রাত পোহালেই শুরু হবে দেশের সবচেয়ে পুরোনো উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ৫২তম সমাবর্তন। ইতোমধ্যে এ সমাবর্তনকে ঘিরে ক্যাম্পাসটিতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। উচ্চ শিক্ষার স্বীকৃত পেতে যাওয়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক আর স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা মুখরিত করে রেখেছেন ক্যাম্পাসটিকে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০ হাজার ৭৯৬ জন স্নাতকের অংশগ্রহণে সোমবার (৯ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ৫২তম সমাবর্তন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ঢাবির চ্যান্সেলর ও রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ।
সমাবর্তন বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাপানের টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর কসমিক রে রিসার্চের পরিচালক নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. তাকাকি কাজিতা। অনুষ্ঠানে ৯৮ জন কৃতী শিক্ষার্থী রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ করবেন। সেই সাথে ৫৭ জনকে পিএইচডি এবং ১৪ জনকে এমফিল ডিগ্রি দেয়া হবে। ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজের নিবন্ধিত স্নাতকরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা কলেজ ও ইডেন মহিলা কলেজ থেকে সরাসরি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সমাবর্তনের কস্টিউম (গাউন-টুপি) বিতরণ করেন। এরপরই মূলত শুরু হয় সমাবর্তনের আমেজ। গাউন ও টুপি নিয়ে সমাবর্তনে অংশগ্রহণকারীরা ক্যাম্পাসে মহড়া দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। গাউন আর টুপি পড়ে তারা দল বেধে ছবি তুলছেন, কেউবা হৈ চৈ করছেন, কেউবা নিত্য নতুন স্টাইলে ছবি তোলে ভাইরাল হওয়ার চেষ্টা করছেন। অনেকে আবার নিজের মা-বাবাকে সমাবর্তন উপলক্ষে ক্যাম্পাসে নিয়ে এসেছেন। তারা মা-বাবার গায়ে নিজেদের গাউন ও টুপি পড়িয়ে ছবি তুলছেন, এ যেন ঢাবির অন্যরকম সৌন্দর্য। ছবি মহড়ায় প্রেমিক-যুগলও পিছিয়ে নেই। তারাও যেনো নিজেদের সেরা সময় কাটাচ্ছেন। অনেক শিক্ষার্থীকে আবার ক্যাম্পাস জীবন শেষ হয়ে যাওয়ায় আবেগী হতেও দেখা গেছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমেও পিছিয়ে নেই সমাবর্তন পাওয়া শিক্ষার্থীরা। গাউন আর টুপি পড়ে নতুন স্টাইলে ছবি তোলে নান্দনিক ক্যাপশনও লিখছেন তারা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রানিং শিক্ষার্থীরাও সিনিয়রদের এ আমেজে মেতেছেন। তারা সিনিয়রদের মোটর সাইকেলে গাউন ও টুপি পড়ে তোলা ছবিকে বলছেন, মোটর বাইক গ্রাজুয়েট, খাওয়ার ছবি যাদের কাছে তাদের খাদক গ্রাজুয়েট বলছেন, রিকশায় যাদের ছবি আছে, তাদের রিকশা গ্রাজুয়েট বলছেন , প্রেমিক-যুগলের ছবি পেলে তারা বলছেন ,কাপল গ্রাজুয়েট। অনেকের আবার উড়ন্ত ছবি দেখে তারা তাদেরকে উড়ন্ত গ্রাজুয়েটের নাম দিয়েছেন।
কথা হয় সমাবর্তনে অংশ নেয়া কয়েকজন ঢাবি শিক্ষার্থীর সঙ্গে। বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী সুমন মিয়া বলেন, ‘প্রথমবারের মতো কনভোকেশনে অংশ নিচ্ছি। অনেক ভালো লাগছে, ছবি তুলছি। বিশ্ববিদ্যালয় ঘুরে ঘুরে বন্ধুদের নিয়ে ছবি তুলছি; যাতে এসময়টা স্মৃতিময় হয়ে থাকে’।
আরবী বিভাগের শিক্ষার্থী আল আমিন হোসেন বলেন, সমাবর্তন সব শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অসাধারণ মুহূর্ত। সবারই এটি নিয়ে প্রত্যাশা থাকে। আমিও আমার স্বপ্নের দিনটি উদযাপন করতে মা-বাবাকে নিয়ে এসেছি। মা-বাবাও আমার গ্রাজুয়েট হওয়ার আনন্দ উপভোগ করছেন।
সমাবর্তনের প্রস্তুতি সম্পর্কে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান শনিবার (৭ ডিসেম্বর) ক্যাম্পাসে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, উৎসবমুখর পরিবেশে সমাবর্তন আয়োজনের জন্য সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
Discover more from শিক্ষাবার্তা ডট কম
Subscribe to get the latest posts sent to your email.
শিক্ষাবার্তা ডট কম অনলাইন নিউজ পোর্টাল
