এইমাত্র পাওয়া

চাকরির বয়স বিতর্কের সুরাহা চাই

ফয়েজ-উজ-জামান।।

সরকারি চাকরির বয়স ৩০ বছর বেঁধে দেওয়ার সমস্যা অনেক। যদি বয়সের কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকে; তখন শিক্ষার্থীরা একমুখী বিসিএস বা সরকারি চাকরির চিন্তা নিয়ে পড়ে থাকবে না। ভাবতে বাধ্য হবে না– এটা তার প্রথম পছন্দ হওয়া প্রয়োজন। অন্তত এটা ভাববে– সময় তো আছে, আগে দেখি উদ্যোক্তা হতে পারি কিনা। এতে দেশটা উদ্যোক্তা ও উৎপাদনমুখী তরুণ পাবে, যা দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে কাজে লাগবে।

কিন্তু ৩০ বছরের সীমা তরুণদের জন্য এখন হাঁসফাঁস। তারা সরকারি চাকরিতে প্রথম চেষ্টা হিসেবে মেধা খাটাতে বাধ্য হচ্ছে। বাধ্য হচ্ছে এটা ভাবতে যে, যেহেতু সরকারি চাকরিতে সময় সীমিত ও নির্দিষ্ট, তাহলে এটাকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে কাজে লাগাতে হবে।

এই ভাবনা তাদের আটকে রাখে, বেঁধে রাখে অনিশ্চয়তায়, অনুৎপাদনশীলতায়। ফলে বারংবার সফল হতে না পারলেও অন্তত ৩০ বছর যা নিয়োগ জটিলতা ও শেষ ফল ঘোষণার আগ পর্যন্ত ৩৩-৩৪ বছরে গড়ায়। অথচ অনেককেই ফিরে আসতে হয় খালি হাতে। কারণ, এটাই নির্মম সত্য– সবাই চাকরি পাবে না। ব্যর্থ হওয়ায় ধ্বংস করে দেয় তার প্রেরণা, প্রত্যয়, আত্মবিশ্বাস। এতে সে ঝুঁকি নেওয়ার প্রেরণা হারায়। উদ্যোক্তা হওয়ার প্রেরণা আর তার থাকে না।

চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩০ বছর বেঁধে দেওয়ায় তরুণ সমাজের উল্লেখযোগ্য সময় নষ্ট হয়। তাদের আরও সৃজনশীল করে গড়ে তুলতে হলে অবারিত সুযোগ দিতে হবে।

উদ্যোক্তা হতে হবে– এটা বারবার বললে তো উদ্যোক্তা তৈরি হয় না। পারিপার্শ্বিক বিষয়, সঙ্গে কিছু বিষয় ঠিক করতে হবে, যা তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার জায়গা ও আগ্রহ দুটোই তৈরি করে। সরকারি বয়সের বাধা থাকা উচিত নয়। ছেলেমেয়েরা নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে, বয়সের কোন ভাগটা উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য ব্যয় করবে, কোন অংশটা চাকরির প্রস্তুতির পেছনে।

বয়স সীমাবদ্ধ করার মাধ্যমে এর অবমূল্যায়ন করা হয়। ভাবিয়ে তোলা হয়– বয়স যত বাড়ে, কর্মক্ষমতা ততই কমে। এমন ধারণা জাতিকে পিছিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।

কেউ বলতেই পারেন– সরকারি চাকরিই কেন অপশনে রাখতে হবে? এ ব্যাপারে একটাই উত্তর– এটা শিক্ষার্থীর একান্তই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার, যা সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ দ্বারা সিদ্ধ।

আমি মনে করি, চাকরিতে প্রবেশের বয়স উন্মুক্ত থাকা উচিত। চাকরিপ্রত্যাশীরা এখন ৩৫ বছর করার আন্দোলন করছে। তাদের আন্দোলন মেনে নিলে তরুণদের আরও ভালোভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হতে পারে। অন্তত এতে উদ্যোক্তা হওয়ার পথ কিছুটা মসৃণ হবে।

লেখা-সহকারী শিক্ষক, সরকারি
প্রাথমিক বিদ্যালয়

শিবা/জামান/১৮/০৫/২৪


Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম

Subscribe to get the latest posts sent to your email.