৯ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিভাগের গেইটে আন্দোলন শুরু করেন তারা। পরে বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিলে দুপুর ২টার পরে অবস্থান ত্যাগ করেন আন্দোলনকারীরা।

এসময় ‘আমরণ অনশন চলবেই’, ‘যেকোনো উপায়ে পরীক্ষা দিতে চাই’, ‘মরব না হয়ত পরীক্ষা দিব’, ‘তিন বছরের ক্ষতির দায় কে নিবে?’, ‘পরীক্ষার সুযোগ চাই’ ইত্যাদিসহ বিভিন্ন প্লাকার্ড হাতে অবস্থান নেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ- বিগত সময়ে ডিসকলেজিয়েট হয়েও বিশেষ বিবেচনায় অনেকে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। বিভিন্ন কারণে তারা ক্লাসে ৬০ শতাংশ উপস্থিত থাকতে পারেনি। নিজেদের ভুল স্বীকার করলেও পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না তাদের।

শিক্ষার্থীদের দাবি- তাদের ক্ষেত্রেও বিশেষ বিবেচনা করা হোক অথবা, পরীক্ষার সময় পিছিয়ে অতিরিক্ত ক্লাস নিয়ে কলেজিয়েট হওয়ার সুযোগ দেয়া হোক।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এক সপ্তাহ আগে দর্শন বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্সের ক্লাস শেষ হয়েছে। এ শিক্ষাবর্ষের ১০১ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে কলেজিয়েট হয়েছেন ১০ জন, নন-কলেজিয়েট ৬৮ জন এবং ডিস-কলেজিয়েট ৩৩ জন। গত ২৬ মে থেকে ৬ জুন পর্যন্ত ফরম পূরণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে একই বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপকরা বলছেন, অনেকের উপস্থিতি ৪০ শতাংশেরও কম। একজন শিক্ষার্থী ক্লাস কিংবা পড়াশোনা ছাড়াই স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করলে, সেই শিক্ষার মান নিয়ে যথেষ্ট প্রশ্ন থেকে যায়। তাছাড়া অর্ডিন্যান্সের নিয়মভঙ্গও নৈতিকভাবে শিক্ষকদের প্রশ্নবিদ্ধ করে। শিক্ষকদের কেউ কেউ আবার সার্বিক দিক বিবেচনা করে কিছু ক্ষেত্রে বিবেচনার কথাও বলছেন।

স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার রবিন বলেন, বিগত বছরগুলোতে দেখা যায় পার্সেন্টিসের অভাব থাকা সত্ত্বেও অনেক সিনিয়র পরীক্ষা দিতে পেরেছে কিন্তু আমাদের প্রায় ৬০ শতাংশ উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও পরীক্ষা দিতে পারছি না। আমাদের সঙ্গে এটা অন্যায় করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুককলিজিয়েট (পরীক্ষা দিতে পারবে) এক শিক্ষার্থী আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করে বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের সব বন্ধু-বান্ধবী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করুক। কারো মা মারা গেছে, কারো বাবা মারা গেছে, কেউ পারিবারিক সমস্যায় থাকার কারণেই তারা ক্লাসে অংশগ্রহণ করতে পারেনি।’

মুঠোফোনে জানতে চাইলে দর্শন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. নিলুফার আহমেদ বলেন, ‘আমরা এ বিষয়টা পরে বসে সিদ্ধান্ত নিব। এখন আমরা এ বিষয়ে কিছু বলতে চাচ্ছি না।’

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ অনুসারে ক্লাসে কোনো শিক্ষার্থীর উপস্থিতি ৭৫ শতাংশ হলে কলেজিয়েট, ৬০ শতাংশের উপরে নন-কলেজিয়েট এবং ৬০ শতাংশের নিচে ডিস-কলেজিয়েট হিসেবে গণ্য হয়। এক্ষেত্রে নন-কলেজিয়েটরা জরিমানা দিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেও ডিস-কলেজিয়েট শিক্ষার্থীদের এই সুযোগ নেই। ফলে পরের বছর তাদের এই শর্ত পূরণ করেই পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।

শিক্ষাবার্তা ডটকম/এএইচএম/২৯/০৫/২২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.